দুর্নীতিবাজ, চোর, দুষ্কৃতী সব বিজেপিতে যাচ্ছে আর সাফ হয়ে চলে আসছে, মমতা - The News Lion

দুর্নীতিবাজ, চোর, দুষ্কৃতী সব বিজেপিতে যাচ্ছে আর সাফ হয়ে চলে আসছে, মমতা

 


 দি নিউজ লায়নঃ   আলিপুরদুয়ার প্যারেড গ্রাউন্ডের জনসভা থেকে বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মমতা। বুধবার আলিপুরদুয়ারে দলত্যাগীদের নিশানা করে মমতা বলেন, “যত চোর-গুণ্ডাদের নিচ্ছে বিজেপি। ওটা যেন ওয়াশিং মেশিন। দুর্নীতিবাজদের নিচ্ছে আর ওয়াশিং মেশিনে ঢুকিয়ে কালোকে সাদা করে দিচ্ছে। দুর্নীতিবাজ, চোর, দুষ্কৃতী সব বিজেপিতে যাচ্ছে আর সাফ হয়ে চলে আসছে। আর বলছে বিজেপি জিতবে। বিজেপি কোনো দিন জিতবে না। সিঙ্গুর থেকে নন্দীগ্রাম, দার্জিলিং থেকে পাহাড়, সব জায়গাতেই তৃণমূল জিতবে। সারা বাংলায় তৃণমূলই জিতবে”। তৃণমূল সুপ্রিমোর অভিযোগ, টাকা দিয়ে ভোট কিনছে বিজেপি। টিপ্পনির সুরেই তিনি বললেন, বিজেপি টাকা দিলে নিয়ে নিন। কিন্তু ভোট দেবেন না।


এদিন কর্মীসভার  প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে সকলকে একসাথে চলার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, " তৃণমূল কংগ্রেসে নেতারা নেতা নন। নেতা হচ্ছে বুথের সাধারন কর্মীরা। তৃণমূল কংগ্রেসে টাকা দিয়ে টিকিট পাওয়া যায় না। টিকিটের জন্য কোন গ্রুপ করতে হয় না। অমুক দাদা তমুক দাদাকে ধরেও টিকিট হবে না। সার্ভে করে যারা যোগ্য তাদের রাজ্য থেকে টিকিট দেওয়া হয়।" এদিন তৃণমূল কংগ্রেসের বিভিন্ন উন্নয়ন মুলক কর্মসূচী তুলে ধরেন দল নেত্রী।বন সহায়ক পদে নিয়োগ নিয়ে প্রকাশ্য মঞ্চ থেকেই নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র আক্রমণ করলেন প্রাক্তন বন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সদ্য তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেছেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার প্যারেড গ্রাউন্ডে কর্মীসভার প্রকাশ্য মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী এই নিয়োগ নিয়ে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় কে আক্রমণ করেন। 


এদিন ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "একজন মন্ত্রী ছিল। বন সহায়ক পদে নিয়োগে দুর্নীতি করে চলে গেছে। আমরা এই ঘটনার তদন্ত করছি। আগামি ৭/১০ দিনে  নির্বাচন ঘোষণা হবে। নির্বাচনের আগে হয়তো আর কিছু করা যাবে না। কিন্তু নির্বাচনের পরে যারা যোগ্য প্রার্থী তাদের দেখব আমরা।" এদিন প্রকাশ্য মঞ্চ থেকেই বন সহায়ক পদে নিয়োগে দুর্নীতির দায়ে ঝেড়ে ফেলে তা কার্যত প্রাক্তন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাধে চাপিয়েছেন  তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই নিয়োগে দূর্নীতির অভিযোগে জলদাপাড়ার চিলাপাতা, মাদারিহাট সর্বত্র অফিসে তালা ঝুলিয়েছে বন বস্তির মানুষেরা। তাঁদের অভিযোগ, বন বস্তির   মানুষেরাই বনদফতরের নিয়োগে অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।


 কিন্তু বন সহায়ক পদে বিভিন্ন শহর এলাকার ছেলেমেয়েদের নিয়োগ করা হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা মন্ত্রীরা দুর্নীতি করে এই নিয়োগে বস্তিবাসীদের অগ্রাধিকার না দিয়ে শহরের ছেলেমেয়েদের এই পদে নিয়োগ করেছেন। এই অভিযোগে বিভিন্ন অফিসে তালা মেরে দেওয়ার ঘটনায় বেশ কিছু দিন ডুয়ার্সের পর্যটন ব্যবসা মুখ থুবরে পড়েছিল।  জলদাপাড়ার চিলাপাতা এলাকায় পর্যটন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হয়েছিল প্রায় সাত দিন। বুধবার আলিপুরদুয়ারের প্যারেড গ্রাউন্ডের কর্মীসভার প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে বন সহায়ক পদে নিয়োগে দুর্নীতির দায় সম্পূর্ণ রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় এর কাধে  দিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিষয়টি নিয়ে এদিন সভার পরে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, "আমরা বলেছিলাম বস্তির মানুষদের এই বন সহায়ক পদে নিয়োগের জন্য। কিন্তু মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় স্বজনপোষণ করে বিভিন্ন শহর এলাকার মানুষদের এই পদে নিয়োগ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলে দিয়েছেন এই নিয়োগের তদন্ত হবে। যারা যোগ্য প্রার্থী তাদের ভোটের পরে আমরা দেখব।" 


তবে এদিন প্রকাশ্য মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে খুশি বস্তির মানুষেরা। উত্তরবঙ্গ বনজন শ্রমজীবী মঞ্চের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সুমন গোস্বামী বলেন "মুখ্যমন্ত্রী এদিন স্বীকার করে নিয়েছেন যে বন সহায়ক পদে নিয়োগে দুর্নীতি হয়েছে। তবে আমরা খুশি যে এই নিয়োগ নিয়ে তদন্ত হচ্ছে। আমরা আশা করবো যে বন বস্তির মানুষদের এই নিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।" এদিন আবেগ ঘন মুহূর্তে শহীদ বিপুল রায়ের পূর্নাবয়ব মূর্তির উন্মোচন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার আলিপুরদুয়ার প্যারেড গ্রাউন্ডে তিন জেলার কর্মীসভার মঞ্চে ওঠার আগেই মুখ্যমন্ত্রী শহীদ বিপুল রায়ের মূর্তি উন্মোচন করেন।  এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন শহীদ বিপুল রায়ের স্ত্রী রূম্পা ও 5 বছরের ছোট্ট কন্যা। কংক্রিটের তৈরি করা শহীদ বিপুল রায়ের পূর্নাঙ্গ মূর্তি উন্মোচন করার পরেই মুখ্যমন্ত্রী কর্মীসভার মঞ্চে চলে যান। মুখ্যমন্ত্রীর হাতে শহীদ বিপুল রায়ের মূর্তি উন্মোচন হওয়ায় খুশী বিপুল রায়ের পরিবারের লোকজন। এদিন বিপুল রায়ের স্ত্রী রূম্পা রায় বলেন "এর আগে রাজ্য সরকার আমাকে চাকরি দিয়েছে। 


এছাড়া ৫ লক্ষ টাকা দিয়েও আমাদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে রাজ্য সরকার। তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতারা সব সময় আমাদের খোঁজখবর নেন এবং পরিবারের পাশে রয়েছেন। এভাবে আমার স্বামীর মূর্তী উন্মোচন  করে আমার শহীদ স্বামীর  প্রতি যে শ্রদ্ধা করলেন মুখ্যমন্ত্রী তাতে আমি অভিভূত। আর বিশেষ কিছু বলার নেই।" উল্লেখ্য ১৫ জুন রাতে লাদাকের গালওয়ান ভ্যালিতে চিনা সৈনিকদের সংগে সংঘর্ষে শহীদ হন আলিপুরদুয়ার জেলার শামুকতলা থানার বিন্দিপাড়া গ্রামের বিপুল রায়। এর পরই রাজ্য সরকার ঘোষনা করেন বাংলায় শহীদ পরিবারপিছু ৫ লক্ষ টাকা ও একটি সরকারি চাকুরি দেওয়া হবে। শহীদের দেহ সতকারের পরের দিনই বিন্দিপাড়ার শহীদ পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকার চেক ও চাকুরির অফার লেটার দেয় জেলা প্রশাসন।


 পরে রাজ্য সরকার শহীদের স্ত্রী রূম্পা রায়কে চাকুরি দেয় প্রশাসন। এরই মধ্যে  আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসনিক ভবন ডুয়ার্স কন্যা সামনে প্যারেড গ্রাউন্ড এর একপাশে পূর্ণাবয়ব শহীদ বিপুল রায়ের মূর্তি স্থাপনের কাজ শুরু হয়। প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই মূর্তি তৈরি করেছেন আলিপুরদুয়ারের স্থানীয় ভাস্কর্যশিল্পী হিমাংশু। উন্মোচনের আগে সেনাবাহিনীর জওয়ানরা বারবার এসে এই শহীদ বিপুল রায়ের পূর্ণাঙ্গ মূর্তি দেখে যান। তারাও এই মুর্তীর প্রশংসা করেছেন। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী এই মূর্তি উন্মোচন করলেন।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.