সোনার গয়নার লোভে প্রৌঢ়াকে খুনের দায়ে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল বর্ধমান আদালত
দি নিউজ লায়নঃ সোনার গয়নার লোভে প্রৌঢ়াকে খুনের দায়ে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল বর্ধমান আদালত। এছাড়াও সাজাপ্রাপ্তকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা না দিলে আরও একবছর সশ্রম কারাবাস করতে হবে সাজাপ্রাপ্তকে। মঙ্গলবার বর্ধমানের দ্বিতীয় ফাস্ট ট্র্যাক কোটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক অর্জুন মুখোপাধ্যায় এই সাজা শুনিয়েছেন। মামলায় ২০ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাজাপ্রাপ্তের নাম বাসুদেব রাজবংশী ওরফে বাসু। পূর্বস্থলী থানার কাষ্টশালি গ্রামের জেলেপাড়ায় তার বাড়ি। কেসের সরকারি আইনজীবী শিবরাম ঘোষাল বলেন, ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ ঘটনাটি ঘটে। শক্তিগড় থানার বড়শুলের উন্নয়নী আবাসনে বাসবী বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর ছেলে চন্দন থাকতেন।
চন্দন কলকাতায় একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মী। ঘটনার দিন রাত ৮টা নাগাদ বাড়ি ফিরে ঘরের দরজা অের্ধক খোলা অবস্থায় দেখতে পান চন্দন। ঘরে ঢুকে রান্নাঘরে মাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান তিনি। মৃতার গলায় কালশিটে দাগ ছিল। কানের লতি দিয়ে রক্ত বেরিয়েছিল। কানের দুল জোড়া অবশ্য পাওয়া যায়নি। সেদিনই তিনি মায়ের মৃত্যুর বিষয়ে শক্তিগড় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তে নেমে পুলিস জানতে পারে, বাসবী দেবীর গাছের শখ ছিল। স্বামীর পরিচিত বলে প্রশান্ত নামে এক ব্যক্তি তাঁকে নানারকম গাছের চারা এনে দিত। গাছ লাগানোর বিষয়েও নানা পরামর্শ দিত। খুনি মৃতার পরিচিত বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ হয় পুলিসের। কারণ, রান্না ঘরের বেসিন থেকে দু’টি কাপ উদ্ধার হয়। তাতে চায়ের দাগ ছিল। তা থেকে পুলিসের মনে হয়। মারা যাওয়ার আগে পরিচিত কেউ ঘরে এসেছিল। তাকে তিনি চা করে খাইয়েছিলেন।
গয়না চুরি হওয়ায় তার লোভেই প্রৌঢ়াকে খুন করা হয়েছে বলে পুলিস নিশ্চিত হয়। মৃতার হাতের মুঠো থেকে কয়েকটি চুল পাওয়া যায়। মারা যাওয়ার আগে প্রৌঢ়া খুনিকে প্রাণপণ বাধা দেন। গাছ বিক্রেতার পরিচয় জানতে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর নেয় পুলিস। এরপর খুনে বাসুর জড়িত থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হয় পুলিস। তাকে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। হেফাজতে নিয়ে প্রৌঢ়ার সোনার গয়না তার বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়। ফরেন্সিক পরীক্ষায় প্রৌঢ়ার মুঠো থেকে পাওয়া চুলের সঙ্গে বাসুর চুলের মিল পাওয়া যায় ফরেন্সিক পরীক্ষায়। তদন্ত সম্পূর্ণ করে ৯০ দিনের মধ্যে চার্জশিট পেশ করেন তদন্তকারী অফিসার শ্রীধর সেন। সোনার গয়নার লোভেই প্রৌঢ়াকে সে খুন করে বলে চার্জশিটে জানায় পুলিস। চা তৈরির সময় প্রৌঢ়াকে বাসু গলা টিপে ধরে। কিছুক্ষণের মধ্যে বৃদ্ধা মারা যান। তারপর তাঁর গয়না শরীর থেকে খুলে নিয়ে চম্পট দেয় বাসু। প্রৌঢ়া মারা যাওয়ায় সে ভয়ে ভীত হয়ে পড়ে। তাই, বাড়ি থেকে অন্য কোনও জিনিসপত্র চুরি না করেই পালায় সে বলে চার্জশিটে জানান তদন্তকারী অফিসার। রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছে সাজাপ্রাপ্ত।

Post a Comment