শিলিগুড়ি স্থলবন্দরে ভাঙচুরের ঘটনায় পদ থেকে সরিয়ে, দল থেকে বহিস্কৃত করা হলো অভিযুক্ত শ্রমিকনেতা প্রসেনজিৎ রায়কে
দি নিউজ লায়নঃ অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ নয় নিজেদের অবস্থানে অনড় তৃনমূল। শিলিগুড়ি স্থলবন্দরে ভাঙচুরের ঘটনায় পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে দল থেকে বহিস্কৃত করা হলো অভিযুক্ত শ্রমিক নেতা প্রসেনজিৎ রায়কে। গত বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রীর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্তরবঙ্গ সফরকালের শেষে শিলিগুড়ি স্থলবন্দরে আইসিডি শিল্পতালুকে হামলা চালায় প্রসেনজিৎয়ের নেতৃত্বে তার দলবল। ঘটনার পর তৎক্ষণাৎ মুখ্যমন্ত্রী অভিযুক্তদের সত্ত্বর গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন প্রশাসনিক উচ্চ পদস্থ আধিকারিকদের। ঘটনায় জড়িত ১৩জনকে গ্রেপ্তারও করে পুলিশ।শুক্রবার দুপুর থেকেই পুলিশের হাত থেকে বাঁচাতে শহরে মূল অভিযুক্ত প্রসেনজিৎ একাধিক ডেরা থেকে ভিন জেলায় ছুট লাগায়।
এমনকি শহর ভিন জেলা থেকে পালিয়ে গা ঢাকা দিতে ভিন রাজ্যে মরিয়া ছুট লাগিয়েছে বহিষ্কৃত প্রসেনজিৎ রায় বলেও পুলিশ সূত্রের খবর। সেমতই ফারার প্রসেনজিতের খোঁজে মালবাজার হয়ে ভিন রাজ্য আসামের সূত্র ধরে এগোচ্ছে পুলিশ। নজরে রাখা হচ্ছে বিহার ও ভুটান সীমান্তের ওপর। এরমাঝে রবিবার দার্জিলিং জেলা তৃনমূল কার্য্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে মন্ত্রী তথা ডাবগ্রাম ফুলবাড়ির বিধায়ক গৌতম দেবের উপস্থিতিতে দার্জিলিঙ জেলা তৃনমূল সভাপতি রঞ্জন সরকার বলেন- আইসিডি হামলায় ফারার অভিযুক্ত ডাবগ্রাম ফুলবাড়ি আইএনটিটিইউসি সভাপতি প্রসেনজিৎ রায়কে পদ থেকে সরানো হলো। তাকে তৃনমূল থেকে বহিষ্কার করা হচ্ছে। আমাদের দলের সঙ্গে প্রসেনজিৎ রায়ের কোনো সম্পর্ক থাকছে না।
পূর্বেই, ঘটনার পর দলের তরফে অবস্থান স্পষ্ট করে দেওয়া হয় যে অভিযুক্ত দলীয় নেতা হোক কিংবা কর্মী সেক্ষেত্রে অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ করবে না তৃনমূল। মন্ত্রী গৌতম দেব এদিন বলেন নির্বাচনের মুখে দাঁড়িয়েও এই ধরনের কঠিন সিদ্ধান্ত একমাত্র তৃনমূল নিতে পারে। শিলিগুড়ির আইসিডি রাজ্য সরকারের স্বপ্নের প্রকল্প। এখানে শিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী চান তা এগিয়ে নিয়ে যেতে। শিলিগুড়িতে আরও চারটি শিল্পতালুকের শুভ সূচনা বর্ধামন থেকে করবেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে এই ধরনের ঘটনা একেবারেই বাঞ্চনীয় নয়।শিল্পে শান্তি বজায় রাখতে দলীয় স্বার্থও আমরা দেখিনা। মুখ্যমন্ত্রী বাংলায় শিল্পের ক্ষেত্রে কোনোরকম অশান্তি বরদাস্ত করেন না।
তাঁর কঠোর নির্দেশ রয়েছে রাজ্যে শিল্পদ্যোগীদের জন্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। শিলিগুড়ির হামলার ঘটনাটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা তবে প্রয়োজনে বণিক সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করবেন মন্ত্রী বলেও জানান মন্ত্রী গৌতম দেব।অন্যদিকে দলের ভাবমূর্তি প্রসঙ্গে মন্ত্রী তথা জেলা শীর্ষ নেতৃত্ব গৌতম দেবের স্পষ্ট বক্তব্য- তৃনমূল দল এতটা ঠুনকো নয় যে ভাবমূর্তি নষ্ট হবে। এনজেপি থেকে কোনো আর্থিক সহায়তায় দল চলেনি। আমারা দল চালাতে কোনো ইউনিট থেকে পয়সা নেইনা। এদিন দার্জিলিং জেলা আইএনটিটিইউসি সভাপতি অরূপ রতন ঘোষ জানান পুরোনো কমিটি ভেঙে দিয়ে এনজেপি ইউনিটে ওই জায়গায় ৮জনের নতুন মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।এদিকে প্রসেনজিৎতের বাড়াবাড়ি দমনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে তৃণমূলের ওপর কয়েকগুণ আস্থা বাড়ছে এনজেপি এলাকায়। দলীয় নেতা কর্মীদের মন্তব্য তাকে বহিষ্কার করা ছিল শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা।

Post a Comment