শিলিগুড়িতে ১৯টি ভাষাভাষীকে নিয়ে আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস উদযাপন
দি নিউজ লায়নঃ নতুন আঙ্গিকে পর্যটন দপ্তরের সহায়তায় শিলিগুড়িতে ১৯টি ভাষাভাষীকে নিয়ে আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস উদযাপন।রবিবার সকালে শিলিগুড়ি বাঘাযতীন পার্কের ভাষা শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন মন্ত্রী গৌতম দেব, তৃনমূল জেলা সভাপতি রঞ্জন সরকার ও শহরের সাংস্কৃতিক মহলের মানুষেরা।বাংলা ভাষাকে সম্মান জানিয়ে এদিন বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা রাজপথে নামে। মুখ্যমন্ত্রীর স্বীকৃতপ্রাপ্ত পাহাড়ের ১৯টি জনজাতির বোর্ডগুলি ভাষার বিকাশের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর প্রচেষ্টা ও তহবিলে তৈরি পাঠ্যপুস্তক ও সাহিত্য পুস্তিকা, ভাষার ব্যাকরণ ও শব্দভান্ডার দীনবন্ধু মঞ্চে তুলে ধরে।
পর্যটন দপ্তরের সহায়তায় মন্ত্রী গৌতম দেবে একান্ত চেষ্টা ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন কমিটির উদ্যোগে সারাদিন ব্যাপী বাংলা ভাষার পাশাপাশি পাহাড়ি জনজাতির ভাষা সংস্কৃতিকে নিয়ে বিশাল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এদিন পাহাড়ের থামি,লেপচা,ভুজেল,শেরপা, তামাং সমস্ত ভাষাভাষীর জনজাতিদের ভাষা একাডেমি ও উন্নয়ন বোর্ড গুলি এতে অংশ নেয়। প্রতি জনজাতি উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানেরা এদিন উপস্থিত ছিলেন।লেপচা উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান জানান মায়ের ভূমিকা নিয়েই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাতৃভাষার স্বীকৃতি দিয়েছেন।
রাজ্য সরকার উন্নয়ন বোর্ড গড়ে ভাষা বিকাশের ক্ষেত্রে অনুদান দিয়েছেন।যা দিয়ে পাঠ্যক্রম তৈরির পাশাপাশি লেপচা সাহিত্য ভাণ্ডারের সমৃদ্ধি ঘটেছে। বর্তমানে ইংরেজি ও লেপচা শব্দভান্ডার তথা ডিকশনারি তৈরি হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খুদে কিশোরদের জন্য লেখা ছড়া গুলিকে অনুবাদ করে লেপচা ভাষায় পুস্তক আকারে তৈরী করা হয়। যা প্রাথমিক স্তরে পাঠ্যক্রমে আওতাভুক্ত করা হয়েছে। তামাং বোর্ডের চেয়ারম্যান সঞ্জয় মোক্তাল বলেন রাজ্য সরকারের অনুদানে ভাষা ও লিপি তৈরীর কাজ চলছে। ভুজেল কালচারাল বোর্ডের আওতায় ভুজেল ভাষার পাঠ্যক্রম চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত তৈরি হয়ে গিয়েছে, একইসঙ্গে সাহিত্য ইতিহাসের ভান্ডারের বিকাশে প্রতিনিয়ত কাজ চলছে বলে জানান বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রদীপ কুমার ভুজেল।
সম্প্রতি রাজ্য সরকারের তরফে ভুজেল কালচারাল বোর্ডকে ১কোটি ২৫লক্ষ টাকার আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী গৌতম দেব এদিন জানান বিভিন্ন ভাষাভাষীর পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের জনজাতির মানুষদের মাতৃভাষার বিকাশ ও স্বীকৃতির লক্ষে রাজ্য সরকার নিরলস কাজ করে চলছে।সব ধর্ম, জাতি ও ভাষাভাষীর সাহিত্য সংস্কৃতির প্রসারের দিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সর্বদা গুরুত্বপূর্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। পাশাপাশি এদিন একইসঙ্গে তার নিজের গলায় গাওয়া রবীন্দ্রগীতির গানের এলব্যাম শিলিগুড়িতে লঞ্চ করেন মন্ত্রী। ভ্রমন পিপাসু লেখক গৌরিশঙ্কর ভট্টাচায্য মন্ত্রী গৌতম দেবের হাতে তাঁর শিলিগুড়ি ইতিহাস নিয়ে লেখা পুস্তকটির মলাট উন্মোচন করেন। তিনি পুর প্রশাসক অশোক ভট্টাচায্যের ঘনিষ্ট আত্মীয়।

Post a Comment