দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন উত্তরাখণ্ডের ভুমিধসে নিখোঁজ মালদার আনিস শেখের স্ত্রীসহ পরিবারের লোকেরা - The News Lion

দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন উত্তরাখণ্ডের ভুমিধসে নিখোঁজ মালদার আনিস শেখের স্ত্রীসহ পরিবারের লোকেরা

 


দি নিউজ লায়নঃ         পরিবারের প্রধান উপার্জনকারীর সন্ধান নেই । প্রায় তিন দিন ধরে উদ্বিগ্ন দুই ভাই ইতিমধ্যে রওনা হয়ে গিয়েছেন উত্তরাখণ্ডের ঋষিগঙ্গায় ।  তবে এখনও আশার আলো দেখতে পান নি তাঁরা। মালদার ইংরেজবাজার ব্লকের ফুলবাড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ভগবানপুরে বাড়িতে বসে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন হড়পাবানে নিখোঁজ আনিস শেখের (৩৪) স্ত্রীসহ পরিবারের লোকেরা। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই উত্তরাখণ্ডের প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা শুরু হয়ে গিয়েছে । তবে নিখোঁজ শ্রমিক কোন প্রকল্পে কাজ করতো তা সঠিকভাবে জানতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা।  ফলে কিছুটা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। ব্লক প্রশাসনের কর্তাদের  পাঠানো হচ্ছে নিখোঁজ শ্রমিকের যাবতীয় তথ্য জোগাড় করার জন্য।


আনিস শেখের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে,  দুর্ঘটনার দিন অর্থাৎ গত রবিবার সকাল সাড়ে ন'টা নাগাদ শেষবারের মতোন পরিবারের সাথে মোবাইলে কথা বলে আনিস শেখ । তারই এক নিকট দিদিমা ওইদিন মালদায় গ্রামের বাড়িতে মারা যান। তার শেষকৃত্য ভিডিও কলে দেখার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন আনিস। পরে বেলা এগারোটা নাগাদ তাকে ফোন করে আর যোগাযোগ করতে পারেন নি পরিবারের সদস্যরা । তখন থেকে দুশ্চিন্তা শুরু । তখনো  কিছুই জানতেন না পরিবারের সদস্যরা। কিছুক্ষণের মধ্যেই টিভিতে খবর দেখে মাথায় বজ্রাঘাত হয় তাঁদের। জানতে পারেন ভয়াবহ তুষারধসে ভেসে গিয়েছে উত্তরাখণ্ডের ঋষিগঙ্গা সহ বেশ কিছু এলাকা। প্রচুর মানুষ নিখোঁজ। সেখানেই কাজ করতো আনিস শেখ। পাগলের মতোন তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন পরিবার । কিন্তু ফল মিলে নি। শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা না করে ট্রেনে চেপে উত্তরাখণ্ডের রওনা হয়ে যান আনিসের  দুই ভাই একরামুল শেখ এবং সিকিম শেখ। 


তবে এরপর কেটে গিয়েছে আরও তিন দিন। কিন্তু খোঁজ মেলে নি আনিসের। বাড়িতে স্ত্রী রেহেনা বিবি নাবালিকা মেয়ে নাসরিমা খাতুন ও ছেলে নাসিম শেখ অভিভাবকের মতোন আগলাচছেন আনিসের ছোট ভাই ফরিদ শেখ। সকলের শ্রমিক বা পুরানো সামগ্রী বেচাকেনা করেন। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোজগেরে আনিস শেখ । তার ভাই ফরিদ শেখ বলেন , গত ১৩ মাস ধরে দাদা উত্তরাখণ্ডের ঋষিগঙ্গায় বিদ্যুৎ প্রকল্পের শ্রমিকের কাজ করতেন। শুনেছিলাম চাকরি স্থায়ী হয়ে গিয়েছে। প্রায় ২৫ হাজার টাকা করে বেতন পান দাদা।  তবে কোন প্রকল্পের কাজ করতো ঠিকমতো জানা নেই। আমাদের পরিবারের পাশাপাশি আমাদের ভরসা ছিল দাদার রোজগার । কিন্তু দাদার খোঁজ না মেলায় খুব চিন্তায় আছি।


এ প্রসঙ্গে জেলাশাসক রাজর্ষি মিত্র বলেন, আমরা ওই শ্রমিকের যাবতীয় তথ্য জোগাড়ের কাজ শুরু করেছি । উত্তরাখণ্ডের স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। আনিস শেখ ঠিক কোন প্রকল্পের কাজ করতেন বা দুর্ঘটনার সময় কি পোশাক পরেছিলেন সবকিছুই খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। 


কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.