৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে রাজ্য মেডিকেল কাউন্সিলকে তদন্তের নির্দেশ দিলেন মেডিকেল কমিশন - The News Lion

৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে রাজ্য মেডিকেল কাউন্সিলকে তদন্তের নির্দেশ দিলেন মেডিকেল কমিশন


দি নিউজ লায়নঃ     চিকিৎসায় গাফিলতিতে ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে রাজ্য মেডিকেল কাউন্সিলকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিল জাতীয় মেডিকেল কমিশন। কমিশনের কনসালটেন্ট হংসরাজ বাওয়েজা রাজ্য মেডিকেল কাউন্সিলের রেজিস্ট্রারকে অন্তঃসত্ত্বার চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ নিয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মেমারি থানার শংকরপুরে সৌমি ঘোষের বাপেরবাড়ি। ঘটনার সময় তাঁর স্বামী ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্সে কাজ করতেন। ১০ সেপ্টেম্বর সকালে ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা সৌমিকে মেমারির একটি নার্সিংহোম নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে একটি ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়।


 গর্ভস্থ সন্তান এবং সৌমির শারীরিক অবস্থা ঠিক আছে বলে জানান চিকিৎসক। বাড়ি ফেরার পর রাতে সৌমির বুকে যন্ত্রণা শুরু হয়। ফের তাঁকে নাির্সংহোমে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে আরও একটি ইঞ্জেকশন দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। বাড়ি ফেরার পর তাঁর বুকের যন্ত্রণা আরও বাড়ে। ওই নাির্সংহোমটিতে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। পরিবারের লোকজন তাঁকে বামবটতলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানে অক্সিজেন দেওয়া হয়। এরপর তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলা হয়। সৌমিকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক তাঁকে অন্য কোনও ভালো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এরপর পরিজনরা তাঁকে বামবটতলার অপর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানে বেড খালি নেই বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয় অন্তঃসত্ত্বাকে। 


পরিবারের লোকজন বাধ্য হয়ে তাঁকে শহরের একটি নাির্সংহোমে নিয়ে যান। সেখানে প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ নেই বলে তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর সৌমিকে ঘোরদৌড়চটির একটি নাির্সংহোমে নিয়ে যাওয়া হয়। নাির্সংহোম কর্তৃপক্ষ রোগীকে ভরতি না নিয়ে ফিরিয়ে দেয়। শেষমেশ তাঁকে ফের বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। ততক্ষণে শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় সৌমির। হাসপাতালে ভরতির মিনিট কুড়ির মধ্যে মারা যান সৌমি। সেই ঘটনায় ৬ মাসের মধ্যে অভিযোগের বিষয়ে রাজ্য মেডিকেল কাউন্সিলকে নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে। তার মধ্যে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে অথবা রাজ্য কাউন্সিলের নেওয়া ব্যবস্থায় সন্তুষ্ট না হলে নিষ্পত্তির ৬০ দিনের মধ্যে ফের জাতীয় কমিশনে নালিশ জানাতে পারা যাবে।


 মৃতার স্বামী এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকেও চিঠি দেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রক জাতীয় মেডিকেল কাউন্সিলে অভিযোগটি পাঠিয়ে দেয়। এছাড়াও অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। রাজ্য কাউন্সিলকে অভিযোগের নিষ্পত্তির সময় চিকিৎসকদের পেশাগত আচরণ, শিষ্টাচার ও নৈতিকতার বিষয়টি এই ঘটনায় লঙ্ঘিত হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে বলেছে। মৃতার স্বামীর আইনজীবী শান্তিরঞ্জন হাজরা বলেন, ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বাকে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভরতি নেওয়া হয়নি। তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ঘুরেছেন পরিবারের লোকজন। কিন্তু, রোগীকে ভরতি নেওয়া হয়নি। এটা চিকিৎসকদের পেশাগত আচরণ, শিষ্টাচার ও নৈতিকতা বিরোধী। কার্যত বিনা চিকিৎসায় অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি জাতীয় মেডিকেল কাউন্সিলে এবং কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকে জানানো হয়েছিল। তার পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় মেডিকেল কাউন্সিল অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রাজ্য মেডিকেল কাউন্সিলকে নির্দেশ দিয়েছে। মৃতার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে মেমারি থানা গাফিলতিতে মৃত্যুর ধারায় মামলা রুজু করেছে।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.