মালদায় সালিশি সভায় গুলি, নিহত 1 গুলিবিদ্ধ আরও এক
দি নিউজ লায়ন: দশ বছর আগে পারিবারিক বিবাদের কারণে সালিশি সভা চলাকালীন খুন হয়েছিলেন বাবা । আর ঠিক একই ইস্যুতে আবারও সালিশি সভার মধ্যেই গুলিবিদ্ধ হয়ে খুন হলেন ছেলে। এই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন মৃতের এক কাকা। তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। কাকা এবং ভাইপোর মধ্যেই পারিবারিক পুরনো বিবাদের এই গুলি চালানোর ঘটনাটি ঘটেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে এই ঘটনাকে ঘিরে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে কালিয়াচক থানার মোজামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নারায়ণপুর এলাকায়।
পুরনো একটি পারিবারিক গোলমালকে কেন্দ্র করে কাকা ও ভাইপোর মধ্যেই এই গুলি চালানোর ঘটনাটি ঘটে। উভয়পক্ষের গুলিতে একে অপরের গুলিবিদ্ধ হয়। তাতে মৃত্যু হয়েছে ভাইপোর । জখম হয়েছেন কাকা। পুরো ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে কালিয়াচক থানার পুলিশ । যদিও কালিয়াচক থানার আইসি আশিস দাস এখনই পরিষ্কারভাবে এই ঘটনা সম্পর্কে কোনো কিছু জানাতে চান নি। তবে প্রাথমিকভাবে পুলিশ মনে করছে পুরনো পারিবারিক শত্রুতার জেরকে ঘিরে এই গোলমালের ঘটনাটি ঘটেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে , মৃত ভাইপোর নাম নওয়াজ শরীফ চৌধুরী (৩০)। জখম কাকার নাম সালাম চৌধুরী (৫০)। মৃতের মাথায় গুলি লেগেছে । জখম সালাম চৌধুরীর কোমরের ডান দিকে গুলি লেগেছে। তার চিকিৎসা চলছে মালদা মেডিক্যাল কলেজে। যদিও এই ঘটনাটি নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে চান নি। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, পারিবারিক জমির দখলদারি নিয়ে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরেই গোলমাল চলে আসছে কাকা ও ভাইপোর পরিবারের মধ্যে মৃত নওয়াজ শরিফ চৌধুরীর বাবা দশ বছর আগে একইভাবে সালিশি সভা চলাকালীন গুলিবিদ্ধ হয়ে খুন হয়েছিলেন। আর এদিন এই বিবাদের মধ্যেই খুন হলেন ছেলে নওয়াজ শরিফ চৌধুরী।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্পত্তির দখলকে ঘিরে এদিন নারায়ণপুর এলাকায় কাকা ও ভাইপোর দুই গোষ্ঠীর সালিশি সভা বসেছিল। উভয়পক্ষের মধ্যে হঠাৎ করে গোলমাল বাঁধে। আর সেখানে দুই গোষ্ঠী একে অপরকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। তাতেই মাথায় গুলি লেগে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় নওয়াজ শরিফ চৌধুরী । অন্যদিকে মৃতের দলবদলের গুলিতে জখম হয়েছে কাকা সালাম চৌধুরী।
পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া জানিয়েছেন, গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন খুন হয়েছে। জখম হয়েছে একজন। তবে প্রকৃত ঘটনার সম্পর্কে এখনো কিছু জানা যায় নি । প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে পুরনো শত্রুতা ও পারিবারিক বিবাদের জেরে এই ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে কালিয়াচক থানার পুলিশ। দুষ্কৃতীদের খোঁজ চালানো হচ্ছে।

Post a Comment