স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পে পুত্র সন্তানের জন্ম দিলেন প্রসূতি
দি নিউজ লায়ন: স্বাস্থ্যসাথী কার্ড হাতে পেয়ে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পুত্র সন্তানের জন্ম দিলেন এক গৃহবধূ । এমনকি রাজ্য সরকারের এই প্রকল্পের কার্ড পেয়ে বেশ কয়েকজন রোগী গলব্লাডার , অ্যাপেন্ডিক্সের মতোন অস্ত্রোপচার করে নতুনভাবে জীবন ফিরে পেলেন। আর এই সুবিধা পেয়ে দুই হাত তুলে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অসুস্থ রোগীর পরিবারের আত্মীয়রা। তাঁদের বক্তব্য, এতদিন বিভিন্ন চিকিৎসা পরিষেবার ক্ষেত্রে অর্থের অভাবে সরকারি হাসপাতালে যেতে হতো। কিন্তু এখন রাজ্য সরকারের এই প্রকল্পের সুবিধা মিলতেই নার্সিংহোমে চিকিৎসা পাওয়া যাচ্ছে । এর থেকে আর ভালো কি হতে পারে। সবটাই হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর জন্য।
মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ওইসব রোগীর পরিবার। স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় মালদা শহরের বেশ কয়েকটি নার্সিংহোমের মধ্যে রয়েছে সিঙ্গাতলা এলাকায় একটি নার্সিংহোম। সেখানও মিলছে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের চিকিৎসার বিশেষ সুবিধা। আর এই চিকিৎসা পেয়ে এখন রীতিমত উচ্ছ্বাসিত মালদা শহরের বালুচর এলাকার গৃহবধূ সুপর্ণা মণ্ডলের পরিবার। গত রবিবার প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে ভর্তি হন সুপর্ণা দেবী। এরপর রবিবার রাতেই পুত্র সন্তানের জন্ম দেন তিনি। আর এই চিকিৎসার পরিষেবা মিলেছে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে । সৌজন্যে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড। সদ্যোজাত সন্তানকে কোলে নিয়ে একেবারে উচ্ছ্বাসিত গৃহবধূ সুপর্ণাদেবী ও তার পরিবার। ওই গৃহবধূর বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি আমাদের জন্য যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন, তা কোনোদিন ভাবতে পারে নি। বিনামূল্যে নার্সিংহোমে থেকে চিকিৎসা পাওয়া যেতে পারে, এটা সত্যিই আমাদের কাছে স্বপ্নের মতোন। এইজন্য মুখ্যমন্ত্রীকে আমরা দুইহাত তুলে আশীর্বাদ করছি।
অন্যদিকে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের সুযোগ পেয়ে গলব্লাডারের অস্ত্রোপচার করে এখন রীতিমতো সুস্থ রয়েছেন একাদশ শ্রেণির পড়ুয়া সঞ্জীব চৌধুরী । মালদা শহরের বাসিন্দা সঞ্জীবের এক দাদা রাতুল চৌধুরী বলেন , দিন মজুরের পরিবারে এই ধরনের চিকিৎসা পরিষেবা তাও আবার নার্সিংহোমে বিনামূল্যে, এ যেন আমাদের কাছে স্বপ্ন ছিল। কিন্তু সবই সম্ভব হয়েছে মমতার জন্য। আমার ভাইয়ের অস্ত্রোপচার হয়েছে । এখন একটি নার্সিংহোমে সুস্থ রয়েছে, চিকিৎসার জন্য কোন টাকা দিতে হয় নি।
এদিকে মালদা শহরের সিঙ্গাতলা এলাকায় ওই নার্সিংহোমের কর্ণধার ডা: ডি সরকার বলেন, প্রতিটি সিজার , অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার নির্ধারিত একটি মূল্য বেঁধে দিয়েছে। স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের মাধ্যমে সেই চিকিৎসা পরিষেবা আমরা দিচ্ছি । বর্তমানে মূল্যবৃদ্ধির সময় নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষগুলির খরচ বেড়েছে। তাই সরকারের কাছে আবেদন যে এই চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সমীক্ষা করা দরকার।

Post a Comment