মন্ত্রীর উপর প্রাণঘাতী বোমা আক্রমণে বাড়ছে জখমের সংখ্যা, তদন্তে নিমতিতা স্টেশন সিআইডি ও ফরেন্সিক দল
দি নিউজ লায়নঃ নিমতিতা রেলস্টেশন কেন আচমকা অন্ধকারে ডুবে ছিল বুধবার রাতে? রাজ্যের একজন মন্ত্রী ট্রেন ধরতে আসবেন জেনেও কেন প্লাটফর্মে ছিলেন না একজন রেলের নিরাপত্তারক্ষীও ? মন্ত্রী জাকির হোসেনের ওপর হামলার ঘটনায় প্রশ্নের মুখে রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মুর্শিদাবাদের সাধারণ মানুষ থেকে তৃণমূল নেতাকর্মীরা প্রত্যেকেই প্রশ্ন তুলছেন রেলের ভূমিকা নিয়ে।
কিভাবে রেলের নিরাপত্তা এড়িয়ে স্টেশনে ঢুকে পড়ল দুষ্কৃতীরা, কী ভাবেই বা তারা বোমা রেখে চলে গেল, কেন তা কোন রেলকর্মী বা দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তারক্ষীদের চোখে পড়লো না এই সমস্ত দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তারা। বৃহস্পতিবার সকালে নিমতিতা স্টেশন পরিদর্শনে আসেন মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা। ছিলেন সিআইডি আধিকারিকেরা। নমুনা সংগ্রহ করেন ফরেনসিক দলের বিশেষজ্ঞরা। প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, নিমতিতা রেল স্টেশনের 2 নম্বর প্লাটফর্মে আগে থেকেই বিস্ফোরক রাখা ছিল।
খুব সম্ভবত যাত্রীরা যে ধরনের ব্যাগ ব্যবহার করেন সেই ধরণের কোন ব্যাগে বিস্ফোরক বোঝাই করে রাখা ছিল। অসাবধানতাবশত মন্ত্রী জাকির হোসেন এবং তার সঙ্গে থাকা দলীয় নেতাকর্মীরা কোনোভাবেই ব্যাগে পা দিতেই সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণ হয়। নিখুঁত পরিকল্পনা করে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় গোটা বিষয়টি ঘটানো হয়।দুষ্কৃতীরা আগে থেকেই জানতেন দু'নম্বর প্ল্যাটফর্ম প্রথম থেকেই তিস্তা তোর্সা এক্সপ্রেসে উঠবেন জাকির। সেইমতো প্লাটফর্মে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা হয় বিস্ফোরক বোঝাই ব্যাগ। যদিও গোয়েন্দাদের অন্য একটি অংশ মনে করছেন রিমোট কন্ট্রোলের সাহায্যে ও বিস্ফোরণ ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরকের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
পরীক্ষা করে স্পষ্ট করে বোঝা যাবে ঠিক কি ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মন্ত্রী জাকির হোসেনের সঙ্গে বোমার আঘাতে আরো অন্তত 26 জন কমবেশি জখম হয়েছেন। এদের মধ্যে 12 জন কে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে। বেশির ভাগেরই হাতে এবং পায়ে মারাত্মক চোট রয়েছে। কয়েক জনের হাত এবং পা উড়ে গিয়েছে। অনেকের আঙুল উড়ে গিয়েছে ।বাকিদের চিকিৎসা চলছে বহরমপুর মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন হাসপাতালে। তাদের অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল।

Post a Comment