মুখ্যমন্ত্রীর "স্বাস্থ্যসাথী" কার্ডে জীবন বাঁচলো মেখলিগঞ্জের বিজেপি সমর্থকের, নতুন জীবন পেয়ে যোগ তৃণমূলে
দি নিউজ লায়ন: মুখ্যমন্ত্রীর স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের বিরোধিতায় প্রায় প্রতিদিনই নিয়ম করে কুৎসা রটাচ্ছে বিজেপি। নেতা কর্মীরা অপপ্রচার করে প্রতিনিয়ত বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে বিজেপি নেতা কর্মীরা এবং তাদের পরিবার অনেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড করাচ্ছেন। তালিকায় রয়েছেন খোদ রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের পরিবারও। এবার এই স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের বদান্যতাতেই প্রাণ বাঁচল বিজেপি কর্মীর। স্বাস্থ্যসাথীর সুবিধা পেয়ে বিজেপি নেতৃত্বের প্রতি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ওই মহিলা বিজেপি কর্মীর পরিবার। তাদের অভিযোগ বিজেপি নেতারা তাদের ভুল বুঝিয়েছিল স্বাস্থ্যসাথী নিয়ে। এমনকি প্রয়োজনে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার ওই বিজেপি কর্মী এবং তার পরিবার আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলে যোগ দেন। তাদের বক্তব্য মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা থেকেই তাদের এই সিদ্ধান্ত। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মেখলিগঞ্জ ব্লকের উছলপুকুরি গ্রাম পঞ্চায়েতের জমের ডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা গৃহবধূ সঙ্গীতা বৈশ্যর বেশ কিছুদিন ধরে প্রবল মাথা যন্ত্রণা শুরু হয়। এমনকি তার একটি চোখের দৃষ্টি ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছিল। চিকিৎসককে দেখানোর পর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানা যায় তার ব্রেন টিউমার হয়েছে এবং দ্রুত সেটিকে অপারেশন করতে হবে। চিকিৎসক জানান অপারেশন করতে কমপক্ষে চার লক্ষ টাকা খরচ হতে পারে। মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে বিজেপি সমর্থক সঙ্গীতার পরিবারের।
তাদের অভিযোগ, স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের কাছে গেলে তারা সাংসদের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেয় যদিও সাংসদের কাছে গিয়ে কোন লাভ হয়নি। এরপর তারা স্বাস্থ্যসাথী কার্ড করাতে গেলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব তাদের ভুল বোঝায়। তারা বলে স্বাস্থ্য সাথী কার্ডে কোন চিকিৎসা পাওয়া যাবে না। পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠলে তারা স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করে। মেখলিগঞ্জের তৃনমূল নেতা তথা চ্যাংড়াবান্ধা উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান পরেশ চন্দ্র অধিকারীর কাছে এ বিষয়ে সহযোগিতা চাইলে তিনি চিকিৎসার যাবতীয় ব্যবস্থা করে দেন। দ্রুত স্বাস্থ্য সাথী কার্ড করিয়ে সেই টাকায় হয় অপারেশন প্রাণ বাঁচে বিজেপি সমর্থক গৃহবধূর। মঙ্গলবার ওই গৃহবধূ এবং তার গোটা পরিবার যোগদান করেন তৃণমূলে।

Post a Comment