গৃহবধূকে খুনের পর ময়না তদন্ত না করিয়ে দেহ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় স্বামী সহ শ্বশুরবাড়ির ৭ জনের আগাম জামিন খারিজ - The News Lion

গৃহবধূকে খুনের পর ময়না তদন্ত না করিয়ে দেহ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় স্বামী সহ শ্বশুরবাড়ির ৭ জনের আগাম জামিন খারিজ

 


দি নিউজ লায়নঃ        গৃহবধূকে খুনের পর ময়না তদন্ত না করিয়ে দেহ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় স্বামী সহ শ্বশুরবাড়ির ৭ জনের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করল বর্ধমান জেলা আদালত। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর নয়েক আগে কাটোয়ার মূলটি কৃষ্ণ গ্রামের কুমকুম কর্মকারের সঙ্গে মন্তেশ্বর থানার হড়কাডাঙার বাসিন্দা রবির বিয়ে হয়েছিল। তাদের দু’টি ছেলে রয়েছে। বিয়েতে চাহিদামতো পণ দেওয়া হয়। তা সত্বেও ছেলেদের জন্মের পর বাপেরবাড়ি থেকে আরও ১ লক্ষ টাকা আনার জন্য কুমকুমকে চাপ দেওয়া হয়। তা দিতে না পারায় তাঁর উপর শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতন শুরু হয়। ছেলেদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সব অত্যাচার তিনি মুখ বুজে সহ্য করতেন। 


অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে ঘটনার কয়েকমাস আগে তিনি বাপেরবাড়িতে চলে যান। স্বামী গিয়ে অত্যাচার বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁকে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। কয়েকমাস আগে শ্বশুরবাড়িতে অস্বাভাবিক মৃত্যু হয় কুমকুমের। মৃত্যুর খবর পেয়ে বাপেরবাড়ির লোকজন তাঁর শ্বশুরবাড়িতে যান। শ্বশুরবাড়ির লোকজন কুমকুম গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছে বলে জানায়। যদিও বাপেরবাড়ির লোকজনকে তাঁর মৃতদেহ দেখতে দেওয়া হয়নি। ময়না তদন্ত না করিয়েই মৃতদেহ পুড়িয়ে দেওয়া হয়। বাপেরবাড়ির লোকজনকে মিটমাটের জন্য চাপ দেওয়া হয়। ঘটনার বিষয়ে থানায় অভিযোগ জানাতে যান মৃতার মা। থানা অভিযোগ না নেওয়ায় তিনি কাটোয়া এসিজেএম আদালতে মামলা করেন। এসিজেএম কেস রুজু করে তদন্তের জন্য কাটোয়া থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। ঘটনাস্থল মন্তেশ্বর থানা এলাকা হওয়ায় কাটোয়া থানা তদন্তভার মন্তেশ্বর থানার হাতে তুলে দেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন জানায়। সেই আবেদন মঞ্জুর করেন এসিজেএম।


 গ্রেপ্তার এড়াতে মৃতার স্বামী রবি কর্মকার, শ্বশুর স্বপন কর্মকার, শাশুড়ি সঞ্চিতা কর্মকার, ননদ প্রতিমা কর্মকার, ভাশুর প্রতীক কর্মকার, খুড়শ্বশুর নানা কর্মকার ও জা বুল্টি কর্মকার আগাম জামিনের আবেদন করে। বুধবার সেই আবেদনের শুনানি হয়। শুনানির সময় আদালতে উপস্থিত হয়ে ভুল বোঝাবুঝির কারণে মামলার উৎপত্তি বলে জানান মৃতার মা ছবি কর্মকার। এ নিয়ে তিনি আদালতে এফিডেভিটও জমা দেন। সরকারি আইনজীবী শিবরাম ঘোষাল জামিনের তীব্র বিরোধিতা করে বলেন, গৃহবধূকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগে জানানো হয়েছে। যে কোনও অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় মৃতদেহের ময়না তদন্ত করা হয়। কিন্তু, এক্ষেত্রে প্রমাণ লোপাটের জন্য ময়না তদন্ত না করিয়ে মৃতদেহ সৎকার করে দেওয়া হয়েছে। এ ধরণের জঘন্য অপরাধে অভিযুক্তরা আগাম জামিন পেলে সমাজে ভুল বার্তা পৌঁছাবে। তাছাড়া, মামলা হওয়ার পর আদালতের বাইরে এর নিষ্পত্তি হয়না। সওয়াল শুনে জেলা জজ পার্থসারথি সেন অভিযুক্তদের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেন।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.