ধারের টাকা ফেরত আনতে গিয়ে অপহৃত ব্যবসায়ী সহ 3
দি নিউজ লায়নঃ ধার দেওয়া 1 লক্ষ 72 হাজার টাকা আদায় করতে গিয়ে কিডন্যাপ হয়ে গেলেন হুগলির ব্যবসায়ী।পুলিশি তৎপরতায় একেবারে ফিল্মি কায়দায় শেষ পর্যন্ত উদ্ধার। গ্রেফতার দুই দুষ্কৃতী। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হুগলীর চুঁচুড়ার একটি ছাপাখানার মালিক মিঠুন কুন্ডু 3 বছর আগে নদিয়ার মায়াপুরের মুকুন্দ দাস নামে এক ব্যক্তিকে এক লক্ষ 72 হাজার টাকা ধার হিসেবে দেন। দীর্ঘদিন কেটে গেলেও ধারের টাকা কিছুতেই শোধ দিচ্ছিল না মুকুন্দ। সম্প্রতি মিঠুন কিছুটা চাপ দেওয়ায় মুকুন্দ জানায় মায়াপুরে এসে টাকা নিয়ে যেতে।
দুই কর্মচারী সুমন দাস এবং সোমনাথ মণ্ডলকে নিয়ে বুধবার সকালে একটি গাড়িতে মায়াপুর যান মিঠুন। তারপর থেকেই মিঠুন এবং তার দুই কর্মচারীর কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। বুধবার রাতে মিঠুনের বাড়িতে ফোন করে জানানো হয় তাকে অপহরণ করা হয়েছে। মুক্তিপণ হিসেবে 30 লক্ষ টাকা চাওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত 15 লক্ষ টাকায় রফা হয়। মিঠুনের পরিবারকে বলা হয় নদীয়ায় এসে টাকা দিয়ে মিঠুন এবং তার দুই কর্মচারীকে নিয়ে যেতে। এরপরই মিঠুনের পরিবার গোটা বিষয়টি চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটে জানান। গোয়েন্দারা একটি টিম তৈরি করেন। সাধারণ পোশাকে মিঠুনের পরিবারের সঙ্গে তারাও নদীয়া যান। পেশাদার কিডন্যাপারদের মতো বারবার অবস্থান বদল করতে থাকে দুষ্কৃতীরা।
শেষ পর্যন্ত ধুবুলিয়ার কাছে দুই দুষ্কৃতী টাকা নেওয়ার জন্য এলে তাদের ধরে ফেলেন গোয়েন্দারা। এরপর তাদের জেরা করে স্থানীয় একটি টিবি হাসপাতালের পরিত্যক্ত কোয়ার্টার থেকে উদ্ধার করা হয় মিঠুন এবং তার দুই কর্মচারীকে। যদিও ঘটনার মূল অভিযুক্ত মুকুন্দ পলাতক। অপহৃত ব্যবসায়ী মিঠুন পুলিশকে জানিয়েছে, মায়াপুরের ভোগ খাওয়ার জন্য নিয়ে গিয়ে তাদের অপহরণ করা হয়েছিল। বুধবার সারারাত তাদের অধিকার বিভিন্ন জায়গায় ঘোরানো হয় পরে তাদের হাসপাতালের কোয়ার্টারে আটকে রাখা হয়। চন্দননগরের ডিসি তথাগত বসু জানিয়েছেন, অপহরণের অভিযোগে ধৃত সুজিত ঘোষ এবং বিশ্বজিৎ সাহা দাগি অপরাধী। পাঞ্জাবের এক ব্যক্তিকে অপহরণ করেছিল এরা। এই গ্যাঙে আরো কারো রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Post a Comment