গলা থেকে সেপটিপিন বের করলেন জেলা হাসপাতালের চিকিৎসক - The News Lion

গলা থেকে সেপটিপিন বের করলেন জেলা হাসপাতালের চিকিৎসক

 


দি নিউজ লায়নঃ    বাড়িতে মুড়ি খাওয়ার সময় অসাবধানতায় খোলা সেফটিপিন খেয়ে ফেলেছিলেন এক বৃদ্ধা।  অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেই খোলা সেফটিপিন বার করলেন আসানসোল জেলা হাসপাতালের নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বীরেশ্বর মন্ডল। চিকিৎসাশাস্ত্রে এই অস্ত্রপচারকে বলা হয় ” ইসোফেগোসকপি “। অস্ত্রোপচার সফল হওয়ায় ওই বৃদ্ধা প্রাণে বাঁচলেন। ওই বৃদ্ধার নাম তারা রাউত। তার বাড়ি জামুড়িয়ায়। 


জানা গেছে, তিনদিন আগে বাড়িতে মুড়ি খাচ্ছিলেন তারা রাউত নামে ঐ বৃদ্ধা। অসাবধানতায় কোনভাবে মুড়ির সঙ্গে একটি খোলা সেফটিপিন তিনি মুড়ির সঙ্গে খেয়ে ফেলেন। কিন্তু যখন তিনি তা বুঝতে পারেন, তখন আর কিছু করার ছিলোনা। ততক্ষনে খোলা সেফটিপিন মুখ দিয়ে গলায় চলে গেছে। পরে বাড়ির লোকেরা সেই ঘটনার কথা জানতে পারেন। 


শনিবার তারা দেবীকে আসানসোল জেলা হাসপাতালের ইএনটি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। রবিবার হাসপাতালের ইএনটি সার্জেন ডাঃ বীরেশ্বর মন্ডল বৃদ্ধার গলার এক্সরে করানোর ব্যবস্থা করান। তারপর সেই রিপোর্টে দেখা যায় যে, খোলা সেফটিপিন কোথায় আটকে আছে। 


বীরেশ্বর মন্ডল বলেন, এক্সরে রিপোর্টে দেখি ঐ রোগীর ইসোফেগাসে ( গলার একবারে শেষে সেফটিপিনটা আটকে আছে। ইতিমধ্যেই তিনদিন হয়ে গেছে। এটা বার করতে না পারলে রোগীর সমস্যা হতে পারে। পাশাপাশি খোঁজ নিয়ে জানতে পারি যে, রোগীর হাইপার টেনশনের মতো শারীরিক সমস্যা আছে। তবুও আমি বাড়ির লোকেদের মত নিয়ে ইসোফেগাসকপি করে সেই খোলা সেফটিপিন বার করি৷ রোগীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। কিছু সময় পর্যবেক্ষনে রাখার পরে ছেড়ে দেওয়া হবে।

আসানসোল জেলা হাসপাতালের সুপার ডাঃ নিখিল চন্দ্র দাস বলেন, এই হাসপাতালের চিকিৎসকরা সীমাবদ্ধ ক্ষমতার বাইরে গিয়ে রোগীদের বাঁচানোর জন্য সবরকম চেষ্টা করছেন। ইএনটি বিভাগ তার মধ্যে অন্যতম।

বৃদ্ধা ও তার পরিবারের লোকেরাও খুশি। তারা বলেন, আসানসোল জেলা হাসপাতালে এটা যে হবে, তা ভাবতেই পারিনি।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.