গাদ্দার বিধায়ক লেখা পোস্টার ছেয়ে গেল ডায়মন্ডহারবার জুড়ে
দি নিউজ লায়ণঃ দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ডহারবার বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূলের বিধায়ক দীপক হালদার বিজেপিতে যোগ দিতেই বিধায়ক দীপক হালদারের বিরুদ্ধে 'গাদ্দার বিধায়ক' লেখা পোস্টারে ছেয়ে গেল গোটা শহর।তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও স্বজন পোষণের অভিযোগ করা হয়েছে ওই পোস্টারে।সোমবার তৃণমূলে পদত্যাগ পত্র পাঠানোর পর মঙ্গলবার বারুইপুরের সভায় বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন বিধায়ক দীপক হালদার৷বারুইপুরে বিজেপির যোগদান মেলার মঞ্চে দীপক হালদারের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিয়ে বিজেপিতে স্বাগত জানান বিজেপির সর্ব ভারতীয় সহ সভাপতি মুকুল রায়,বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী রাজীব ব্যানার্জি।
আর বিজেপি তে যোগ দেওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে ডায়মন্ডহারবার এলাকায় পোস্টার পড়ায় জোর আলোড়ন ছড়াল।এলাকার বিজেপি নেতাদের অভিযোগ রাতের অন্ধকারে তৃণমূলের লোকজনই এই পোস্টার লাগিয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূল নেতৃত্ব জানিয়েছে, আসল সত্যটা বুঝে এলাকার মানুষই পোস্টার লাগিয়েছেন, এর সঙ্গে তৃণমূলের কোন যোগ নেই।বিধায়ক দীপক হালদারের বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জল্পনা তৈরি হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে লাগাতার আক্রমণ করতে দেখা যায় যুব তৃণমূল কর্মীদের। গাদ্দার, মীরজাফর, প্রতারক বলেও দীপককে আক্রমণ করতে দেখা গিয়েছিল। তৃণমূলের উচ্চ নেতৃত্বের কাছে পদত্যাগ পত্র পাঠানোর পরই 'দুর্নীতি পরায়ন' এবং বিশ্বাসঘাতক বলে কটাক্ষ শুরু করেন স্থানীয় তৃণমূল নেতারা।
ডায়মন্ডহারবারের স্টেশন বাজার থেকে জেটিঘাট পর্যন্ত জাতীয় সড়কের দুধারে 'গাদ্দার বিধায়ক' লেখা প্রচুর পোস্টার দেখা যায়।খবরটি চাউর হতেই রাজনৈতিক চাপানউতর শুরু হয়ে যায়। ডায়মন্ডহারবার বিধানসভার নাগরিকবৃন্দের পক্ষ থেকে দেওয়া এই পোস্টারে দীপকের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়েছে।জাহাজ ইউনিয়ন থেকে টাকা নেওয়া এবং টাকার বিনিময়ে কাজ পাইয়ে দেওয়া ও স্বজন পোষণে অভিযোগ করা হয়েছে পোস্টারে। এমনকি পোস্টারে লেখা রয়েছে, 'ডায়মন্ড হারবারের গণদেবতাকা আড়াল করে কত টাকার বিনিময়ে বিক্রি হলে? গদ্দার বিধায়ক জবাব দাও।' এছাড়াও লেখা রয়েছে, ''পাঁচ বছর গণদেবতার কাজ না করে, জাহাজ ইউনিয়নের থেকে লাখ লাখ টাকা ইনকাম করে ডায়মন্ড হারবারের মানুষের সাথে কেন বেইমানি করলে? গাদ্দার বিধায়ক জবাব দাও।'
তবে, নিজের পুরাতন দলের বিরুদ্ধে সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ না করে গণদেবতার উপরেই আস্থা রেখেছেন বিধান দীপক হালদার।তিনি বলেন, "কে বা কারা এই কাজ করতে পারে তা আমার অজানা নয়। ডায়মন্ড হারবারের মানুষ সবটা দেখেছেন। কুৎসা করে লাভ নেই। গণদেবতারাই এর জবাব দেবেন। কে সৎ আর কে অসৎ মানুষই তার উত্তর দেবেন।এদিকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডায়মন্ড হারবার-১ ব্লকের যুব তৃণমূল সভাপতি গৌতম অধিকারী বলেন "ওনার(দীপক) মুখে প্রায়শই গণদেবতার কথা শোনা যেত। তাঁর কার্যকলাপে গণদেবতারাই প্রশ্ন তুলেছেন। এর সঙ্গে তৃণমূলের কোন যোগ নেই। ৫ বছর তিনি দলের সঙ্গে কোন যোগযোগা রাখেন নি, বরং গাদ্দারি করার ফন্দি আঁটছিলেন। সেটাই সফল করেছেন তিনি। এমন মানুষ প্রশ্ন করছে, উত্তর না দিয়ে পেরে ভয়ে তৃণমূলের নামে দোষারোপ করছেন। তৃণমূলের তো আর কোন কাজ নেই, যে দীপক হালদারকে ফুটেজ খাওয়াবে!

Post a Comment