মেমারি থানার পালশিটে দেহ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার এক
দি নিউজ লায়নঃ মেমারি থানার পালশিটে দেহ উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। ধৃতের নাম হাবুল রায়। হুগলির পাণ্ডুয়া থানার বাঁটিকা গ্রামের রায়পাড়ায় তার বাড়ি। পুলিস জানিয়েছে, সোমবার সকালে কাজে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন শক্তিগড় থানার তাঁতখণ্ডের বুদু শেখ (৪২)। রাতে তিনি বাড়ি ফেরেন নি। পরেরদিন পালশিটে একটি পেপারমিলের কাছে কলকাতার দিকে তাঁর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মৃতের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। পায়ে গুলির দাগও ছিল। মৃতের দাদা শেখ কালো ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি বুদুর বলে শনাক্ত করেন। পরে তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
তার ভিত্তিতে খুন ও প্রমাণ লোপাটের ধারায় মামলা রুজু করে তদন্তে নামে পুলিস। ঘটনাস্থল থেকে একটি ব্যাগ উদ্ধার করে পুলিস। তা থেকে হাবুলের আধার কাের্ডর জেরক্স এবং ২৭০ টাকা মেলে। বুদুর বিরুদ্ধেও খুন সহ নানা ধরণের অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন থানায় তাঁর নামে মামলাও রয়েছে। বুদুর সঙ্গে হাবুলের অপরাধে জড়িত থাকার রেকর্ড রয়েছে। একটি খুনের মামলায় তাদের দু’জনের নাম জড়ায়। তারা জেলও খাটে। কিছুদিন আগে তারা জামিনে ছাড়া পায়। পরিকল্পনামাফিক বুদুকে ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন করা হয়েছে বলে পুলিস জানতে পেরেছে। বুধবার দুপুরে বাড়ি থেকে পুলিস অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় খুন সহ বিভিন্ন ধারায় বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে।
খুনে জড়িত থাকার কথা ধৃত কবুল করেছে বলে পুলিসের দাবি। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন খুনে জড়িত বলে ধৃত পুলিসকে জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার ধৃতকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়। খুনে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের জন্য এবং বাকি জড়িতদের হদিশ পেতে ধৃতকে ১০ দিন নিজেদের হেফাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানায় পুলিস। ধৃতকে ৭ দিন পুলিসি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন সিজেএম সুজিত কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। মেমারি থানার এক অফিসার বলেন, কি কারণে এই খুন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে, এর পিছনে ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধ থাকতে পারে। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে খুনের মোটিভ জানা হবে।

Post a Comment