চা সুন্দরী প্রকল্পের উদ্বোধন মুখ্যমন্ত্রী হাতে কাল - The News Lion

চা সুন্দরী প্রকল্পের উদ্বোধন মুখ্যমন্ত্রী হাতে কাল


দি নিউজ লায়নঃ     'মিলে সুর মেরা তুমহারা তো সুর বনে হামারা' বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একমাত্র জাতীয় অখন্ডতা ও সৌভ্রাতৃত্বের  প্রতীক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই শিলিগুড়ি বাঘাযতিন ময়দানের উত্তরবঙ্গ উৎসবের অনুষ্ঠান মঞ্চে রবীন্দ্র নজরুল দ্বিজেন্দ্রলাল রায় সহ হিন্দিভাষার জাতীয়তাবাদের গানে গাথায় নৃত্য পরিবেশনের মধ্য দিয়েই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্বাগত জানাতে চায় শিলিগুড়ির সাংস্কৃতিক মহল। রবিবার তড়িঘড়ি শেষ পর্যায়ে চূড়ান্ত প্রস্তুতি সারেন তারা। সোমবার শিলিগুড়ির বাঘাযতীন ময়দানে রবীন্দ্র মঞ্চে ১১তম উত্তরবঙ্গ উৎসবের উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন থেকেই উত্তরবঙ্গের চা শ্রমিকদের রাজ্যের তরফে দাওয়া স্বপ্নের বরদান চা সুন্দরী প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করবেন নিজের হাতেই মুখ্যমন্ত্রী।


 ইতিপূর্বেই উত্তরবঙ্গে শেষ প্রশাসনিক বৈঠক থেকে উত্তরের চাপ বলয়ের চা শ্রমিকদের জন্য ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। উত্তরের ৩৭০টি চা বাগিচাগুলিকে চা সুন্দরী প্রকল্পের আওতায় এনে গৃহহীন চা শ্রমিকদের জন্য রাজ্য সরকারের তরফে ৫০০কোটি টাকা বরাদ্দ করে স্থায়ী বাসস্থান পাকা বাড়ি গড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তার ঠিক তিনমাসের মধ্যেই সেই প্রকল্পের কাজ এদিন প্রথম পর্যায়ের ১৩টি বাগানকে নিয়ে শুরু হতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন নিজ হাতে এই প্রকল্পের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে কাজ শুরু করবেন। দুজন চা শ্রমিকের হাতে উত্তরবঙ্গ উৎসবের মঞ্চ থেকেই প্রকল্পের সুবিধে তুলে দেবেন তিনি বলেই জানান উত্তরবঙ্গ এডিশনাল লেবার কমিশনার মহম্মদ রেজওয়ানু। 


তিনি জানান প্রথম পর্যায়ের ১৩টি বাগান এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। এরমধ্যে দার্জিলিং জেলা ও তরাইয়ের গওয়াগঙ্গা, শুকনা, অটল চা বাগান রয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ফাগু,রহীনপুর, গ্রাসমোড় এই তিনটি চা বাগানকে প্রকল্পের আওতায় এনে কাজ শুরু করা হবে। এদিন একইসঙ্গে কোচবিহার জেলার দ্বিতীয় দীর্ঘতম জয়ী সেতু, কামতেশ্বরী সেতু ও ফায়ার স্টেশনের উদ্বোধন করবেন ভ্যাচুয়াল মাধ্যমে। অন্যদিকে তার উত্তরবঙ্গ সফর ঘিরে কড়া নিরাপত্তার চাঁদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে তার যাতায়াতের রাস্তা। রবিবার সকাল থেকে জেলাশাসক অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিক পুলিশ উত্তরবঙ্গ উৎসবের মঞ্চ সভাস্থল পর্যবেক্ষণ করেন।  


মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে ১০০জন নৃত্যশিল্পীরা সৌভ্রাতৃত্ব ও জাতীয় অখন্ডতার ওপর উদ্বোধনী নৃত্য পরিবেশন করবেন। সোমবার বাগডোগরা দুপুর ২টার পর বিমানবন্দরে নেমে সেখান থেকে ৩টে নাগাদ শিলিগুড়ির কেন্দ্রে বাঘাযতীন পার্ক এর উত্তরবঙ্গ উৎসবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পৌঁছবেন তিনি। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে সেখান থেকে সোজা সড়কপথে শিলিগুড়ি সংলগ্ন ফুলবাড়ি প্রশাসনিক ভবন উত্তরকন্যায় পৌছে সেখানে বিশ্রাম নেবেন তিনি। মঙ্গলবার কোচবিহার ও ফালাকাটার উদ্দেশ্যে বাগডোগড়া বিমানবন্দর থেকে ফের হেলিকপ্টারে রওয়ানা দেবেন। 


পাশাপাশি কোর্টমোড় থেকে বাঘাযতিন পার্কের মুখ্যমন্ত্রীর প্রবেশের গেট পর্যন্ত সারিবদ্ধ ভাবে তেরঙ্গা শাড়িতে হাজারে মহিলারা উলুধ্বনি ও শঙ্খধ্বনি দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানাবেন। মন্ত্রী গৌতম দেব জানান মুখ্যমন্ত্রী একইদিনে আসছেন কিন্তু উত্তরবঙ্গ উৎসবের উদ্বোধন করবেন না তা নিয়ে উত্তরবঙ্গ বাসিক মন খারাপ ছিল। তাই উত্তরবঙ্গ বাসির কথা মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত বদল করে উৎসবের উদ্বোধন করার কথা জানান তিনি। বেলা ১.৩০নাগাদ মৈনাক ট্যুরিস্ট লজ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করা হবে তাঁকে স্বাগত জানাতে। মন্ত্রী জানান মুখ্যমন্ত্রী উত্তরবঙ্গে এলে  উত্তরবঙ্গের মানুষ অপেক্ষা করেন এবারে কি উপহার তাদের জন্য আনতে চলেছে তাদের মুখ্যমন্ত্রী। তাই শিলিগুড়ির কেন্দ্রে বাঘাযতীন পার্ক থেকে উত্তরবঙ্গ বাসীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা রাখতে বলেছেন জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমনটাই মনে করা হচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.