ব্যাংক ডাকাতির ছক বানচাল। গ্রেফতার দুষ্কৃতীরা উদ্ধার আগ্নেয়াস্ত্র
দি নিউজ লায়নঃ একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ভিতরে রাত্রিবাস করে পরিকল্পনা ছিল বড় ডাকাতির। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দা এবং ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নজরে বিষয়টি আসতেই তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে কালিয়াচক থানার সুজাপুর স্ট্যান্ডে। শনিবার দুপুরে স্থানীয় বাসিন্দারাই ডাকাত দলের একজনকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ হাতেনাতে ধরে ফেলে। এরপর গণপিটুনি দেওয়া হয় ওই দুষ্কৃতীকে। এরপর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কালিয়াচক থানার বিশাল পুলিশবাহিনী। পরে এই ঘটনার তদন্তে আসে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ্রামীণ) অনিশ সরকার, ডিএসপি প্রশান্ত দেবনাথ এবং কালিয়াচক থানার আইসি আশিস দাস। তার আগেই পরিস্থিতি সুযোগ বুঝে ব্যাংকে থাকা কয়েকজন দুষ্কৃতী পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ। পরে ওই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কর্তারাও ঘটনাস্থলে আসেন। পুলিশি সহযোগীতায় ব্যাংকের সমস্ত নথিপত্র , টাকা রাখার ভোল্ট খতিয়ে দেখেন ব্যাংকের কর্তারা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত ব্যক্তি তার পরিচয় এবং নাম একেক সময় একেক রকম বলছে। কখনো বলেছে তার বাড়ি গাজোলে, আবার কখনো বলেছে বাংলাদেশে তার বাড়ি। নাম নিয়েও পরিষ্কারভাবে কিছু জানা যায় নি। তবে ধৃত ওই দুষ্কৃতীর কাছ থেকে একটি পাইপগান উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনার পিছনে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কিনা সেটিও তদন্ত করে দেখছে কালিয়াচক থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার নেতাজি সুভাষচন্দ্রের জন্মদিন উপলক্ষে সরকারি ছুটি ছিল। তাতে বন্ধ ছিল সুজাপুর এলাকায় ওই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটি। এদিন দুপুরবেলায় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সংলগ্ন এটিএম কাউন্টার টাকা ভরতে এসেই কর্তৃপক্ষের নজরে পড়ে ব্যাংকের ভিতরে কেউ বা কারা জড়ো হয়েছে। এরপরই এলাকার বাসিন্দাদের খবর দিতেই শোরগোল পড়ে যায়। এরইমধ্যে একজন দুষ্কৃতীকে স্থানীয় বাসিন্দারা হাতেনাতে আগ্নেয়াস্ত্রসহ ধরে ফেলে। বাকি কয়েকজন পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ। তারপরই ক্ষিপ্ত জনতা ওই দুষ্কৃতীকে ব্যাপক গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানতে পেরেছে, ওই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এটিএম কাউন্টার সংলগ্ন এটিএম কাউন্টার রয়েছে। ওই কাউন্টারের কাছে ব্যাংকের জানালার গ্রিলের লোহা কেটে দুষ্কৃতীরা ভেতরে ঢুকেছিল। এরপরই ওদের পরিকল্পনা ছিল রবিবার ছুটির দিন থাকার ফলে শনিবার রাত কাটিয়ে ডাকাতি করে পালাবার। কিন্তু সেই পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছে পুলিশ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। এই ঘটনার খবর পেয়ে ওই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে ঘটনাস্থলে আসেন ব্যাংকের কর্তারা। তাঁরা সমস্ত নথিপত্র, টাকা-পয়সা সবকিছুই খতিয়ে দেখেন। পুলিশ জানিয়েছে, দুষ্কৃতীরা কোন কিছু লুঠ করে নিয়ে যেতে পারি নি।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ মনে করছে, শুক্রবার গভীর রাতেই দুষ্কৃতীরা ওই ব্যাংকের জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে রাত্রিবাস করেছে। এরপর শনিবার ওদের ডাকাতি করার পরিকল্পনা ছিল। রবিবার ছুটির দিন থাকার কারণেই শনিবার রাতে হয়তো ওই দুষ্কৃতী টাকাপয়সা লুট করে ব্যাংক থেকে পালাতো। কিন্তু তার আগেই একজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনায় আর কারা জড়িত রয়েছে তাদের খোঁজ শুরু করেছে কালিয়াচক থানার পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অনিশ সরকার জানিয়েছেন, ব্যাংকের ভেতর থেকে এক দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার আসল নাম এবং পরিচয় এখনো জানা যায় নি। ধৃত ওই দৃষ্টিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অনেক কিছু তথ্য উঠে এসেছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে বড় ধরনের ডাকাতির কোন পরিকল্পনা নিয়েছিল ওই দুষ্কৃতী এবং তার দলবল। তবে এই ঘটনায় আর করা জড়িত রয়েছে, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বাকি দুষ্কৃতীদের খোঁজ চালানো শুরু করেছে কালিয়াচক থানার পুলিশ।

Post a Comment