শুভেন্দু অধিকারী ও রাজীব ব্যানার্জির তীব্র সমালোচনা করলেন শ্রীকান্ত মাহাতো
দি নিউজ লায়নঃ রবিবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনি ব্লকের কামারমুড়ি এলাকায় কেন্দ্রীয় সরকারের কৃষক বিরোধী কৃষি বিল বাতিলের দাবিতে ও কেন্দ্র সরকারের জনস্বার্থবিরোধী নীতির প্রতিবাদে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এক সমাবেশের আয়োজন করা হয়। ওই সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শালবনির বিধায়ক শ্রীকান্ত মাহাতো, তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা কমিটির মুখপাত্র দেবাশীষ চৌধুরী, তৃণমূলের জেলা কমিটির সম্পাদক সুজয় হাজরা, মহম্মদ রফিক, শালবনি ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি নেপাল সিংহ ও শালবনিপঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মিনু কুয়ারী সহ আরো অনেকে।প্রকাশ্য সমাবেশে বিজেপির তীব্র সমালোচনা করে বক্তব্য রাখেন বিধায়ক শ্রীকান্ত মাহাতো।
তিনি তাঁর ভাষণে বলেন তৃণমূল কংগ্রেস দলে থেকে যারা তৃণমূল কংগ্রেসের তলে তলে ক্ষতি করেছিল তারা এখন বিজেপিতে গিয়ে শুদ্ধ হয়েছে। বিজেপিতে গিয়ে বড় বড় কথা বলছেন উন্নয়ন হয়নি বলে ।তাহলে কেন এতদিন বিধায়ক বা মন্ত্রী পদে তারা ছিলেন ।তাদের লজ্জা পাওয়া উচিত। তারা পূর্ণ মন্ত্রী ছিলেন ,গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের, তাহলে তারাও কোনো কাজ করেনি,কেবল দুর্নীতি করেছে। বিজেপি একটি রঘু ডাকাত ,সাম্প্রদায়িক শক্তি। সেই বিজেপির পায়ে গিয়ে তারা মাথা ঢুকালেন। শুভেন্দু অধিকারী ও রাজীব ব্যানার্জি সহ তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে যারা বিজেপিতে যোগদান করেছে তাদের তিনি চ্যালেঞ্জ করে বলেন নিজেদের এলাকায় ভোটে দাঁড়াবেন, যেখান থেকে ২০১৬ সালে বিধায়ক হয়েছিলেন ।সেই এলাকার মানুষ আপনাদের যোগ্য জবাব দেবেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উন্নয়নের প্রতীক। তিনি কি কাজ করেছেন বাংলার মানুষ জানেন। বাংলার প্রতিটি পরিবারে রাজ্য সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। স্বাস্থ্য সাথী কার্ড যদি ভাঁওতা হয় তাহলে কেন দিলীপ ঘোষের পরিবারের লোকেরা স্বাস্থ্য সাথী কার্ড করিয়েছেন তার উত্তর শুভেন্দু অধিকারী ও রাজীব ব্যানার্জি কে দিতে হবে। কারণ ওদের মত গদ্দার আর কেউ নেই। এই গদ্দার বন সহায়ক পদে নিয়োগের সময় ও দুর্নীতি করেছে। তাই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মানুষকে বঞ্চিত করেছেন। তদন্ত হলে বাংলার মানুষ এদের আসল চরিত্র ভালোভাবে বুঝতে পারবেন। তিনি বলেন যারা দলে থেকে দলের ক্ষতি করেন তারা দল থেকে চলে গেছে দলের মঙ্গল হয়েছে। কারণ এরা দলে থাকলে আরো দলের ক্ষতি করত। তাই নির্বাচনের আগে চলে গিয়েছে বলে মানুষ খুশি হয়েছেন।
সেই জন্য তো প্রবীর ঘোষাল এর বিজেপি দলে চলে যাওয়ায় হুগলির উত্তরপাড়ার হিন্দমোটর এলাকার মানুষ গঙ্গা জল দিয়ে শুদ্ধ করছেন। যে একটা পবিত্র জায়গা কে অপবিত্র করেছিলেন প্রবীর ঘোষাল। আর সেই সঙ্গে তিনি বৈশাখী ডালমিয়ার সমালোচনা করে বলেন কাজ না করে শুধু ফেসবুকে বড় বড় কথা বলা। কি কাজ করেছেন উনি, বালি থেকে বিধায়ক হয়েছিলেন শুধু মমতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য ।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় না থাকলে ওনাকে বিধায়ক কোনদিন হতে হতো না। কিন্তু রাজনীতি উনি জানতেন না কিন্তু রাজনীতিতে নাম লিখে যে দল তাকে বিধায়ক করল সেই দলের সমালোচনা করছেন এদের লজ্জা হওয়া উচিৎ ছিল। তিনি বলেন বিজেপি তৃণমূল কংগ্রেসকে দুর্বল করার চেষ্টা করুক না কেন কোন মতেই তৃণমূল কংগ্রেস দুর্বল হবে না। তৃণমূল কংগ্রেস মানুষের দল আগামী দিনেও তৃণমূল কংগ্রেস মানুষ কে সঙ্গে নিয়ে বেঁচে থাকবে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পুনরায় তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃতীয়বারের জন্য বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হবেন। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তিনি আরো বলেন যে কেন্দ্র সরকার এর কৃষক বিরোধী কৃষি বিল বাতিল বাতিলের দাবিতে কৃষকরা আন্দোলন শুরু করেছে। সেই কৃষকদের পাশে কেন্দ্র সরকার নেই ।কিন্তু লোকদেখানো বিজেপি নেতারা বাংলায় এসে কৃষকের বাড়িতে খাচ্ছেন, মুষ্টিভিক্ষা নিচ্ছেন। আসলে ইংরেজদের থেকে আরো বড় খারাপ বিজেপি।তাই এদের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে ।তাই কৃষি বিল বাতিলের দাবিতে তৃণমূল কংগ্রেসের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান। সেই সঙ্গে তিনি বলেন বিজেপি গোটা দেশটাকে বিক্রি করে দেওয়ার চক্রান্ত করছে ।
তাই সারা দেশের মানুষ বিজেপিকে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে যোগ্য জবাব দিবেন। বিজেপি আর কোনদিন ক্ষমতায় আসতে পারবে না। তাই দেশের লাভ জনক সংস্থাগুলোকে বিক্রি করে দেওয়ার চক্রান্ত করছে। ওরা গোটা দেশ কে বিক্রি করে দেওয়ার চক্রান্ত করছে। তাই তিনি সর্বস্তরের মানুষকে তৃণমূলের পাশে থাকার আহ্বান জানান। মেদিনীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত কামারমুড়ি এলাকায় প্রকাশ্য জনসভায় বহু মানুষের সমাগম হয় যা দেখে খুশি তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্ব। তিনি বলেন তৃণমূলের কর্মীরা হলেন দলের আসল সম্পদ।দলের কর্মীরা আগামীদিনে এই অত্যাচারী মিথ্যাবাদী সাম্প্রদায়িক শক্তিকে যেমন বাংলা থেকে উৎখাত করবে , তেমনি যেসব মীরজাফর তৃণমূল থেকে বিজেপিতে গিয়েছে তাদের উপযুক্ত জবাব দেবে।

Post a Comment