বিতর্কিত মন্তব্য করায় অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছে বিশ্বভারতীর উপাচার্য
দি নিউজ লায়নঃ বিতর্কিত মন্তব্য করায় অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছে বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। ভারতের জাতীয় নায়ক বোস কে নিজের লেখা বই এ অপমান করেছে বলে দাবী ছাএছাএীদের।বিশ্বভারতীতে "বহিরাগত" তত্ত্ব বিতর্কের জের মিটতে না মিটতেই, নেতাজীর অবমূল্যায়নের অভিযোগে বিশ্বভারতীতে উপাচার্যের বিরুদ্ধে পোস্টার পড়লো।
জানা গেছে, "নেতাজী সুভাষচন্দ্র বোস এবং মধ্যবিত্ত উগ্রবাদ" নামাঙ্কিত একটি বই লেখেন বিশ্বভারতীর বর্তমান উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী।
বিশ্বভারতীর ছাত্র ঐক্যের তরফে ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয় বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে। তারা ঘটনার ধিক্কার জানিয়ে উপাচার্য দূর হটো শ্লোগান তুলেছেন। তাদের দাবি, বহিরাগত বিতর্কে রবীন্দ্রনাথের পর নতুন করে পুস্তকের মধ্য দিয়ে নেতাজীকে অপমান করা হয়েছে। তারা জানান, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যাকে দেশ নায়ক বলেছেন। যাঁকে তাসের দেশ নাটিকা উৎসর্গ করেছেন, তাঁকে অবমূল্যায়ন করেছেন উপাচার্য।
যদিও জানা গেছে এই বইটি 1990 সালে বিদেশী প্রকাশনায় প্রকাশিত।
সম্প্রতি নেতাজীর জন্মদিন বেশ আড়ম্বর সহকারে পালনে ভূমিকা নেয় দেশের প্রধান মন্ত্রী। এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জয়দীপ মুখোপাধ্যায় এই বই নিয়ে একটি ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে উপাচার্যের নিন্দা করেন। তারপর বিশ্বভারতী ছাত্র ছাত্রী ঐক্যের তরফে তীব্র প্রতিবাধ জানানো হয় বিভিন্ন ভাবে।
গবেষণা ধর্মী এই বইয়ে নেতাজীকে উল্লেখ করা হয়েছে "বোস ব্যর্থ হন, জাতীয় ও আঞ্চলিক নেতা হিসেবে "। এই কথাটি নেতাজীর জন্য অপমানকর বা আপত্তিজনক মনে হয় বিশ্বভারতী ছাত্র ছাত্রীর কাছে। শুধু তাই নয়, নেতাজীর স্বাধীনতা আন্দোলনকে 'বিপ্লবাত্মক সন্ত্রাসবাদ' বলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। উপাচার্য নিজের লেখায় বলেছেন, অরবিন্দ বা তিলকের সহযোদ্ধা হলে কৃতকার্য হতেন।
এই প্রসঙ্গে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ নিরদ চন্দ্র চৌধূরীর উক্তি উদ্ধৃতি দেন এবং তা সমর্থন করেন। উক্তিটি হলো - "নেতাজী প্রাচীন পন্থী ব্যক্তিত্ব। যিনি বিরুদ্ধ অবস্থায় কাজ করেছেন।" শুধু তাই নয়, এই গ্রন্থে উপাচার্য বলেছেন, "কংগ্রেস চেয়েছিল দেশীয় পুঁজিপতিদের রক্ষা করতে। কিন্তু বোস চেয়েছিলেন শ্রমিক স্বার্থ। এখানেই উদ্বেগের কারণ ছিল কংগ্রেসের। জাতীয় মধ্যবিত্ত বুর্জোয়াদের ঐতিহাসিক ভূমিকা ছিল সাম্রাজ্যবাদী সংগ্রামের বিরুদ্ধে। যেটা কংগ্রেসের মন:পুত ছিল না।"বিশ্বভারতীর প্রবীণ আশ্রমিক সুবোধ মিত্র বলেন, আসলে উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী নিজস্ব বোধবুদ্ধি হারিয়ে ফেলেছেন, দিল্লি থেকে বিজেপির নেতারা যেমন বলতে বলছেন তিনি তাই বলছেন। যে উপাচার্য গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্বপ্নের শিক্ষার আশ্রম বিশ্বভারতীর সম্ভ্রম ধুলোয় মিটিয়ে দিয়েছেন তিনি নেতাজীকে নিয়ে উল্টোপাল্টা বলবেন এতে আশ্চর্য হবার কিছু নেই।

Post a Comment