গ্রাহকদের লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতে অভিযুক্ত ডাকঘরের কর্মী গ্রেফতার
দি নিউজ লায়নঃ গ্রাহকদের ৬ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতে অভিযুক্ত ডাকঘরের এক কর্মী প্রায় ৫ বছর আত্মগোপন করে থাকার পর ধরা পড়ল। ধৃতের নাম সৌমেন চক্রবর্তী ওরফে সুমন। ভাতার থানার ভাটাকুলে তার বাড়ি। পুলিস জানিয়েছে, সুমন ভাতার থানার পালার সাব পোস্ট অফিসের কর্মী ছিল। ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে কয়েকজন গ্রাহক তাঁদের সেভিংস ও রেকারিং অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়েনি বলে অভিযোগ করেন। এনিয়ে তাঁরা পোস্ট অফিসে বিক্ষোভ দেখান। এর কয়েকদিন পরই অফিস তালাবন্ধ করে গা-ঢাকা দেয় সুমন।
ভাতার পোস্ট অফিসের ইনসপেক্টর অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ২০ আগস্ট আরও কয়েকজন কর্মীকে নিয়ে পালার সাব পোস্ট অফিসে যান। সেই সময় বেশ কয়েকজন গ্রাহকও সেখানে হাজির হন। তাঁদের উপস্থিতিতে তালা ভেঙে ইনসপেক্টর ভিতরে ঢোকেন। প্রাথমিকভাবে দেখা যায়, বেশ কয়েকজন গ্রাহকের সেভিংস ও রেকারিং পাশ বইয়ে জমা পড়া টাকার পরিমাণ এন্ট্রি করা থাকলেও ডাকঘরের নথিতে তা ছিল না। ১৭ হাজার ৮১৫ টাকা আত্মসাতের বিষয়টি প্রথমে সামনে আসে। পরে ডাকঘরের আভ্যন্তরীণ তদন্তে সুমন ৬ লক্ষ ৬০ হাজার ৫৪৫ টাকা আত্মসাত করেছে বলে জানা যায়। ইনসপেক্টর ঘটনার কথা জানিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সরকারি অর্থ আত্মসাতের ধারায় মামলা রুজু করে তদন্তে নামে পুলিস।
ডাকঘর থেকে বেশকিছু নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়। পুলিসি তদন্তেও অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি ধরা পড়ে। তদন্ত সম্পূর্ণ করে অভিযুক্তকে পলাতক দেখিয়ে ২০১৭ সালের ১৮ জানুয়ারি আদালতে চার্জশিট পেশ করে পুলিস। সুমনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরওয়ানা জারি হয়। তাকে ধরতে তার বাড়ি ও কাটোয়া থানার জামারে শ্বশুরবাড়িতে বেশ কয়েকবার হানা দেয় পুলিস। হদিশ না পেয়ে তার বিরুদ্ধে হুলিয়া জারির আবেদন করে পুলিস। সেই আবেদন মঞ্জুর করে আদালত। পরওয়ানা কার্যকর করে বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ি থেকে পুলিস তাকে গ্রেপ্তার করে। শুক্রবার ধৃতকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়। ধৃতের আইনজীবী আদালতে বলেন, ঘটনার বিষয়ে তাঁর মক্কেলের কিছু জানা নেই। সে ইতিমধ্যেই ডাকঘরে এক লক্ষ টাকা জমা করেছে। সরকারি আইনজীবী অবশ্য জামিনের বিরোধিতা করেন। ধৃতকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়ে শনিবার ফের আদালতে পেশের নির্দেশ দেন ভারপ্রাপ্ত বিচারক।

Post a Comment