গৃহবধূর গায়ে আগুন,চারদিন পরে হাসপাতালে মৃত্যু
দি নিউজ লায়নঃ বাপের বাড়ি থেকে বাইক কেনার টাকা আনতে না পারায় এক গৃহবধূর গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা অভিযোগ উঠেছিল শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে। ঘটনার ৪ দিন পর শুক্রবার সকালে উলুবেরিয়া হাসপাতালে মৃত্যু হল ওই গৃহবধূর। মৃত গৃহবধূর নাম ইয়াসমিনা বেগম (২১)। বাড়ি শ্যামপুরের আইমা গ্রামে।
ঘটনায় মৃত গৃহবধূর দেড় বছরে কন্যা সন্তান ও অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় উলুবেড়িয়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনায় গৃহবধূ পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতার স্বামী শরিফুল মল্লিক, শশুর সাত্তার মল্লিক, শাশুড়ি রওশনা বেগম, ভাসুর রফিকুল মল্লিক ও জা তনুজা বেগমের নামে শ্যামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। যদিও ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা পলাতক।
জানা গেছে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে পেশায় ইটভাটার শ্রমিক শরিফুলের সঙ্গে ইয়াসমিনার বিয়ে হয়। ইয়াসমিন আর পরিবার সূত্রে খবর বিয়ের সময় ছেলের বাড়ির দাবিমতো সোনার গহনা আসবাবপত্র ও নগদ ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। তাদের অভিযোগ বিয়ের প্রথম কয়েক মাস সবকিছু ঠিক থাকলেও তারপর থেকে টাকার দাবিতে ইয়াসমিন আর উপরে অত্যাচার শুরু করে তার শ্বশুরবাড়ির লোকেরা।
এমনকি বছরখানেক আগে তাদের একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেওয়ার পর অত্যাচারের মাত্রা আরও বাড়ে। মৃতার ভাই মুজিবর রহমানের অভিযোগ সম্প্রতি শরিফুল একটি বাইক কেনার জন্য ইয়াসমিনকে টাকার চাপ দিতে থাকে টাকা আনতে না পারলে তাকে পুড়িয়ে মারার হুমকি দেয়। মুজিবরের অভিযোগ গত ২৮ ডিসেম্বর বোনের শশুর বাড়ি পাশের লোকেরা ফোনে আমাদের জানায় ইয়াসমিনা আগুনে পুড়ে গেছে এবং মাকে জড়িয়ে ধরে থাকায় ভাগ্নি ও পুড়ে গেছে। পরে হাসপাতালে আসলে বোন আমাদের সমস্ত ঘটনা বলে। এদিন তিনি অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি করেন।

Post a Comment