সিপিএম ভালো জনসাধারনের কমিটির জন্য নেতাই গ্রামে গণহত্যার ঘটনা ঘটেছে, শুভেন্দু অধিকারী
দি নিউজ লায়নঃ ২০১১ সালের ৭ ই জানুয়ারি ঝাড়গ্রাম জেলার লালগড়ের নেতাই গ্রামে সিপিএম নেতা রথীন দণ্ডপাট এর বাড়িতে থাকা সিপিএমের সশস্ত্র হার্মাদ বাহিনীর গুলিতে ৯ জন গ্রামবাসীর মৃত্যু হয়ও আহত হয় ২৯ জন। তারপর গঙ্গা দিয়ে বয়ে গেছে অনেক জল ।সেই সময় তৃণমূল করতেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি রাজ্যের মন্ত্রী হয়েছিলেন। তিনি তৃণমূল থেকে সাংসদ ছিলেন। কয়েকদিন আগেই তিনি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেছেন ।প্রতি বছর তিনি সিপিএমের হার্মাদ দায়ী করে নেতাই গণহত্যায় অভিযুক্ত সিপিএম নেতাদের শাস্তি দেওয়ার দাবি জানতেন।
কিন্তু নেতাই গণহত্যা দশম বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার নেতাই গ্রামে শহীদ বেদীতে ফুলের মালা দিয়ে তিনি শ্রদ্ধা জানান এরপর শহীদ পরিবারগুলিকে ও আহতদেরকে একটি করে শাল দিয়ে তিনি সংবর্ধনা জানান। সেই সঙ্গে তিনি তাদের হাতে নগদ টাকা তুলে দেন। মোট ৩৮ জনের হাতে শাল ওটাকা তিনি তুলে দেন। এদিন তার সাথে ছিলেন বিজেপির ঝাড়গ্রাম জেলার সভাপতি সুখময় সৎপথি ও সাধারণ সম্পাদক অবনী ঘোষ, তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া রমাপ্রসাদ গিরি, স্নেহাশীষ ভৌমিক,তন্ময় রায়। শহীদ পরিবারগুলিকে ও আহত পরিবারগুলিকে সংবর্ধনা জানানোর পর তিনি নেতাই গণহত্যার জন্য পুলিশি সন্ত্রাসবিরোধী জনসাধারণের কমিটিকে দায়ী করলেন।
তিনি বলেন সিপিএম অনেক ভালো। ওই ঘটনার জন্য সিপিএম দায়ী নয়। দায়ী জনসাধারণের কমিটি।সেই সময় জেলে ছিলেন জনসাধারণের কমিটির নেতা ছত্রধর মাহাতো। যিনি বর্তমানে তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক। শুভেন্দু অধিকারী বলেন এই শহীদ বেদী আমি তৈরি করেছি শহীদ পরিবারগুলির পাশাপাশি আহতদের পরিবারের সাথে আমার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। এই ঘটনার জন্য দায়ী নয় সিপিএম ।সিপিএম অনেক ভালো। তিনি সিপিএমের ভূয়শী প্রশংসা করেন। অথচ সেই সময় রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য নেতাই এর ঘটনার জন্য দলের কর্মীরা দায়ী বলে স্বীকার করেছিলেন। অথচ তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী সিপিএমকে ভালো বলে সার্টিফিকেট দিলেন এবং নেতাই এর ঘটনার জন্য জনসাধারণের কমিটি দায়ী বলে তিনি ঘোষণা করলেন।
সেই শহীদ বেদীতে মালা দেওয়ার পর বললেন ভারত মাতা কি জয়, তারপর বললেন জয় শ্রীরাম ।অথচ তিনি নিজেই বলেন যেখানে শহীদদের স্মৃতি তর্পণ নিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে গোটা এলাকায় তৃনমূলের পতাকা টাঙানো হয়েছে। তিনি যখন তৃণমূলে ছিলেন এই এলাকায় দলীয় কর্মীরা দলীয় পতাকা নিয়ে আসতেন অনুষ্ঠান হত নেতাই শহীদ স্মৃতি রক্ষা কমিটির ব্যানারে। কিন্তু পুরোটাই করত তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। বুধবার রাত্রি দশটা পর্যন্ত নেতাই গ্রাম ছিল বিজেপির পদ্মফুল পতাকায় মোড়া, কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে দেখা গেল বিজেপি তাদের দেওয়া পতাকাগুলি খুলে নিয়েছে। আসলে শুভেন্দু অধিকারী যে নেতাই নিয়ে রাজনীতি শুরু করেছে তা ধরতে পেরেছে নেতাই গ্রামের মানুষ।
তাই শহীদ পরিবারগুলি ও আহতদের পরিবারগুলি ছাড়া নেতাই শহীদ স্মৃতি রক্ষা কমিটির সভাপতি দ্বারিকানাথ পান্ডা সহ ওই এলাকার দুই একজন মাত্র উপস্থিত ছিলেন ।কিন্তু নেতাই গ্রামের ৯০ ভাগ মানুষ শুভেন্দুকে অধিকারী কে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা ওই অনুষ্ঠানে যোগদান করেনি। তারা বলেন নেতাই গণহত্যা ঘটনার দিন থেকে যারা তাদের পাশে ছিলেন তাদের পাশে নেতাই গ্রামের মানুষ রয়েছেন। কারণ সেই সময় ভারতমাতা জয় ,জয় শ্রীরামের কেউ এসে নেতাই গ্রামের মানুষের পাশে দাঁড়ায়নি, পাশে দাঁড়িয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ,পার্থ চট্টোপাধ্যায় তাই শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জঙ্গলমহল জুড়ে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
মাত্র ১০থেকে ১৫ মিনিট থেকে যখন তিনি তার কনভয় নিয়ে ফিরে যাচ্ছিলাম সেই সময় লালগড় বাজারে শুভেন্দু অধিকারী কে বেইমান বলে স্লোগান দেয় বেশকিছু মানুষ ।যার ফলে হকচকিয়ে যায় ওই এলাকায় থাকা বিশাল পুলিশবাহিনী। তারা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু ওই এলাকায় থাকা উত্তেজিত জনতা মীরজাফর, শুভেন্দু অধিকারী বেইমান শুভেন্দু অধিকারী গো ব্যাক বলে স্লোগান দেয়। জঙ্গলমহল থেকে শুভেন্দু কে এমন কথা শুনতে হবে তিনি কোনোদিন ভাবতে পারেনি। তাই এদিন আর জঙ্গলমহলের ভূমিপুত্র মুক্তি সূর্য বলে তার মুখে কোন কথা শোনা যায়নি।

Post a Comment