পুলিশ কন্সটেবলের স্ত্রীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধারে চাঞ্চল্য রায়গঞ্জ
দি নিউজ লায়নঃ পুলিশ কর্মীর স্ত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য রায়গঞ্জে। রায়গঞ্জ শহর লাগোয়া মাড়াইকুড়া গ্রামের ফ্যাক্টরিপাড়া এলাকা থেকে মনিষা দাস নামে ওই গৃহবধুর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তবে ওই গৃহবধূ আত্মঘাতী হননি, তাকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন মৃতার বাপের বাড়ির লোকেরা। যদিও অভিযুক্তদের তরফে কোনো বক্তব্য মেলেনি।
মৃতার পরিবার সুত্রে জানা গিয়েছে, মালদার গাজোলের বাসিন্দা মনিষার বছর সাতেক আগে বিয়ে হয় ফ্যাক্টরি পাড়ার বাসিন্দা রাজ্য পুলিশের কন্সটেবল পদে কর্মরত মনোজিৎ দাসের সঙ্গে। মনোজিৎ রায়গঞ্জের কসবায় চতুর্থ আরক্ষা বাহিনীতে কন্সটেবল পদে নিযুক্ত রয়েছেন। তবুও বিয়ের পর থেকে মনিষার স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকেরা একাধিকবার বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য মনিষাকে জোড় করত, এমনকি তার উপর টাকার দাবীতে শারিরীক ও মানষিক নির্যাতনও চালানো হোত বলে অভিযোগ।
তেমনই কিছুদিন আগেও একইভাবে বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য মনিষার উপর চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ। কিন্তু তৎক্ষনাৎ টাকা এনে দিতে না পাড়ায় মেয়ের উপর শারিরীক নির্যাতন করায় তা সহ্য করতে না পেরেই মনিষা আত্মঘাতী হয়ে থাকতে পারে বলে মৃতার বাবার অভিযোগ। যদিও মৃতার বাপের বাড়ির লোকেদের একাংশের অভিমত তাকে শারিরীক নির্যাতন করে খুন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতেই বাড়ি থেকে মৃতদেহ নিয়ে সবার অগোচরে রায়গঞ্জ মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে মৃতার বাপের বাড়ির লোকেদের অভিযোগ। মৃতার বাবা হারাধন দাসের বক্তব্য, "আমার মেয়ের উপর শারিরীক নির্যাতন চলত। গতকাল রাতে মেয়ে ফাসি দিয়েছে বলে খবর পেয়ে আসি।
দোষিদের কঠোর শাস্তি চাই।" পাশাপাশি মৃতার আত্মীয় ভবেশ দাসের দাবী, "ওর পায়ে আঘাতের চিহ্ন আছে। যাতে মনে হচ্ছে ওকে খুন করা হয়েছে। আমরা চাই পুলিশ সঠিক তদন্ত করুক।" যদিও এই বিষয়ে অভিযুক্তদের পক্ষে কোনো বক্তব্য মেলেনি। তবে মৃতার স্বামী পলাতক বলে মৃতার বাপের বাড়ির লোকেরা জানিয়েছেন। এদিকে শুক্রবার দুপুরে রায়গঞ্জ গভঃ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃতদেহের ময়না তদন্ত করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ।

Post a Comment