পৌষ পার্বন বা বাউনি, শীতকাল আসলে এখনো দেখা মেলে ঢেঁকির
দি নিউজ লায়নঃ আর কয়েক দিন পর পৌষ পার্বন ।আর এই পৌষ পার্বন ঘিরে এখন থেকে চলছে তোর জোর। আগে তেমন মেশিন ছিল না চাল গুঁড়ো করার জন্য ঢেঁকি ব্যাবহার হতো আধুনিকতার দৌলতে তা দেখায় যায় না ।তবে নদিয়ার বিভিন্ন গ্রামে দুই একটি পৌষ পার্বন ও নবান্ন এর জন্য দেখা যায় ।প্রায় ছয় ফুট লম্বা কাঠের গুড়ি দিয়ে তৈরি ঢেঁকির অগ্রভাগে মাথার কাছাকাছি দেড় ফুট লম্বা মনাইয়ের মাথায় পরানো থাকে লোহার রিং যা আঞ্চলিক ভাষায় "চুরণ"অর্থাৎ আঘাত করার অংশ।
বিপরীত ক্ষেত্রে চুরণ যেখানে বারবার ধাক্কা দেয়, সেই অংশের নাম গর। সেটিও কাঠের তৈরি মাটিতে পোঁতা থাকে। ঢেঁকির একেবারে পেছনে লেজ বিশিষ্ট চ্যাপ্টা অংশে প্রয়োজন অনুযায়ী এক বা দুই জন মহিলার চাপ দেওয়ার ফলে মনাই ওঠানামার ছান্দিক ভাবে গরের মধ্যে থাকা খাদ্যবস্তুর সঠিক সময় নেড়ে দেওয়া বা অলি দেওয়ার মাধ্যমে, বিভিন্ন খাদ্যশস্যের খোসা ছাড়ানো ভাঙ্গানোর সুবিধা লাভ হয়। গ্রামবাংলায় ঢেঁকিতে পাড় দেওয়ার সময় বিভিন্ন গান প্রচলিত ছিলো তালের সমন্বয় রক্ষা করার জন্য। এমনকি বিয়ের সময় বা এই শীতকালীন নবান্ন সময় ঢেঁকি পূজিত হতো বেশকিছু পরিবারে।
বিজ্ঞানের উন্নতিতে অত্যাধুনিক যন্ত্রের আবির্ভাবে বর্তমানে বিলুপ্তের পথে ঢেঁকি।
কলাই, মটর, মসুর, ছোলা, আয়রি নানা ধরনের ডাল , গম ধান, তিল তিসি নানা খাদ্যশস্য খোসা ছাড়ানো বা ভাঙতে, এমনকি হলুদ জিরের মতো কিছু মসলার গুঁড়ো সে আমলে সবটাই হতো এই ঢেঁকির সাহায্য। বর্তমানে অবশ্য শুধুমাত্র শীতকাল আসলেই পৌষ পার্বণের জন্য চাল ভাঙতে, গ্রাম বাংলার দু একটি পরিবারে রয়েছে ঢেঁকির ব্যাবহার।


Post a Comment