পাঁচ দিন ধরে মৃত মায়ের দেহ আগলে ছেলে, চোপড়ায় চাঞ্চল্য
দি নিউজ লায়নঃ কলকাতার রবিনসন স্ট্রিট কাণ্ডের ছায়া এবার উত্তর দিনাজপুরে। পাঁচ দিন আগে মৃত মায়ের পচাগলা মৃতদেহ ঘরে আগলে বসে থাকল ছেলে। চোপড়া থানার সুভাষনগর এলাকার এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। এলাকায় পচা গন্ধ বের হওয়ার তার উৎস খুঁজতে গিয়ে এই তথ্য বেরিয়ে আসে। চোপড়া থানা পুলিশ রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী নামের বছর ৬০ এর ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি মৃত মা কুসুম চক্রবর্তীর মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।
স্থানীয় সুত্রে খবর, গত শনিবার রাত থেকেই পচা গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছিলেন এলাকার বাসিন্দারা। খোঁজ চলছিল সেই গন্ধের উৎস কোথায়। পাশাপাশি এলাকার অশিতীপর দরিদ্র বৃদ্ধা কুসুম চক্রবর্তীর বেশ কয়েকদিন থেকে দেখা মিলছিল না বলে অভিযোগ। কুসুম দেবী তার মানসিক অবসাদগ্রস্ত ছেলে রামকৃষ্ণ চক্রবর্তীর সঙ্গে সুভাষ নগরের শেষপ্রান্তে একটি ছোটো ঘরে বাস করতেন। রামকৃষ্ণ বাবুর সামান্য মানসিক সমস্যা ছিল বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। এদিকে রবিবার সকালে এলাকার বাসিন্দারা রামকৃষ্ণ বাবুর কাছে তার মায়ের খবর জানতে চাইলে অবলীলায় রামকৃষ্ণ বাবু জানান মা চারদিন হলো মারা গেছে, মৃতদেহ ঘরেই রাখা আছে।
সেই মুহূর্তে লোকজন এলাকার বাসিন্দারা চোপড়া থানায় খবর দেয়। পুলিশ এসে রামকৃষ্ণ চক্রবর্তীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কুসুম চক্রবর্তীর পচা গলা মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের পাঠিয়েছে। এদিকে তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিকদের প্রাথমিক ধারণা বার্ধক্য জনিত অসুস্থতার কারনেই হয়ত বা মারা গেছেন কুসুম চক্রবর্তী। মানসিক অবসাদগ্রস্ত ছেলে রামকৃষ্ণ যা কাউকে জানাতে পারেনি। তবে কুসুম দেবীর মৃত্যুর অন্য কোনো কারন আছে কিনা সে সমস্ত বিষয় নিয়েই তদন্ত শুরু হয়েছে বলে ইসলামপুর পুলিশ জেলার সুপার শচীন মক্কার জানিয়েছেন।

Post a Comment