মধ্যরাতে মুর্শিদাবাদের শতাব্দীপ্রাচীন শহরে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে সামনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, বিপুল টাকার ক্ষয়ক্ষতি - The News Lion

মধ্যরাতে মুর্শিদাবাদের শতাব্দীপ্রাচীন শহরে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে সামনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, বিপুল টাকার ক্ষয়ক্ষতি

 


দি নিউজ লায়নঃ      মুর্শিদাবাদের প্রাচীন শহর রঘুনাথগঞ্জে শুক্রবার মধ্যরাতে জঙ্গিপুর মহাকুমা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল সংলগ্ন দাদা ঠাকুর মোড় এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের গ্রাসে পড়ে ভষ্মিভূত হলো এক এক করে প্রায় পরপর পাঁচটি দোকান।সব মিলিয়ে বিপুল লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।  এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো শহর জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। ঢিল ছোড়া দূরত্বে মহাকুমা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল গেট অবস্থান করায় হাসপাতালে রোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয় আগুন ছড়িয়ে পড়া কে কেন্দ্র করে। কার্যত অল্পের জন্য কোনরকমে রক্ষা পায় হাসপাতাল চত্বর বলে স্থানীয়রা জানায়।পাশাপাশি বাম আমলের উদাসীনতার এত প্রাচীন পৌরসভা এলাকায় আজও পর্যন্ত দমকল কেন্দ্র গড়ে না ওঠায় এই বীভৎস অগ্নিকাণ্ডস্থানীয় ব্যবসায়ী মহল থেকে শুরু করে শহরবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। 


ফুলতলা এলাকার এক ব্যবসায়ী তাজমুল শেখ বলেন," দীর্ঘদিন ধরে আমরা এখানে পুরসভা এলাকায় ব্যবসা করছি, অথচ ভোট আসে ভোট যাই কিন্তু আজও পর্যন্ত একটা দমকল কেন্দ্র পর্যন্ত গড়ে ওঠেনি।কার্যত প্রাণ হাতে নিয়েই এই ভাবে কাজ চালাতে হচ্ছে।যেকোনো মুহূর্তে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে প্রাণহানি ঘটতে পারে তখন তার দায় কে নেবে?"। প্রসঙ্গত, বিগত পাঁচ ছয় বছরে প্রায় দেড়শ বছরের অধিক পুরাতন জঙ্গিপুর পৌরসভা এলাকার অধীন রঘুনাথগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্রে একাধিক বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এমন কি মার্কেট কমপ্লেক্স থেকে শুরু করে শহরের বুকে বেসরকারি নার্সিং হোম, চিটফান্ডের অফিস আগুনে ভস্মীভূত হয়ে গেছে মানুষের চোখের সামনে। অথচ এত কিছুর পরেও প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী এই শহরে গড়ে ওঠেনি দমকল কেন্দ্র। এদিকে এদিন মধ্যরাতে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরই স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীরা ছুটে এসে আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগাই।


পাশাপাশি রঘুনাথগঞ্জ থানার বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে আসে। পরবর্তীতে খবর পেয়ে পার্শ্ববর্তী সামশেরগঞ্জ থানার অন্তর্গত ধুলিয়ান থেকে দমকলের একাধিক ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় আগুন নেভানোর জন্য। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো এদিনও রাতে ব্যস্ততম হাসপাতাল রোডের পাশের ব্যবসায়ীরা তাদের দোকান বন্ধ করার তোড়জোড় করছিল। এমন সময় কোন ভাবে একটি দোকানে সম্ভবত শটসার্কিট থেকে প্রথম আগুন লাগে। তারপর এই মুহূর্তে কার্যত জতুগৃহের চেহারা নেয়। কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পরপর একাধিক দোকানে। অধিকাংশ ফলের দোকান থেকে শুরু করে, রেডিমেট পোশাক,ব্যাগ, স্টেশনারি সামগ্রীর দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। 


আগুনের লেলিহান শিখা দেখে আশেপাশের অন্যান্য ব্যবসায়ীরা হুরমুড়িয়ে দোকান ছেড়ে কয়েকশো মিটার দূরে চলে আসে। এরইমধ্যে দোকানে মজুদ করে রাখা একটি সিলিন্ডার ব্লাস্ট করে বলেই স্থানীয়রা জানায়। তার ফলে আগুনের তীব্রতা আরোও বেড়ে যায়। যাতে সেই আগুন সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল এর মধ্যে প্রবেশ করতে না পারে সেই জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি গেট বন্ধ করে আগুন নেভানোর কাজে স্থানীয়দের সাহায্য করে। শত চেষ্টা করেও ব্যবসায়ীরা তাদের দোকানের মূল্যবান জিনিসপত্র আগুনের লেলিহান শিখা থেকে বাঁচাতে ব্যর্থ হয়। ফলে এমন অবস্থায় চারিদিকে হা-হুতাশ করতে থাকেন ওই অসহায় ব্যবসায়ীরা। যদিও শেষ পাওয়া খবরে এই বীভৎস অগ্নিকাণ্ডে এখনো পর্যন্ত কারো মৃত্যুর খবর মিলেনি। স্থানীয় জঙ্গিপুর পৌরসভার পৌর প্রশাসক মোজাহারুল ইসলাম বলেন," মানুষ বাম আমল থেকেই শহরের বুকে দমকল কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে। আমরাও চেষ্টা করছি যাতে ওই দাবি দ্রুত পূরণ করা যায়"।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.