শ্রমিকদের মজুরি বাবদ পাওনা দেড় কোটি টাকা আদায়ের জন্য অপহরণ বেসরকারি সংস্থার কনস্ট্রাকশন ম্যানেজার
দি নিউজ লায়নঃ অপহরণ কান্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এলো। পুলিস সূত্রে জানাভ যায়, শ্রমিকদের মজুরি বাবদ পাওনা দেড় কোটি টাকা আদায়ের জন্য বেসরকারি সংস্থার কনস্ট্রাকশন ম্যানেজার সুজিত কুমার চক্রবর্তীকে অপহরণ করা হয়। মহারাষ্ট্রের একটি সংস্থাকে মালদহ থেকে শ্রমিক সরবরাহ করা হয়েছিল। দু’টি সংস্থা মিলে রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদের কাজ করেছে। মহারাষ্ট্রের সংস্থাটি টাকা না দিয়ে চলে গিয়েছে। সেই টাকা আদায় করার জন্য অপর সংস্থার কনস্ট্রাকশন ম্যানেজারকে অপহরণ করা হয় বলে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জেনেছে পুলিস। অপহরণের পর ফোন করে পাওনা টাকা মিটিয়ে দেওয়ার জন্য বলে অপহরণকারীরা।
এরপর পুলিস ফোনের সূত্র ধরে চার জনকে গ্রেপ্তার করে। অপহৃত নিজেও ফোন করে মজুরির টাকা আদায়ের জন্য তাঁকে অপহরণ করা হয়েছে বলে ফোন করে সংস্থার কর্তাদের জানান। ফোনের টাওয়ার লোকেশন চিহ্নিত করে অপহরণকারীদের অবস্থানের বিষয়ে নিশ্চিত হয় পুলিস। অপহরণে অপহৃতের এক পরিচিত জড়িত বলে জানতে পেরেছে পুলিস। যদিও তাকে এখনও ধরতে পারেনি পুলিস। ঘটনায় ধৃত শেখ সাজ্জাদ, শেখ মনোরাজ, মহম্মদ সাকিব আলি ও আব্দুল হান্নানকে শনিবার বর্ধমান সিজেএম আদালতে পেশ করা হয়। অপহরণে দু’টি গাড়ি ব্যবহার করা হয়। সেই গাড়িদুটি উদ্ধারের জন্য এবং ফোন উদ্ধারের জন্য ও বাকি জড়িতদের হদিশ পেতে ধৃতদের ৫ দিন পুলিসি হেফাজতে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন জানান তদন্তকারী অফিসার। সেই আবেদন মঞ্জুর করেন বিচারক। পুলিস জানিয়েছে, হুগলির মানকুণ্ডুতে সুজিতবাবুর আদি বাড়ি। বর্ধমান শহরের গোদার দাসপাড়ায় বাড়িভাড়া নিয়ে থাকেন তিনি।
বৃহস্পতিবার রাতে তিনি শহরের রেনেসাঁ এলাকার অফিস থেকে গাড়িতে চেপে তিনি ভাড়া বাড়িতে ফিরছিলেন। সেই সময় তাঁর কাছে এক পরিচিতের ফোন আসে। ফোন পেয়ে তিনি অফিসের গাড়ি ছেড়ে দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর পুরানো সহকর্মী সেখানে পৌঁছান। অনেকদিন পর দেখা হওয়ার কথা বলে সেই পরিচিত তাঁকে গাড়িতে চাপিয়ে চা খেতে যাওয়ার কথা বলেন। সরল বিশ্বাসে তিনি গাড়িতে চেপে পড়েন। পরেরদিন সকালে সংস্থার কর্তা পিকে বসুর কাছে একটি ফোন আসে। তাতে সহযোগী সংস্থার বকেয়া টাকা আদায়ের জন্য অপহরণের কথা বলা হয়। এরপরই তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

Post a Comment