নেতাজির স্মৃতি আগলে রেখেছেন পুরাতন মালদার কর্মকার পরিবার - The News Lion

নেতাজির স্মৃতি আগলে রেখেছেন পুরাতন মালদার কর্মকার পরিবার

 


দি নিউজ লায়নঃ   নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ডাকে মালদায় প্রথম অধিবেশনে যোগ দিয়েছিলেন বাবা, ঠাকুরদা'রা। হাত মিলিয়েছিলেন দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের  প্রাণপুরুষের সঙ্গে। আর সেই সময়কার দেওয়া সম্মেলনের চিঠি আজও যত্ন করে বাঁধিয়ে রেখেছেন পুরাতন মালদার কর্মকার পরিবার। বাবা, ঠাকুরদা গত হয়েছেন। কিন্তু নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সেই সম্মেলনে চিঠি এখনো ফাইলে যত্ন সহকারে রেখে দিয়েছেন ওই পরিবারের গৃহকর্তা মাখন চন্দ্র কর্মকার। আজ নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৫ তম জন্মদিন উপলক্ষে পূর্বপুরুষের স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়েছে কর্মকার পরিবারকে।  সেই সম্মেলনের চিঠি বুকে ধরেই দেশের প্রাণপুরুষ নেতাজির সম্পর্কে কিছু কথা বলেন গৃহকর্তা মাখনবাবু। 


তিনি বলেন, বাবা এবং ঠাকুরদার কাছ থেকেই নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু'র সম্পর্কে শুনেছি। তিনি  ১৯৩৮ সালে মালদার নঘোরিয়া এলাকায় প্রথম একটি সম্মেলন করতে এসেছিলেন। সেখানে জাতি-ধর্ম-নির্বিশেষে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আর সেই সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন আমাদের পরিবারের পূর্বপুরুষেরা। হাত মিলিয়েছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী ওই বীরপুরুষের সঙ্গে। এর থেকে আর গর্বের কিছু হতে পারে না। প্রতিবছরই যখন নেতাজী সুভাষ চন্দ্রের জন্ম দিবস পালিত হয় দেশজুড়ে। তখনই সেই সম্মেলনের চিঠি কর্মকার পরিবারকে মনে করিয়ে দেয় পুরনো দিনের কিছু কথা। উল্লেখ্য, পুরাতন মালদার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের মঙ্গলবাড়ী ঘোষপাড়া এলাকার বাসিন্দা পেশায় সরকারি কর্মী মাখন চন্দ্র কর্মকার।


 পরিবারের স্ত্রী জোসনা কর্মকার এবং দুই সাবালক ছেলে রয়েছে। মাখনবাবুর বাবা রামকমল কর্মকার এবং ঠাকুরদার ঘিশু কর্মকার বহু বছর আগে প্রয়াত হয়েছেন। তারা একসময় স্বাধীনতা সংগ্রামীদের পাশে থেকে দেশের হয়ে কাজ করেছেন। আর সেই সময়ে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোসের আদর্শকে মেনে নিয়েই রামকমল বাবু এবং তার বাবা ঘিশু কর্মকার নানান আন্দোলন এবং সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন।মাখনবাবুর কাছে থাকা যে চিঠিটি রয়েছে তাতে উল্লেখ করা আছে যে , মালদা জেলার রাষ্ট্রীয় সম্মেলন। যার প্রধান অতিথি সংগ্রামী নেতা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস। ১৯৩৮ সালের ৪ এবং ৫ জুন এই সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয় মালদা জেলার ইংলিশ বাজার ব্লকের নঘোরিয়া এলাকায়। সেখানে যোগ দিয়েছিলেন মাখন বাবুর বাবা রামকমল কর্মকার এবং ঠাকুরদা ঘিশু কর্মকার।


 সেই সময় নাকি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ছিলেন তাঁরা। এই সম্মেলনে যোগ দিয়ে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সংগ্রামী লড়াইয়ে সামিল হয়েছিলেন কর্মকার পরিবারের পূর্বপুরুষেরা। আর তারপর থেকেই সেই সম্মেলনে চিঠি আজ নিজেদের কাছে যত্ন সহকারে রেখে দিয়েছেন। মাখন চন্দ্র কর্মকার বলেন, বাবা , ঠাকুরদার মুখে শুনেছিলাম নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস মালদা এসেছিলেন। তিনি দেশের হয়ে কিভাবে সংগ্রাম করে স্বাধীনতার আনার চেষ্টা চালিয়েছিলেন। ভারতের বীরপুরুষ সেই নেতাজির গল্প আজ ২৩  জানুয়ারির প্রাক্কালে মনে করিয়ে দেয় অনেক কথা।  আর সেই কথাই পরিবারের লোকেদের সঙ্গে ভাগ করে নেন গৃহকর্তা মাখন চন্দ্র কর্মকার।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.