একদিকে করোনা অন্যদিকে খামখেয়ালি আবহাওয়ায় ক্ষতির মুখে মৌমাছি প্রতিপালন
দি নিউজ লায়নঃ করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে একদিকে টানা লকডাউন। তার ওপর শীতের মরশুমে শুরু হতেই ঘন কুয়াশায় জেরে জেরবার মধু চাষীরা। প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো এবং রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করতে না পারায় মধু চাষে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কয়েক হাজার চাষি। এমনকি বাক্সের মধ্যে ধাকা মৌমাছির'ও মৃত্যু হচ্ছে বলে দাবি করেছেন চাষিরা। এর ফলে মধু উৎপাদন অনেকটাই কমে গিয়েছে। এমন কি লকডাউন এবং করোনা সংক্রমনের মধ্যে নতুন বছরের শুরুতে উৎপাদিত মধু প্রচুর পরিমাণে বেঁচে গিয়েছে।
যেগুলো এবছর বিক্রি করতে পারি নি চাষিরা। তার ওপর এখন ঘন কুয়াশার পড়া শুরু হতেই নানান সমস্যায় জেরবার হয়ে পড়েছেন পুরাতন মালদা ব্লকের সাহাপুর , মুচিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কয়েক হাজার চাষী। এব্যাপারে সরকার এবং প্রশাসনের সহযোগিতা পাওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন চাষীরা। উল্লেখ্য , মালদা জেলার মধ্যে সর্ববৃহৎ মধু চাষ হয়ে থাকে পুরাতন মালদা ব্লকের সাহাপুর এবং মুচিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। এই দুই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রায় আড়াই হাজার চাষি মধু চাষের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। কিন্তু চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে করোনা সংক্রমন ঠেকাতে লকডাউন শুরু হয়। আর তাতেই ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন মধু চাষীরা।
লকডাউন উঠে যাবার পর অক্টোবর মাস থেকে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিকের দিকে এগোলেও এখন শুরু হয়েছে শীতের প্রকোপ। আর ঘন কুয়াশা পড়তে এখন কাঠের বাক্স থেকে মৌমাছির দল আর মধু সংগ্রহের জন্য বাইরে বেরোচ্ছে না। যার জন্য এখন বেশি দাম দিয়ে চিনি কিনে কাঠের বাক্সে মৌমাছির খাবারের জন্য চাষীদের দিতে হচ্ছে। এমনকি ঘন কুয়াশার জেরে মৌমাছির মৃত্যু হচ্ছে বলে দাবি করেছেন অনেক চাষিরা। সাহাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের চরকাদেপুর, বালাসাহাপুর এলাকার মৌ-চাষি পবন মন্ডল, কার্তিক মন্ডল , সুমন্ত দাস বলেন, শীতের মরশুম শুরু হতেই সরষের ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে মৌমাছির দল। কাঠের বাক্সে জমায়েত করে সেখান থেকেই মধুর রস সংগ্রহ করা হয়ে থাকে।
কৃত্তিম উপায়ে কাঠের বাক্সে ৬ থেকে ৭ টি ফ্রেম তৈরি করা হয়ে থাকে। যেখানে ফুলের রস থেকে মধু তৈরি করে মৌমাছির দল। এরপরই মধু তৈরি হয়। পরবর্তীতে সেইসব কাঠের বাক্সগুলো থেকে মধু সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। ওই মৌ-পালকদের বক্তব্য , মধুর দাম অনেক কমে গিয়েছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা কিলো মধু এখন ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অনেক বাক্সে ঘন কুয়াশার জেরে মৌমাছি মরে যাচ্ছে। ঠান্ডা ও কুয়াশার জন্য কাঠের বাক্স থেকে মৌমাছি দল বাইরে বেরিয়ে ফুলের রস সংগ্রহ করছে না। যার ফলে বেশি দাম দিয়ে চিনি কিনে কাঠের বাক্সে দিতে হচ্ছে। এছাড়াও গত বছরের উৎপাদিত প্রচুর মধু থেকে গিয়েছে। লকডাউন এবং করোনা সংক্রমনের জেরে সেই মধু বিক্রি করতে পারি নি।
একজন চাষী ১০০ থেকে ১৫০টি কাঠের বাক্সে মৌমাছি পালন করে থাকেন। যার থেকে বিপুল পরিমাণ মধু উৎপাদন হয় । কিন্তু এবার সব দিকেই সমস্যায় জেরবার মৌ পালকেরা। এই অবস্থায় সরকার এবং প্রশাসনের সহযোগিতা অনুরোধ আমরা জানিয়েছি। প্রশাসনিক সহযোগিতা না পেলে বহু মৌ-পালকদের পথে পথে যেতে হবে। পুরাতন মালদা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মৃণালিনী মন্ডল মাইতি জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের তরফ থেকে চাষিদের বিভিন্ন ধরনের প্রকল্পের মাধ্যমে সহযোগিতা করা হচ্ছে। মৌ-পালকদের এই সমস্যার কথা শুনেছি। তাদেরও বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

Post a Comment