মোবাইল চোর সন্দেহে শিশুর ওপর নির্মম অত্যাচারের অভিযোগ পুলিশি হস্তক্ষেপে উদ্ধার
দি নিউজ লায়নঃ মোবাইল চোর সন্দেহে দশ বছরের এক শিশুর ওপর নির্মম অত্যাচার চালানোর অভিযোগ উঠলো স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে । এমনকি শীতের সকালে বিবস্ত্র করে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে পেটানো হয় ওই শিশুকে বলে অভিযোগ। রবিবার বিকেলে মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে ইংরেজবাজার থানার কোতুয়ালি গ্রাম পঞ্চায়েতের কোতোয়ালি বাজার এলাকায়। ওই শিশুর ওপর নির্মম ভাবে অত্যাচার চালানো প্রতিবাদে সরব হন স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান থেকে একাংশ বাসিন্দারা। এনিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বচসাও তৈরি হয়। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ইংরেজবাজার থানার পুলিশ। উন্মত্ত জনতার হাত থেকে ওই শিশুকে উদ্ধার করে পুলিশ। সেই সময় ছবি করতে গিয়ে সাংবাদিকদের একাংশ ক্ষিপ্ত যুবকেরা বাধা দেয় বলে অভিযোগ। পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এদিকে এই ঘটনায় আক্রান্ত শিশুর পরিবার পাল্টা লিখিত অভিযোগ দায়ের করার কথা জানিয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কোতোয়ালি বাজার এলাকায় রবিবার বিকালে বাজার বসেছিল। সেখানে ১০ বছরের শিশুকে মোবাইল চোর সন্দেহে শীতের মরসুমে জামা খুলে কাঁচা বেতের কঞ্চি দিয়ে ব্যাপক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনার প্রতিবাদ করেন কিছু মানুষ। তখন ওই যুবকদের সাথে বাদানুবাদ শুরু হয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কোতোয়ালি গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান তরুণ গোস্বামী ।তিনি বলেন, চোর সন্দেহে ১০ বছরের এক শিশুকে অমানবিকভাবে প্রহার করা হয়েছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না। এরজন্য আইন আছে। দোষ-ত্রুটি যাই থাকুক না কেন সেটা আইন দেখবে। এভাবে আইন কারো হাতে তুলে নেওয়াটা ঠিক নয়।
যারা ওই শিশুকে মারধর করেছে তাদেরকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ওই শিশুটিকে জখম অবস্থায় উদ্ধার করে নিয়ে যায়। যদিও একাংশ মানুষদের অভিযোগ, ওই শিশুটি চুরির কাজে রীতিমতো প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। তাকে দিয়ে কেপমারের দল বাজারে চুরি হঠাৎ তৎপর হয়ে উঠেছিল। এদির জনৈক এক ব্যক্তির পকেট থেকে মোবাইল চুরি করে পালাচ্ছিল ওই শিশুটি। তখনই তাকেহাতে ধরে নেওয়া হয়। কিছু মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে চড় থাপ্পড় মারে। এদিকে জখম শিশুর এক আত্মীয় জানিয়েছেন, চোর সন্দেহে তাদের পরিবারের ছেলেকে মারধর করা হয়েছে। এব্যাপারে পুলিশে নালিশ জানাব। ইংরেজবাজার থানার পুলিশ জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ না হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসার পর শিশুকে তার বাড়ির লোকেদের তুলে দেওয়া হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

Post a Comment