শিলিগুড়ি বেঙ্গল সাফারি তে শচীন নামক লেপার্ডের মৃত্যু
দি নিউজ লায়নঃ বছর ঘুরতেই বেঙ্গল সাফারির শিরোনামে ফের দুরন্ত চিতা শচীন। দুরন্ত চিতাবাঘ শচীনের মৃত্যুর ঘটনার শোকের ছায়া নেমে এলো সাফারি জুড়ে। বন্যপ্রাণ উদ্যান সাফারির ফেন্সিং টপকে পালিয়ে যাওয়ার এক বছরের মাথায় মৃত্যু হলো দুরন্ত চিতা শচীনের। ডাকাবুকো দুরন্ত স্বভাবেই বেঙ্গল সাফারি জুড়ে খ্যাত চিতাবাঘ শচীন। শনিবার দুপুরে সাফারিতে মৃত্যু হয় তার।
সাফারি পার্কের ডিরেক্টর বাদল দেবনাথ জানান দু -তিনদিন ধরেই অসুস্থ্য ছিল সে।দার্জিলিং জুয়ের বন্যপ্রাণ চিকিৎসক, কালিম্পঙ এর এসিট্যান্ট বন্যপ্রাণ ডিরেক্টর ও সাফারির চিকিৎসক নিক দোলে সহ মোট তিনজন চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছিল চিতাবাঘ শচীনের। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় শনিবার মৃত্যু হয়। বেঙ্গল সাফারির চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান হৃদযন্ত্র ও শ্বাসযন্ত্র বিকল হয়ে চিতাবাঘটির মৃত্যু হয়েছে। বন্যপ্রাণ আইন অনুযায়ী তার সৎকার্য করা হয়েছে। সাফারি সূত্রে জানা গিয়েছে তিন চারদিন যাবৎ হাঁটাচলা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেয় সে।
শরীরে দুর্বলতা লক্ষ করেই দার্জিলিং জুয়ের চিকিৎসক ও কালিম্পঙএর বন্যপ্রাণ এসিস্টেন্ট ডিরেক্টরকে তার চিকিৎসার জন্য ডেকে পাঠানো হয় বেঙ্গল সাফারিতে। সাফারির চিকিৎসক নিক দোলে সহ এই তিনজন চিকিৎসকের দলের দায়িত্বে চিতাবাঘ শচীনের চিকিৎসা চলে। দু তিনদিন ধরে তার খাওয়া দাওয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাকে স্যালাইনের মাধ্যমে খাবার দেওয়া হচ্ছিল তবে চিকিৎসার পরও ফেরানো সম্ভব হলো না শচীনকে। তার শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যা দেখা দিতে লাগে। সাফারির চিকিৎসক নিক দোলে জানান প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ হিসেবে জানা যাচ্ছে হৃদযন্ত্র ও শ্বসনতন্ত্র বিকল হয়ে মৃত্যু হয়েছে চিতাবাঘ শচীনের।
সাফারি সূত্রের খবর চিতা শচীনের অভ্যন্তরীণ দেহাংশ যকৃৎ,কিডনি,লিভার ময়নাতদন্তের পর নমুনা স্বরূপ উচ্চ পর্যায়ের পরীক্ষার জন্য কলকাতার ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। সেই রিপোর্ট এলে ঠিক কি কারনে মৃত্যু হলো চিতাবাঘটির তা জানা সম্ভব হবে। তার আনুমানিক বয়স ১১-১২বছর। যা চিতার জীবনকালের ক্ষেত্রে বার্ধক্য পর্যায়।২০১৯সালের ১লা জানুয়ারি বেঙ্গল সাফরির ফেন্সিং টপকে পালিয়ে গিয়ে চারদিন পর নিজে থেকেই ফিরে এসেছিল শচীন।

Post a Comment