হিন্দু শাস্ত্রে সকল মন্ত্র শুরু ‘ওম’ দিয়ে, শেষ ‘স্বহা’য় দিয়ে কেন?
দি নিউজ লায়নঃ হিন্দু ধর্মের যে কোনও পুজো করার সময় মন্ত্র উচ্চারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, মন্ত্র ছাড়া পুজো পাঠ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তবে তা যখনই শুরু হয় ‘ওম’ দিয়ে, শেষ ‘স্বহা’য় দিয়ে। কিন্তু কেন? বৈদিক, পৌরাণিক বা বীজমন্ত্র— কোথাওই এর অন্যথা হয় না। ‘ওম’ শব্দের উল্লেখ প্রথম পাওয়া যায় উপনিষদে। এবং সেখানেই বলা হয়েছে এই শব্দের নানা অর্থ। যেমন, ওম মানে ব্রহ্মাণ্ড, ওম মানে আত্মা, ওম মানে পরমাত্মা।
কথিত আছে ওম শব্দটি তিনটি মাত্রা যুক্ত অর্থাত্ অ,উ, ম, অকার হল আপত্তি বা আদিত্য অর্থাত্ প্রারম্ভের প্রতীক, উ কার কথার অর্থ হচ্ছে উত্কর্ষ বা অভেদত্ত প্রতীক, মক্কার অর্থাত্ লয়ের প্রতীক, তা হলে ব্যাখ্যা অনুযায়ী সৃষ্টি স্মৃতি ও প্রলয় সংগঠন কারী ঈশ্বরের প্রতীক হল ওম।
যদিও স্বামী বিবেকানন্দের মতে সারা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের ও ঈশ্বরের প্রতীক হল ওম শব্দও, তাই হিন্দু শাস্ত্রে কথিত আছে এই মন্ত্রের কাজ মনকে চাঙ্গা করে দেওয়া এবং সুস্থ করে তোলা।
অন্য দিকে, ঋগ্বেদে ‘স্বহা’ শব্দের অর্থ ‘আহুতি’। পুরাণে কথিত, কোনও এক সময়ে দেবতাদের খাওয়ার মতো কিছু ছিল না। ব্রহ্মার কাছে গিয়ে সেই দুর্দশার কথা জানালে, যজ্ঞে উৎসর্গিত বস্তুকে তিনি খাদ্যদ্রব্যে রূপান্তরিত করেন। কিন্তু, সঙ্গে এমন এক শর্তও রাখেন যে, মন্ত্রের শেষে ‘স্বহা’ উচ্চারণ না করলে উৎসর্গিত দ্রব্য দেবতাদের কোনও কাজেই লাগবে না। সেই থেকেই স্বহা।

Post a Comment