কুড়মি জন জাতির জন্য একগুচ্ছ পদক্ষেপ নিচ্ছে কুড়মি উন্নয়ন পর্ষদ
দি নিউজ লায়ন ; কয়েক বছর আগেই রাজ্যে কুড়মি উন্নয়ন পর্ষদ গঠন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার কুড়মি জন জাতির জন্য গরাম থান সংরক্ষন ও আবসন তৈরি সহ একগুচ্ছ পদক্ষেপ নিচ্ছে কুড়মি উন্নয়ন পর্ষদ। পাশাপাশি ভাষা ও সংস্কৃতির উন্নয়নে আরো বেশি করে কাজ করার প্রাথমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
রবিবার দুপুরে পুরুলিয়া সার্কিট হাউসে উচ্চ পর্যায়ের একটি বৈঠক করে পর্ষদের তরফে এই কথা জানানো হয়েছে। সেখান থেকেই একটি ভার্চুয়ালি বৈঠক হয় রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ দফতরের প্রধান সচিব এস. কে থাড়ের সঙ্গে। এদিনের সার্কিট হাউসের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন বিভাগের মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতো,পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়, জেলা শাসক অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়, কুড়মী উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান সুনীল মাহাতো সহ অন্যান্যরা।
এদিন বৈঠক শেষে রাজ্যে মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাত জানান, “ রাজ্য কিভাবে কাজ করবে এই পর্ষদ তার একটা গাইডলাইন বেঁধে দিয়েছে। কাজ করা হবে সেই গাইড লাইন মেনে। গরাম থান সংরক্ষণ ও কুড়মি জনজাতির অসহায় মানুষদের জন্য আবাসন তৈরির কাজ গুরুত্বপুর্ন রয়েছে।” তবে তফশিলি উপজাতি মানুষজনের জন্য জাহের থান সংরক্ষণের পর এবার গরাম থানও সংরক্ষন করা রাজ্যের একটা বড় পদক্ষেপ বলে মনে করছেন ওই সমাজের মানুষজন।
জঙ্গলমহল পুরুলিয়া ছাড়াও রাজ্যের একাধিক জেলায় কুড়মি জনজাতির বাস রয়েছে। তবে জঙ্গলমহলের জেলাগুলিতে এই জনজাতির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। জঙ্গলমহলের পুরুলিয়া, মেদনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাকুড়া, এই চার জেলা মিলিয়ে ৪৬টি কুড়মি জাতি অধ্যুষিত ব্লক রয়েছে। সেই কথা মাথায় রেখেই কয়েক বছর আগে কুড়মি উন্নয়ন পর্ষদ গঠন করে রাজ্য সরকার। পর্ষদ গঠনের পরেই উন্নয়নের জন্য প্রায় দশ কোটি বরাদ্ধ করা হয়েছিল। কুড়মি জনজাতির মানুষজনের উন্নয়নে কাজ বাছাই করে প্রকল্প রিপোর্ট তৈরি করেছে পর্ষদ।
সেই প্রকল্প রিপোর্টের মধ্যেই গরাম থান সংরক্ষণ ও কুড়মি জাতিদের অসহায় মানুষদের জন্য আবাসনের প্রকল্প রয়েছে। আপাতত সেই ব্লক গুলিতে পাঁচটি করে গরাম থান সংরক্ষণ করার কাজ হাতে নেওয়া হবে। এই চার জেলায় আপাততপ্রথম ধাপে প্রায় ২৩০ টি গরাম থান সংরক্ষণ করবে পর্ষদ। একইভাবে কুড়মি জনজাতির অসহায় মানুষজনদের জন্য আবাসনের তালিকাও প্রস্তুত করার কাজও ইতিমধ্য শুরু করা হয়েছে।
তাছাড়াও কুড়মী জনজাতী অধ্যষিত ব্লক গুলিতে কমিউনিটি হল নির্মাণের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। কুড়মি উন্নয়ন পর্ষদ গঠন করার পরেই শহর পুরুলিয়ায় এই পর্ষদের সদর দফতর ও প্রশিক্ষন কেন্দ্র চালু করা হয়। পরে অন্যান্য ব্লকেও দপ্তর ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ার কাজ শুরু করে পর্ষদ।

Post a Comment