রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের অবস্থান বাংলাদেশের মতোই: দোরাইস্বামী
বাংলাদেশ প্রতিনিধি।। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের উদারতাকে সারাবিশ্বের কাছে শিক্ষনীয় জানিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী বলেছেন, আপনারা এত বিশালা অংশের রোহিঙ্গাদের জায়গা দিয়েছেন। রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের অবস্থান বাংলাদেশের মতোই। তবে আমরাও চাই এই বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের একটি নিরাপদ, দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবর্তন। আমরা বিশ্বাস করি উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন সম্ভব।
রোববার (২০ ডিসেম্বর) বিকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম চারশ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ব বাণিজ্যের গেটওয়ে উল্লেখ করে বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী বলেন, চট্টগ্রামের সোনালী অতীত রয়েছে। ভবিষ্যতের হিসেবে অর্থনৈতিক দিক থেকে চট্টগ্রামের গুরুত্ব আরও বেশি। চট্টগ্রাম মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এবং এর উজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, সীমান্তে অবৈধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে বেশিরভাগ দুর্ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার ৯৫ শতাংশ ঘটে ভারতের সীমান্ত এলাকায়। আর ৮৭ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটে রাত দশটা থেকে ভোর পাঁচটার মধ্যে। বাংলাদেশ ভারতের সবচেয়ে আপন বন্ধু। আপনাদের আঘাত দেওয়া কখনোই ভারতের উদ্দেশ্য নয়। সীমান্তে একজনের মৃত্যুও কাম্য নয়। সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশও বন্ধে বৈধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের উদ্যোগ নেয়া হবে।
বাংলাদেশ এবং ভারতের সম্পর্ক অনেক গভীর উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাংলাদেশ আমাদের সব চেয়ে কাছের। এরবাইরেরও ভৌগলিক ভাবে আমরা খুবই আপন। আমাদের মাটি বাতাস সংস্কৃতির অনেক মিল। দুই দেশের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, সেটি দুই দেশের শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যেও বিরাজমান।
দোরাইস্বামী বলেন, দুই দেশের মধ্যে কিছু ইস্যু থাকবে সেটি স্বাভাবিক। তবে সম্প্রতি দুই দেশের শীর্ষ নেতারা আলোচনা করেছেন, কানেক্টিভিটি, বিজনেস এবং এনার্জি নিয়ে। এছাড়া আমরা আলোচনা করেছি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে। সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তর পুরোটা ইংরেজিতে দিলেও স্বাগত বক্তব্যে তিনি কিছুটা বাংলাতেও বলেন। মুচকি হেসে দোরাইস্বামী বাংলায় বলেন, আমি বাংলা বুঝতে পারলেও এখনো সঠিকভাবে বলতে পারি না। বাংলা ভাষা শিখছি, সামনে পুরোপুরি শিখে যাবো। তবে আমি অল্প অল্প বাংলা বলতে পারি। এখানে দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলা শিখছি।
বীরকন্যা প্রীতিলতা, মাস্টার দা সূর্যসেনদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে তিনি বলেন, আমার সহধর্মিনীর দাদা চট্টগ্রামেই মাস্টার দার ছাত্র ছিলেন।আমরা সেই ইতিহাসের সাথে যুক্ত যেটা একাত্তরের সমৃদ্ধ হয়েছে।সভাপতির বক্তব্যে আলহাজ্ব আলী আব্বাস চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব পরিদর্শন করে মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দ্বিপাক্ষিক উন্নয়নের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়ন হবে।সভাপতির বক্তব্যে তিনি চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী জাদুঘর করার প্রস্তাব দেন রাষ্ট্রদূতের কাছে এবং আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে খাজা বাবার ওরশে বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণকারীদের ভিসা সহজ করার আহবান জানান।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে রাষ্ট্রদূতের সহধর্মিনী সঙ্গীতা দোরাইস্বামী, চট্টগ্রামস্থ ভারতের সহকারী হাইকমিশন কার্যালয়ের দ্বিতীয় সচিব শুভাশিষ সিনহা, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি মনজুর কাদের মনজু, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ আলী, সাধারণ সম্পাদক ম. শামসুল ইসলাম, ক্লাবের অর্থ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক, সাংস্কৃতিক সম্পাদক রুপম চক্রবর্তী, ক্রীড়া সম্পাদক দেবাশীষ বড়ুয়া দেবু, গ্রন্থাগার সম্পাদক রাশেদ মাহমুদ, সমাজসেবা ও আপ্যায়ণ সম্পাদক আইয়ুব আলী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিন্টু চৌধুরী, কার্যকরী সদস্য স ম ইব্রাহীমসহ ক্লাবের জ্যেষ্ঠ সদস্য এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে দুপুর ২টায় দোরাইস্বামী ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের বিপ্লবী নারী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের স্মৃতি বিজড়িত স্থান পরিদর্শন করেন। পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাবের ভেতর প্রীতিলতার ছবিতে সম্মান জানান তিনি। পরে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ভাস্কর্যে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

Post a Comment