দুঃস্বপ্নের নাইন ইলেভেনের ১৯ বছর আজ - The News Lion

দুঃস্বপ্নের নাইন ইলেভেনের ১৯ বছর আজ




দি নিউজ লায়ন ;  প্রতিবছর ১১ সেপ্টেম্বর যেন বারবার  দুঃসহ স্মৃতির কথাই মনে করিয়ে দেয়। সে স্মৃতি শুধু যে মার্কিনিদের, তা নয় আরো ৭৮টি দেশের নাগরিকদেরও, যাদের দেশের মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল সেই ভয়াল হামলায়। আর ওই হামলার দিনটি সারা বিশ্বে ‘নাইন-ইলেভেন’ নামে পরিচিত। 



২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার সঙ্গে জড়িত ১৯ জঙ্গি চারটি বিমান ছিনতাই করে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি স্থানে। সকাল ৮টা ৪৬ মিনিটে আমেরিকান এয়ারলাইনসের ‘ফ্লাইট-১১’ বোস্টন থেকে উড়ে এসে হামলে পড়ে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উত্তর ভবনটিতে। জানা যায়, হামলা চালানোর আগে সকাল ৮টা ১৯ মিনিটে একজন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট সতর্ক করেন, তাঁদের উড়োজাহাজ ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েছে। তিনি জানান, ককপিট থেকে কোনো উত্তর আসছে না এবং ছিনতাইকারীদের কাছে বিস্ফোরক রয়েছে। এ ছাড়া জানানো হয়, এক যাত্রীসহ দুজন অ্যাটেনডেন্টকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে।




পরে জানা যায়, হামলার শিকার হওয়া ওই যাত্রীর নাম ড্যানিয়েল লেউইন। তিনি ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। ধারণা করা হয়, তিনি ছিনতাইকারীদের কাছ থেকে উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এবং নাইন-ইলেভেনের হামলায় তিনিই প্রথম ভুক্তভোগী। 




এ হামলার বিষয়টি ঠিকমতো বুঝতে না বুঝতেই ১৭ মিনিট পর ৯টা ৩ মিনিটে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দক্ষিণ ভবনে আছড়ে পড়ে ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের ফ্লাইট-১৭৫। সেটিও বোস্টন থেকে উড়ে এসে হামলা চালায়। পরে জানা যায়, উড়োজাহাজটি ছিনতাইয়ের পরই একজন অ্যাটেনডেন্ট ইউনাইটেড এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান, উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের কবলে পড়েছে এবং দুজন পাইলটই নিহত হয়েছেন। তবে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়েও শেষরক্ষা হয়নি কারো।   ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দুটি ভবন বিধ্বস্ত হওয়ার পরই আশপাশ থেকে ছুটতে থাকেন পথচারীরা।



 এ দুই নারকীয় হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন দুই হাজার ৭৫৩ জন মানুষ। এ ছাড়া ভবনে আটকেপড়া অনেকেই বাঁচার জন্য ভবন থেকে ঝাঁপিয়ে পড়েন। সে হামলায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের বয়স ছিল ২ থেকে ৮৫ বছরের মধ্যে।  ওই হামলার পরই তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা হয়। কিন্তু হামলার পর ভবন ধসে পড়ায় ভবনে থাকা অন্যদের সঙ্গে নিহত হন উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া নিউইয়র্ক ফায়ার সার্ভিসের ৩৪৩ কর্মী, নিউইয়র্ক সিটির ২৩ পুলিশ কর্মকর্তা ও বন্দর কর্তৃপক্ষের ৩৭ কর্মকর্তা। এ ছাড়া হাজারো মানুষকে আহত অবস্থায় ভর্তি করা হয় বিভিন্ন হাসপাতালে।



 এ দুই ভয়াবহ হামলার এক ঘণ্টার মধ্যে ৯টা ৩৭ মিনিটে ওয়াশিংটনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর পেন্টাগনে হামলে পড়ে আরো একটি উড়োজাহাজ। ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের ডালাস থেকে উড়ে আসা আমেরিকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট-৭৭-এর যাত্রীদের জিম্মি করে এ হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। ওই বিমানে তখন ছয়জন ক্রুসহ ৫৮ যাত্রী ছিলেন। এ হামলায় সামরিক কর্মকর্তা ও বেসামরিক নাগরিকসহ মোট ১২৫ জন নিহত হন। এ ছাড়া উড়োজাহাজে থাকা পাঁচ জঙ্গিসহ সব যাত্রীই নিহত হন।   

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.