স্ত্রীকে জব্দ করতে নিজের পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলল স্বামী!
দি নিউজ লায়ন ; স্বামীর পরকীয়া সম্পর্কের প্রতিবাদ করেছিলেন স্ত্রী। এনিয়ে এলাকায় বসেছিলো সালিশি সভা। আর স্ত্রীকে জব্দ করতে প্রকাশ্য সালিশি সভার মধ্যে নিজের পুরুষাঙ্গ কেটে ফেললেন স্বামী। সোমবার দুপুরে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে মানিকচক থানার নূরপুর গ্ৰামে। সালিশি সভার মধ্যে রক্তাক্ত ওই যুবককে উদ্ধার করেন গ্রামবাসীরা। চিকিৎসার জন্য তাকে নিয়ে যাওয়া হয় মানিকচক গ্রামীণ হাসপাতালে। সেখান ওই যুবকের শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হলে তাকে রেফার করে দেওয়া হয় মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে।
যদিও এই ঘটনায় প্রতিবাদী ওই গৃহবধূ তাকে চক্রান্ত করে খুনের মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে বলে পাল্টা মানিকচক থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুরো ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জখম ব্যক্তির নাম খুরশেদ মোমিন (৩০)। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তার চিকিৎসা চলছে মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে।
পুলিশ জানিয়েছে, এক বছর আগে খুরশেদ মোমিনের সঙ্গে ওই গ্রামের মহিলা আসমিরা খাতুনের বিয়ে হয়েছিল। পেশায় দিনমজুর খুরশেদ মোমিন বিয়ের পর থেকে তার স্ত্রী আসমিরা খাতুনের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছিল বলে অভিযোগ। এই ঘটনার পিছনে স্বামীর সঙ্গে গ্রামেরই অন্য এক মহিলার বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক জড়িয়ে রয়েছে বলেই অভিযোগ করেছেন আসমিরা খাতুন। এই পরকীয়া সম্পর্কের বিষয় নিয়ে ওই দম্পতির সংসারে অশান্তি সৃষ্টি হয়। এদের অশান্তি নিয়ে সোমবার দুপুরে গ্ৰামে সালিশি সভা ডাকা হয়।
সালিশি সভাতেই স্বামীকে গালাগালি করতে শুরু করে স্ত্রী। স্ত্রীর গাল সহ্য করতে না পেরে সেখানেই ব্লেড দিয়ে নিজের পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলে। এরপরই সালিশি সভাতেই ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়।
রক্তাক্ত ওই যুবককে সালিশি সভায় উপস্থিত বাসিন্দারা চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে যাওয়ার পথেই জখম অবস্থায় খুরশেদ মোমিন জানিয়েছেন , তাকে সব সময় তার স্ত্রীর সন্দেহ করতো। কারো সঙ্গে তার পরকীয়া সম্পর্ক ছিল না।
লোকসমাজে তাকে ছোট করার জন্যই এদিন সালিশি সভা ডাকা হয়েছিল। সেই সালিশি সভার মধ্যে স্ত্রী অকথ্য ভাষায় গালাগালি করছিল। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্যই পুরুষাঙ্গ কেটে শাস্তি দিয়েছি।
এদিকে অভিযোগকারী গৃহবধূ আসমিরা খাতুন জানিয়েছেন, তার প্রতি স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকেরা বিয়ের পর থেকেই অত্যাচার চালাচ্ছে। এই ঘটনার পিছনে পরকীয়া সম্পর্কের বিষয় রয়েছে। স্বামীর সঙ্গে গ্রামেরই এক মহিলার পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি ধরে ফেলার পর এই এদিন গ্রামবাসীদের বলেছিলাম। তারাই সালিশি সভা ডেকেছিলো। আর সেখানেই আমাকে খুনের চক্রান্তে জড়ানোর জন্য এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে খুরশেদ মোমিন। আমি নির্দোষ। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতেই মানিকচক থানা স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছি।

Post a Comment