বাংলাদেশের চট্টগ্রামে কাঁচা সবজির বাজার অগ্নিমূল্য - The News Lion

বাংলাদেশের চট্টগ্রামে কাঁচা সবজির বাজার অগ্নিমূল্য




চট্টগ্রাম প্রতিনিধি,  বাংলাদেশ ; বাংলাদেশের    চট্টগ্রামের  সবজির  বাজারে  দামে নাজেহাল ক্রেতারা। গত দুই সপ্তাহের চেযে বাজারে সবজির সরবরাহ আগের চাইতে বাড়লেও দাম কমেনি। বরং কেজি প্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা বেশিতে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন কাঁচা শাক  সবজি। শুক্রবার  চট্টগ্রামের  রিয়াজউদ্দিন বাজার, কাজীর দেউরী, চকবাজার কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ তথ্য পাওয়া যায়।


বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ সবজিই গত সপ্তাহের দামে রয়েছে। এরমধ্যে পাকা টমেটো ২০ টাকা বেড়ে ১২০ টাকা, বরবটি কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৯০ টাকা, বেগুন কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৮০ টাকা, গাজর ৮০ টাকা (অপরিবর্তিত), চিচিঙ্গা কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ৫০ টাকা, কাকরোল কেজি ৬০ টাকা (অপরিবর্তিত), মুলা কেজি ৬০ টাকা (অপরিবর্তিত), তিতা করলা কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৮০ টাকা, ঝিঙা কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৬০ টাকা, কাঁচা পেঁপে কেজি ৪০ টাকা (অপরিবর্তিত), পটল কেজি ৬০ টাকা (অপরিবর্তিত), কচুর লতি কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৬০ টাকা, কচুর ছড়া কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৬০ টাকা, কচুর ফুল কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৬০ টাকা, লাউ কেজি ৫০ টাকা (অপরিবর্তিত), ঢেঁড়স কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৬০ টাকা, আলুর কেজি ১০ টাকা কমে ২৫ টাকা এবং দেশি আলু ৫০ টাকা (অপরিবর্তিত), কাঁচা মরিচের কেজি ৫০ টাকা কমে ১৫০ টাকা, ফুলকপি কেজি ১০ টাকা কমে ১৪০ টাকা, শসা কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে ৮০ টাকা, বাঁধাকপি কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৮০ টাকা, ধুন্দল কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ৫০ টাকা, বরবটি কেজি ৯০ টাকা (অপরিবর্তিত), মিষ্টি কুমড়া কেজি ৪০ টাকা (অপরিবর্তিত), শিমের বিচি কেজি ৩৫০ টাকা (অপরিবর্তিত), ধনে পাতার কেজি ১২০ টাকা (অপরিবর্তিত) এবং প্রতি জোড়া লেবু বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১২ টাকায়।


কাজীর দেউড়ীর সবজি ব্যবসায়ী মো. ইরফান হোসেন বলেন, সবজির সরবরাহ কম থাকাতে দাম বাড়ছে। বর্তমানেও দাম বেশি। শীতকালীন সবজির চাষ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তা বাজারে ঢুকলে শীঘ্রই দাম কমে আসবে।
মাছের দামও মোটামুটি নাগালের মধ্যে রয়েছে বলে জানালেন ক্রেতারা। সে অনুযায়ী রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে আকারভেদে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি, কাতলা ২০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি, বিগ হেড ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা, কই (ফার্ম) ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি। পাঙ্গাস ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কেজি, তেলাপিয়া আকারভেদে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি, শিং ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি, বড় মাগুর ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি এবং চিংড়ি আকারভেদে ৬০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি, লইট্টা ২০০ টাকা কেজি, সামুদ্রিক বেলে ৩০০ টাকা আর দেশি বেলে ৬০০ টাকা কেজি, বাইম ৫০০ টাকা কেজি, ছোট রূপচাঁন্দা ৬৫০ টাকা কেজি, কোরাল কেজি ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ইলিশ মাছ এক কেজি ওজনের ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৫০০ থেকে ৭৫০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকায় এবং ছোট ইলিশ আকারভেদে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।


মাছ ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেছেন, মাছের সরবরাহ ভালই রয়েছে। তাই দামও কমের মধ্যে আছে। বাজারে প্রতি ডজন লাল ডিম ১০২ থেকে ১০৫ টাকা, দেশি মুরগির ডিম ডজনে ১০ টাকা ১৫০ টাকা (অপরিবর্তিত), হাঁসের ডিম ডজন ১৪০ (অপরিবর্তিত) এবং ১০০ পিস কোয়েলের ডিম ৩০ টাকা বেড়ে ২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিম বিক্রেতা আবুল হোসেন জানান, সরবরাহ ও দাম স্বাভাবিক রয়েছে।


অন্যদিকে চট্টগ্রামের বাজারগুলিতে  প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ৫ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা, পাকিস্তানি সোনালী মুরগি ২০ টাকা কমে ২৩০ টাকায় আর দেশি মুরগি কেজিতে ৪০ টাকা কমে ৩৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।


মুরগি ব্যবসায়ী মাঈনুদ্দিন বলেন, দাম স্বাভাবিকের মধ্যে রয়েছে। গরুর মাংসের দামও অপরিবর্তিত রয়েছে। গরুর মাংস হাড় ছাড়া ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা ও হাঁড়সহ ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।


এই বিষয়ে   চট্টগ্রাম কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. সেলিম মিয়া জানান,  সবজির দাম একটু বেশি বিক্রি হচ্ছে কারণ সরবরাহ চাহিদার তুলনায় কম। তবে  সরবরাহ পর্যাপ্ত হলে দামও  স্বাভাবিক হবে।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.