কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সক্রিয় নারী ও শিশু পাচার চক্র - The News Lion

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সক্রিয় নারী ও শিশু পাচার চক্র




চট্টগ্রাম  প্রতিনিধি,  বাংলাদেশ ;  বাংলাদেশের   কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে নারী ও শিশু পাচার চক্র। নানা কৌশলে রোহিঙ্গাদের সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দিচ্ছে চক্রটি।প্রতিটি ক্যাম্পে ওই চক্রের সদস্যরা ছদ্মবেশে আত্মগোপনে রয়েছে বলে জানা গেছে। পাচার রোধে রোহিঙ্গা শিবিরের চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া হচ্ছে।


জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের জানুয়ারির মধ্যে দেড় হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগর পাড়ি দিয়েছে, যা ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালে সমুদ্র পাড়ি দেওয়া মানুষের তুলনায় প্রায় ৫০ গুণ বেশি। ২০১৫ সালে সমুদ্রযাত্রীদের বেশিরভাগই ছিল পুরুষ। কিন্তু ২০১৮ সালের সমুদ্রযাত্রীদের শতকরা ৫৯ ভাগই নারী ও শিশু।


সর্বশেষ গত বছরের ১৩ নভেম্বর সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় সেন্টমার্টিনের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর থেকে ১২২ জন রোহিঙ্গাবাহী একটি ট্রলার আটক করে কোস্টগার্ড। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ১৫ জন শিশু, ৫৯ জন নারী ও ৪৮ জন পুরুষ ছিল। ওইসময় আটক যাত্রীরা হামিদ নামে একজন রোহিঙ্গা দালালের নাম স্বীকার করেছে।

জানা গেছে, ট্রলারে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া পাঠানো জন্য মানবপাচারকারীরা কক্সবাজারের উপকূলের বেশ কয়েকটি পয়েন্ট ব্যবহার করছে। এসব পয়েন্টের মধ্যে টেকনাফের শামলাপুর, শীলখালি, রাজারছড়া, জাহাজপুরা, সবারাং, শাহপরীর দ্বীপ, কাটাবনিয়া, মিঠাপানির ছড়া, জালিয়াপালং, ইনানী, হিমছড়ি, রেজুখাল, কুতুবদিয়াপাড়া, খুরুশকুল, চৌফলদন্ডি, মহেশখালী।


সীতাকুন্ড ও মাঝিরঘাট এলাকা হয়ে ট্রলারে মানবপাচার হয়ে থাকে। এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে স্থানীয়সহ বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা নেতা। তারা সবাই টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পের বাসিন্দা। এছাড়া মালয়েশিয়া অবস্থানকারী মানবপাচারকারী কয়েকজন রোহিঙ্গার নামও উঠে এসেছে। ১৩ নভেম্বর সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় আটক যাত্রীরা হামিদ নামে একজন রোহিঙ্গা দালালের নাম স্বীকার করেছে।


তবে আশার কথা হচ্ছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নারী ও শিশু পাচার রোধে কাজ করছে ইউনিসেফ এর সহায়তায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারী থেকে রোহিঙ্গা শিশু সুরক্ষা প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। যা ৩২টি ক্যাম্পে আজ অবদি চলমান রয়েছে।


রোহিঙ্গা শিশু সুরক্ষা প্রকল্পের অলটারনেটিভ ফোকাল পয়েন্ট ও সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আল আমিন জালালী বলেন, রোহিঙ্গা শিশুদের মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন স্থানে পাচার করতে পাচারকারী চক্র নানা অপকৌশল চালিয়ে আসছে। রোহিঙ্গা নারী ও শিশু পাচার রোধে ঘরে ঘরে গিয়ে কাজ করছে আমাদের সমাজকর্মীরা। তাদের পাচারের কুফল নিয়ে ধারণ দেয়া হচ্ছে।


তিনি আরও বলেন, পাচারকারীদের কবল থেকে রোহিঙ্গা শিশুদের রক্ষায় আলাদা নার্সিং করা হচ্ছে। রোহিঙ্গা ছেলে ও মেয়ে শিশুদের পাচারকারী সম্পর্কে সতর্ক করা হচ্ছে। পাচার হলে নিশ্চিত মৃত্যুর বিষয়টিও বিশদভাবে তাদের কাছে তুলে ধরা হচ্ছে। এতে ধীরে ধীরে পাচারের ঘটনা কমে আসছে।


তিনি  বলেন, রোহিঙ্গা শিশুদের এখন থেকে নৈতিবান হিসেবে গড়ে তুলতেও আমরা কাজ করছি। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক প্রতিভা বিকাশে রোহিঙ্গা শিশুদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। যাতে করে তাদের মাঝে অবপরাধ প্রবণতা কমে আসে। বড় হয়ে তারা যেন চরিত্রবান হয় এমন লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি।


প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে সে দেশের সেনাবাহিনী নির্যাতনের মুখে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গারা। তারা কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের প্রায় ১০ হাজার একর বনভূমির উপর অস্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছে।


দীর্ঘ তিন বছর ধরে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন না হওয়ায় বাংলাদেশ সরকার এসব রোহিঙ্গাদের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার পাশাপাশি কাজ করছে বিভিন্ন এনজিও।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.