টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত কোচবিহার - The News Lion

টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত কোচবিহার




দি নিউজ লায়ন ;   বেশ কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে কার্যত নাজেহাল হয়ে পড়েছে কোচবিহারে বিভিন্ন এলাকা। প্রায় ৩০০ একর কৃষিজমি জলের তলায় চলে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। একইসঙ্গে শুরু হয়েছে ভাঙন।জামালদহ গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত খারিজা, জামালদহ, সাধুরবাড়ি এলাকার প্রায় পাঁচ একর কৃষি জমির একটি বিশাল অংশ, কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণে জলের তোড়ে ভেসে যায় মঙ্গলবার সকালে।



একদিকে  অতিমারির প্রকোপ অন্যদিকে লাগাতার বৃষ্টি ভাঙ্গনে কৃষিজমির তলিয়ে যাওয়ায় চরম সংকটে পড়েছে এলাকার চাষীরা। কৃষিজমির উপর নির্ভরশীল-প্রফুল্ল বর্মণ, নরেন বর্মণ, রাজেন বর্মণদের মাথায় হাত। একইভাবে সুটুঙ্গা নালার জলের স্রোতে ভেঙে পড়েছে সামান্য ভিটেমাটি সম্বল সুরেন বর্মনের বসত বাড়ি।




প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে গ্রাম পঞ্চায়েতের আধিকারিক রা উপস্থিত হয় এলাকায়, গ্রামবাসীদের আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি তারা এলাকা পরিদর্শন করেন। গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান মাননীয় শ্রীমতি গীতা বর্মন বলেন, কৃষকদের অপূরণীয় ক্ষতি হল। আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিষয়টি সয়েল কনজারভেশন দপ্তরে পাঠিয়ে ভাঙ্গন রোখার ব্যবস্থা করতে হবে। বর্তমানে এলাকায় অবস্থান ভয়াবহ। গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফ হয় তাদের খাদ্য সামগ্রী ও ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।



শুধু গ্রামাঞ্চলে নয় , কোচবিহার শহরেও টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত অবস্থা। বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে ইতিমধ্যেই জল জমেছে বলে জানা গিয়েছে।আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, আগামী ২৪  ঘণ্টায় আরো ভারী বৃষ্টি হতে পারে কোচবিহার সহ উত্তরবঙ্গের বাকি জেলাগুলোতে। ফলে প্রমাদ গুনছে কোচবিহারের সাধারণ মানুষ। তাদের আশঙ্কা প্রবল বৃষ্টিতে জল ডুকছে কোচবিহার শহরে তার ওপর যদি ফের প্রবল বৃষ্টি হয় তাহলে অবস্থা অত্যন্ত সঙ্গিন হয়ে দাঁড়াবে।



এদিকে কোচবিহার পৌরসভার তরফে জানানো হয়েছে, যেভাবে প্রবল বৃষ্টি হয়েছে তারপরও পুরসভা জল নিষ্কাশন এর যাবতীয় চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু নদীগুলির জলস্তর বেশি থাকায় জল বের করতে সমস্যা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ইঞ্জিনিয়াররা কাজ করছেন। পুর কর্মীরা যথাসম্ভব চেষ্টা করছেন।



অন্যদিকে সেচ দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৪ দিন ধরে প্রবল বৃষ্টি চলছে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায়। ফলে প্রায় সমস্ত নদীর জল বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভাঙ্গন মোকাবিলায় যাবতীয় যা করণীয় সবকিছুই করা হবে। যেকোনো রকম পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকছে প্রশাসন।



যাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। পর্যাপ্ত ত্রাণের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। পরিস্থিতির দিকে ২৪  ঘন্টা নজর রাখছেন সেচ দপ্তরে কর্মী আধিকারিকরা।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.