চট্টগ্রামে ইতি টানলো আরও একটি করোনা আইসোলেশন সেন্টার
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি, বাংলাদেশ ; করোনা পরিস্থিতিতে যখন মুখ ফিরিয়ে নিয়ে ছিল বেসরকারি হাসপাতাল। অসুস্থ রোগীদের আত্মচিৎকারে যখন ভারি হয়ে ওঠে হাসপাতলের বাতাস। তখন সাহস করে রোগীদের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন কিছু তরুণ। মাত্র তিন মাসেই আস্থা অর্জন করেছিলেন জনসাধারণের। গল্পটি করোনাকালীন সময়ে চালু হওয়া ‘করোনা আইসোলেশন সেন্টার চট্টগ্রাম’র। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ তিন মাসের পথচলা শেষে অবশেষে ইতি টানলেন। চিকিৎসকদের সেবায় ও আয়োজকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আইসোলেশন সেন্টারটি থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭৬৫ জন।
সমাপ্তি ঘোষণা অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মিজানুর রহমান বলেন, এই আইসোলেশন সেন্টারটি দীর্ঘ তিন মাস সফলতার সাথে কাজ করেছে। এই সফলতা আমাদের একটি শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছে। এই আইসোলেশন সেন্টার কিভাবে সফল হলো তা থেকে আমাদের একটা শিক্ষা নিতে হবে। আমি আশা করবো এ শিক্ষা স্বাস্থ্য বিভাগে গুনগতমান রক্ষা করার কাজে আসবে।
চট্টগ্রামের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির করোনা আইসোলেশন সেন্টার ভবনের স্বত্তাধিকারী ব্যবসায়ী আবুল বাসার আবু, সকল উদ্যোক্তা, চিকিৎসক, সেবক-সেবিকাগণ, স্বেচ্ছাসেবকগণসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি বলেন, করোনাকালের শুরুতে প্রতিদিনকার ক্রমবর্ধমান রোগীর চাপ সামাল দিতে যখন চট্টগ্রামের সরকারী ব্যবস্থাপনার হাসপাতালগুলোতে মানুষের আহাজারিতে বাতাস ভারী হচ্ছিলো প্রতিনিয়ত, সরকারী আদেশ অনুরোধ এবং রোগী আর স্বজনদের অসহায় বোবা আর্তনাদের পরও যখন বেসরকারি হাসপাতালে কোভিড রোগী ভর্তি হতে না পারার সেই দুর্বিসহ আঁধারকালে করোনা আইসোলেশন সেন্টার বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবায় আলো হাতে আঁধারের যাত্রী হয়ে কঠিন এই যাত্রাপথে নেতৃত্ব দিয়েছে। তারা প্রমাণ করেছে শুধু মানুষের জন্য কিছু করার অদম্য ইচ্ছাকে পুঁজি করে কোন পূর্ব প্রশিক্ষণ ছাড়াই কিভাবে স্বাস্থ্যসেবায় মানুষের পাশে থাকা যায়।
স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আ ম ম মিনহাজুর রহমান বলেন, চট্টগ্রামে করোনার ঘনঘোর অমানিশাকালে এ সেন্টার চট্টগ্রামের অসহায় কোভিড আক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করেছে। এ সেন্টার সংশ্লিষ্ট সকলেই ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মী। প্রিয়তম এই দেশ, দেশের মানুষ যখনই কোন সংকটের মুখোমুখি হয়েছে, বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া ছাত্রলীগের কর্মীরাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
মহানগর আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক শেখ ইফতেখার সাইমুল বলেন, করোনা সংক্রমনের পর থেকে এই আইসোলশন সেন্টারে কাজ করতে এসে ছাত্রলীগের অনেক নেতাকর্মী করোনা আক্রান্ত হয়েছে। তবু তারা রোগীদের সেবা করতে পিছপা হয়নি। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
করোনা আইসোলেশন সেন্টারের প্রধান উদ্যোক্তা সাজ্জাদ হোসেন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রধান সমন্বয়ক নুরুল আজিম রনি। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন আইএমএস গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর আবু, হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম ও সাংবাদিক লতিফা আনসারী প্রমুখ।
করোনা আইসোলেশন সেন্টার চট্টগ্রামের সর্বমোট অনুদান ও আয়-ব্যয়ের হিসাব তুলে ধরেন মুখপাত্র জিনাত সোহানা চৌধুরী। তিনি জানান, এ আইসোলেশন সেন্টার পরিচালনার জন্য বিভিন্নজনের কাছ থেকে ৫১ লাখ ৩০ হাজার ১৫টাকা অনুদান পাওয়া গেছে। এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে ৪৭ লাখ ২৬ হাজার টাকা। বিভিন্ন খাতে বকেয়া রয়েছে সাত লাখ ৮২ হাজার টাকা। এখনও তাদের তিন লাখ ৭৮ হাজার টাকার মতো ঘাটতি রয়েছে।

Post a Comment