সিঙ্গাপুর হয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছবে মায়ানমারের পেঁয়াজ - The News Lion

সিঙ্গাপুর হয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছবে মায়ানমারের পেঁয়াজ



চট্টগ্রাম প্রতিনিধি, বাংলাদেশ ;  মায়ানমারের কোন সমুদ্রবন্দরের সাথে চট্টগ্রাম বন্দরের সরাসরি কোন কন্টেইনার জাহাজ সার্ভিস চালু নেই। বেশ ক’বছর আগে এই রুটে সরাসরি কন্টেইনার পণ্য পরিবহন সেবা চালু থাকলেও চাহিদা কমে আসায় সার্ভিসটি বন্ধ হয়ে যায়। ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের পর মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে পেঁয়াজ আমদানির প্রক্রিয়া জোরেশোরে শুরু হওয়ায় সার্ভিসটি চালুর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।



ব্যবসায়ীরা বলছেন, মুলত কোভিড-১৯ এর কারণে মায়ানমার থেকে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি এখন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। বিগত বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে দেশে পেঁয়াজের সংকট দ্রুত মেটাতে সবচেয়ে ভালো পন্থা হচ্ছে মায়ানমার থেকে পেঁয়াজ আনা। মায়ানমার  থেকে ছোট কাঠের বোটে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে এই পেঁয়াজ আনতে সময় লাগতো ২/৩ দিন কিন্তু সার্ভিসটি বন্ধ থাকায় সেই সুযোগ কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এই অবস্থায় বাংলাদেশের এই সংকটের সময় মায়ানমারের পেঁয়াজ আমদানি হয়ে সিঙ্গাপুর বা কলম্বো সমুদ্রবন্দর হয়ে চট্টগ্রাম বন্দর পৌঁছতে হবে। মায়ানমারের ইয়াংগুন সমুদ্রবন্দর থেকে সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার জাহাজ সার্ভিস চালু থাকলে দ্রুত পণ্য পরিবহন করা যেতো। এতে সময় ও অর্থ দুটোর সাশ্রয় হতো; সার্ভিসটিও জনপ্রিয় হতো।



জানতে চাইলে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানিকারক জারিফ ট্রেড ইন্টারন‌্যাশনালের মালিক মনজুর মোরশেদ বলেন, ‌গত বছর সংকটের সময় ২/৩ দিনেই আমি মায়ানমারের পেঁয়াজ টেকনাফ দিয়ে এনে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে সরবরাহ দিয়েছিলাম। সেসময় বেশ সুফল মিলেছিল কিন্তু এখন সেটি পারছি না। আমি হন্যে হয়ে খুঁজছি কিভাবে দ্রুত পেঁয়াজ আনা যায়।



তিনি বলেন, এখন মায়ানমারের পেঁয়াজ আমদানির জন্য অনেকেই আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) নিচ্ছেন। সেই পেঁয়াজ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কন্টেইনারে চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত আনতে গেলে সিঙ্গাপুর বা কলম্বো বন্দর হয়েই আসতে হবে। এতে খরচ বেশি পড়বে, সময় বেশি লাগবে। অথচ দ্রুত একটি সার্ভিস থাকলে সংকটের সময় সরাসরি দেশ উপকৃত হতো।



জানা গেছে, বাংলাদেশ-মায়ানমারের মধ্যে বাণিজ্য সহায়ক হিসেবে ভারত-বাংলাদেশ-মায়ানমার (আইবিএম) নাম দিয়ে এই সার্ভিস চালু করা হয়েছিল। পরে বিভিন্ন কারণ মায়ানমার এই রুট থেকে বাড় পড়ে যায়। পরে সার্ভিসটির নাম ভারত-বাংলাদেশ (আইবি)  হিসেবে পরিচালনা করে বিএলপিএল সিঙ্গাপুর। কয়েক বছর আগে বাংলাদেশে চাল সংকটের সময় মায়ানমার থেকে সরকারীভাবে চাল আমদানির সময় একটি কন্টেইনার জাহাজ সার্ভিসটি বেশ সুফল দিয়েছিল। যদিও পরে অনিয়মিত হয়ে একপর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায়। এখন বিএলপিএল সিঙ্গাপুর কম্পানিটি ইয়াংগুন-ভারত রুটে সার্ভিস চালু রাখলেও বাংলাদেশ-মায়ানমার সার্ভিস চালু নেই।



সেই সার্ভিসের এখন কী অবস্থা জানতে চাইলে  বিদেশি শিপিং কোম্পানি জিবিক্স লজিস্টিকসের অ্যাসিসটেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মুনতাসির রুবাইয়াত বলেন, মূলত দুই দেশের বাণিজ্য সহায়ক হিসেবে এই সার্ভিস আমরা চালু করেছিলাম। চাল সংকটের সময় সেই সার্ভিস বেশ সুফল দিয়েছিল। পরে সেটি অনিয়মিত হয়ে যায়। তখন মাত্র ২দিনের মায়ানমারের ইয়াংগুন বন্দর থেকে কন্টেইনার জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছিল। তখন গুরুত্ব বিবেচনায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ অগ্রাধিকারিভিত্তিক জেটিতে বার্থিং দিয়েছিল। কিন্তু এখন সেই সার্ভিসটি নেই।



তিনি বলেন, এখন আমদানিকারককে সিঙ্গাপুর বা কলম্বো বন্দর হয়েই চট্টগ্রাম আনতে হবে পেঁয়াজ। মায়ানমার-সিঙ্গাপুর-চট্টগ্রাম পৌঁছতে সময় লাগবে ১১/১২ দিন। কিন্তু মায়ানমার-চট্টগ্রাম সরাসরি সার্ভিস থাকলে অনেক সময় সাশ্রয় হতো। কারণ এই পথের দুরত্ব মাত্র সাড়ে ৭শ নটিক্যাল মাইল। চাহিদা থাকলে নিশ্চয়ই শিপিং কোম্পানিগুলো এই সার্ভিস চালুর বিষয় বিবেচনা করবে।


বর্তমানে দেশে পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়াতে ১৫ দিনে ২০ হাজার টন আমদানির জন্য আমদানি সনদ নেয়া হয়েছে। এরমধ্যে সবচে বেশি আসবে মায়ানমার থেকে। কিন্তু সরাসরি সার্ভিস না থাকায় তারা বিপাকে পড়বেন নিশ্চিত।




চট্টগ্রাম উদ্ভিদ সংগনিরোধ দপ্তরের উপ পরিচালক ড. আসাদুজ্জামান বুলবুল বলেন, ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ২৮ হাজার টনের আমদানি সনদ দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে বেশিরভাগই আসবে মায়ানমার ও মিশর থেকে।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.