কাউকে ‘শুভ মহালয়া’ উইশ করা কি যুক্তিযুক্ত? - The News Lion

কাউকে ‘শুভ মহালয়া’ উইশ করা কি যুক্তিযুক্ত?




পুজো এসে গিয়েছে। বৃহস্পতিবার মহালয়া। আর মহালয়া মানেই সাতসকালে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র। মহালয়ার দিন মানেই হোয়্যাটসঅ্যাপে সকাল থেকেই ভরে ওঠে ঘন ঘন মেসেজ। যেখানে লেখা থাকে ‘শুভ মহালয়া’। কিন্তু এ কথা কি বলা যায়? মহালয়া কি আদৌ ‘শুভ’? কাউকে ‘শুভ মহালয়া’ উইশ করা করা কি আদৌ যুক্তিযুক্ত? এনিয়ে কিন্তু বিতর্ক রয়েছে। আগে জেনে নেওয়া যাক এই বিশেষ দিন সম্পর্কে কী বলছে শাস্ত্র।



হিন্দু বিশ্বাস মতে, এই সময় প্রেতলোক থেকে পিতৃপুরুষের আত্মারা ফিরে আসে এই মর্ত্যলোকে। তৈরি হয় এক মহা আলয়। সেই প্রয়াত পূর্বপুরুষদের স্মরণ করার দিনটিই হল মহালয়া। তিল-জল দিয়ে তর্পণ করে তাঁদের পরিতৃপ্ত করা হয়।



এই তর্পণ যেমন প্রয়াত বাবা-মা বা পূর্বপুরুষের জন্য, তেমনই সমগ্র জীবজগতের জন্যও। শুনতে অবাক লাগলেও, মহালয়ার সঙ্গে দুর্গাপুজোর কোনও সরাসরি যোগ নেই। বরং মহালয়ার নেপথ্যে রয়েছে মহাভারতে কর্ণের জীবনের অনুষঙ্গ। পিতৃপুরুষকে স্মরণ করার এই দিনটির সঙ্গেও তাই ‘শুভ’ শব্দটি ব্যবহার করা চলে কি না, তা ভেবে দেখা দরকার।



মহালয়ার এই দিনটি দুর্গাপুজোর শুরু বলেই আজকের বাঙালি জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছে। কিন্তু হিন্দু ধর্মানুযায়ী, তার কোনও ভিত্তি নেই। সম্ভবত আকাশবাণী বীরেন্দ্রকৃষ্ণ-বাণীকুমারের গীতি-আলেখ্যটি এই দিনে চালানোর ফলেই এমন ধারণার সূত্রপাত।



মনে রাখা দরকার, আকাশবাণীর অনুষ্ঠানটির নাম কিন্তু ‘মহালয়া’ নয়— ‘মহিষাসুরমর্দিনী’। অনুষ্ঠানটি এখন মহালয়ার দিন সম্প্রচারিত হলেও শুরুতে তা সম্প্রচারিত হতো ষষ্ঠীর ভোরে। কাজেই, সামগ্রিক ভাবে এই ধারণা ছড়িয়ে পড়ায় ইদানীং মহালয়া থেকেই ঢল নামে দুর্গাপুজোর শুভেচ্ছাবার্তার। 

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.