রানী রাসমনির বাড়ির পুজোর ইতিহাস
উত্তর কলকাতা এবং দক্ষিণ কলকাতা দুইপারেই রয়েছে প্রাচীন পরিবার যাদের বাড়ির পুজো, যা দেখতে ছুটে আসেন ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষজন। এছাড়া আসেন বিদেশীরাও। তেমনই এক বনেদি বাড়ি হল দক্ষিণ কলকাতায় রানী রাসমনির বাড়ি। যে বাড়ির দুর্গাপুজোর ইতিহাস বহুদিনের এবং পুজোর আভিজাত্য ও বনেদিয়ানা আজও রয়েছে এই রাজবাড়ির প্রতিটি কোণায়। আজও রানীর বাড়ির পুজো দেখার জন্য ছুটে আসেন অগণিত দর্শনার্থীরা আর উপভোগ করেন সেই বনেদিয়ানাকেই।
এই পর্বে সেই বাড়ির পুজো আর যাঁকে নিয়ে কলকাতার মানুষের গর্ব অনুভব হয় সেই রানী রাসমনিদেবী সম্পর্কিত সামান্য কিছু তথ্য উপস্থিত করা হল আপনাদের সামনে। রাণি রাসমনির জন্ম সাল ১২০০ বঙ্গাব্দ, ১৭৯৩ খ্রিঃ। ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরেই ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে পরিবর্তন ঘটতে শুরু করে। ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানি আর ইংরেজ শাসক সম্প্রদায় কায়েম হয়ে বসেছে। সেই সময়ে হালিশহরেই জন্ম রাণি রাসমণির। জন্মেছিলেন বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বী এক কৈবর্ত পরিবারে, পিতা হরেকৃষ্ণ দাসের কুঁড়ে ঘরে।
ভারতের তথা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের আধ্যাত্মিক বিজ্ঞানের প্রাণকেন্দ্র এই দক্ষিণেশ্বর মন্দির- যার প্রতিষ্ঠাত্রী পুণ্যশ্লোকা রাণি রাসমণি। কলিকাতা থেকে প্রায় চার মাইল দূরে গঙ্গার পূর্বতীরে দক্ষিণেশ্বরে তিনি মহাদেবী কালীর একটি মন্দির স্থাপন করেন। সেখানে পুরোহিতের কাজ করিবার জন্য একজন ব্রাহ্মণ সংগ্রহ করতে তাঁহাকে অত্যন্ত বেগ পাইতে হয়েছিল। তাছাড়া, এক্ষেত্রে মন্দিরের প্রতিষ্ঠাত্রী ছিলেন শূদ্রাণী। অবশেষে ১৮৫৫ সালে ঐ পদ গ্রহণ করিতে রামকৃষ্ণ মনস্থ করিলেন।…. ১৮৬১ সালে রাসমণির মৃত্যু হয়।….
রাসমণি ছিলেন “নয়া বড়লোক” এবং জাতিতে নিম্নশ্রেণীর। তাই তিনি এই মন্দির প্রতিষ্ঠার সময় তাঁহার মহানুভবতা ও উদারতার ফলে সকল ধর্মের অতিথিদের থাকার জন্য এখানে কয়েকটি কামরা ছাড়ে দেন।”
Post a Comment