তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাই এর খাদানের দখলদারি নিয়ে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে রণক্ষেত্র
দি নিউজ লায়ন ; সাগরদিঘী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাই এর খাদানের দখলদারি নিয়ে দফায় দফায় দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ালো। ঘটনায় আহত একাধিক জনকে চিকিৎসার জন্য মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ছাই তোলার জন্য প্রতিবারই টেন্ডার দেয়। বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে তা এক জায়গায় মজুত করা হয়।
এলাকায় তা ছাই খাদান নামে পরিচিত। এখান থেকেই ছাই তোলা নিয়ে গণ্ডগোল শুরু হয়। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে টেন্ডার পাওয়া ঠিকাদার তার নিজেদের লোকজনদের দিয়ে কাজ করছিল। অন্য আরেকটি সিন্ডিকেটের সদস্যরা এসে ছাই তোলার দাবি করে। তা নিয়েই গণ্ডগোলের সূত্রপাত হয়। সাগরদিঘি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রতিদিনই বিপুল পরিমাণ ছাই ওই পুকুরে জমা হয়।
দিনে ১০০-১২০টি ট্রাকে তা বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করা হয়। এক ট্রাক ছাইয়ের দাম দু’-তিন হাজার টাকা। দিনের শেষে এই ছাই খাদান থেকে সব মিলিয়ে লক্ষাধিক টাকা আয় হয়। স্থানীয়রা বলেন, এখান থেকে প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকা আয় হয়। অথচ তেমন কোনও খরচ নেই। খাদান থেকে যে ছাই তুলে নিতে পারবে তার পকেটেই টাকা ঢুকবে। এই খাদান যাদের দখলে থাকে তারা রাতারাতি ফুলে-ফেঁপে ওঠে।
তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ছাই তোলার টেন্ডার পেয়েছেন মসিউর রহমান। তিনি বলেন, শ্রমিকরা দুপুরে কাজ করছিল। সে সময় হঠাৎ করেই কিছু লোকজন তাদের উপর হামলা চালায়। এলাকার সিন্ডিকেটের সদস্যরা ট্রাক পিছু কখনও ৩০০টাকা আবার কখনও ৫০০টাকা দাবি করে"।
মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক শ্রমিক বলেন, কিছু বোঝার আগেই আট-দশজন এসে আমাদের উপর চড়াও হয়। লাঠি ও রড দিয়ে মারধর করতে শুরু করে। কেন আমরা ছাই তুলছি তার কৈফিয়ত চাইতে থাকে"। ঘটনায় মুল অভিযুক্ত সাহেব শেখ বলেন, খাদানের কাছে আমাদের একটি ট্রাকের চাকা বসে গিয়েছিল। সেটি তোলার জন্য ওখানকার শ্রমিকদের সাহায্য চেয়েছিলাম।

Post a Comment