প্রেমিকাকে খুন করে দেহ লোপাট যাবজ্জীবন সাজা উদয়নের
দি নিউজ লায়ন ; প্রথমে বাবা-মাকে খুন করে বাড়ির বাগানে দেহ পুঁতে দেওয়া তারপর মধ্যপ্রদেশের ভোপালে নিয়ে গিয়ে প্রেমিকাকে নৃশংস খুন করে দেহ লোহার বাক্সে পুরে তার ওপর কংক্রিটের বেদি তৈরি করা- বাঁকুড়ার আকাঙ্ক্ষা শর্মা খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত উদয়ন দাসের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা ঘোষণা করল বাঁকুড়া ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট।
রায় ঘোষণার পর নির্লিপ্ত উদয়নের প্রতিক্রিয়া 'কোনো আফসোস নেই, প্রয়োজনে হাইকোর্ট এবং সুপ্রিমকোর্টে যাব'। আকাঙ্খা শর্মা খুনের ঘটনায় গতকালই আকাঙ্খার প্রেমিক উদয়ন দাসকে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। আজ উদয়ন দাসের যাবজ্জীবন কারাদন্ডের সাজা ঘোষনা করল বাঁকুড়া ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট। ২০১৭ সালে আকাঙ্খা শর্মা খুনের ঘটনায় রীতিমত তোলপাড় হয় দেশ জুড়ে। হত্যাকাণ্ডের পরোতে পরোতে রয়েছে রহস্য।
দিল্লী হয়ে আমেরিকায় চাকরী করতে যাওয়ার নাম করে আকাঙ্খা শর্মা বাঁকুড়ার ভাড়া বাড়ি থেকে বের হন। ২০১৬ সালের ২৩ জুন দিল্লিতে পৌছন আকাঙ্খা। ২৭ জুন ভোপালের একটি কালী মন্দিরে আকাঙ্খাকে বিয়ে করে উদয়ন। যদিও বিয়ের পর থেকেই অশান্তি শুরু হয় দুজনের মধ্যে। ভুল বুঝতে পেরে বাঁকুড়া ফিরে আসার চেষ্টা শুরু করে আকাঙ্ক্ষা আর তখনই তাকে খুনের পরিকল্পনা করে উদয়ন।
পুলিশ সূত্রের দাবি ১৫ জুলাই আকাঙ্খাকে শ্বাসরোধ করে খুন করে উদয়ন। এরপর মৃতদেহ টিনের বাক্সে ভরে ঘরের মধ্যেই সিমেন্টের বেদী তৈরী করে লুকিয়ে ফেলে। কেউ যাতে কিছু সন্দেহ না করতে পারে তার জন্য বেদির ওপর কিছু দেবদেবী প্রতিকৃতি রেখে পুজো করতে শুরু করে সে। তদন্তকারীদের দাবি আকাঙ্ক্ষাকে খুনের পর তাকে যাতে কেউ সন্দেহ না করে সেজন্য বাঁকুড়া আসে উদয়ন। বাঁকুড়ায় আকাঙ্ক্ষার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সে ।
এমনকি তাদের দিল্লি আসার কথাও বলে সে। ২০১৬ সালের ৫ ডিসেম্বর আকাঙ্খার বাবা শিবেন্দ্র নারায়ন শর্মা বাঁকুড়া সদর থানার দ্বারস্থ হয়ে নিখোঁজ ডায়েরি করেন। ২০১৭র ৫ জানুয়ারি আকাঙ্খার বাবা বাঁকুড়া সদর থানায় উদয়ন দাসের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। আকাঙ্খার মোবাইল টাওয়ার লোকেশান ট্র্যাক করে জানা যায় মোবাইল ফোনটি রয়েছে ভোপালের সাকেতনগর এলাকায়। ২ ফেব্রুয়ারি ওই তদন্তকারী দল ভোপালের সাকেতনগরে আকাঙ্খার প্রেমিক উদয়ন দাসের বাড়িতে হানা দিয়ে উদয়নকে গ্রেফতার করে।
উদয়নের বাড়ির মেঝেতে থাকা সিমেন্টের বেদী দেখে সন্দেহ হয় তদন্তকারীদের। বেদী খুঁড়েতেই উদ্ধার হয় আকাঙ্খার দেহাবশেষ। চমকের এখানেই শেষ নয়। পরে উদয়নকে নিয়ে ছত্তিশগড়ের রাইপুরে যায় তদন্তকারীরা। ৫ ফেব্রুয়ারি রাইপুরের সুন্দরনগরে উদয়ন দাসের বাড়ির বাগানের মাটি খুঁড়ে উদ্ধার হয় উদয়ন দাসের বাবা বীরেন্দ্রনাথ দাস ও মা ইন্দ্রানী দেবীর মৃতদেহ।
উদয়ন দাসের বিরুদ্ধে বাঁকুড়া ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে অপহরণ, খুন ও প্রমান লোপাটের চার্জ আনা হয়। এদিন রায় ঘোষণার পর আকাঙ্ক্ষার বাবা শিবেন্দ্র নারায়ন শর্মা জানান আদালতের রায়কে স্বাগত তবে যেভাবে ঠান্ডা মাথায় আকাঙ্ক্ষাকে কোন করা হয়েছিল এবং খুব পরিকল্পনামাফিক উদয়ন দেহ লোপাট করার চেষ্টা করেছিল তাতে তারা আরো বেশি সাজা আশা করেছিলাম আদালত প্রাণদণ্ডের সাজা দিলে খুশি হতাম।

Post a Comment