বাড়ির চাতাল খুঁড়ে উদ্ধার হলো দেহাবশেষ
দি নিউজ লায়ন ; ৬ বছর পর দাদাকে খুনের 'অনুশোচনা' !থানায় গিয়ে অপরাধ স্বীকার দুই ভাইয়ের। বাড়ির চাতাল খুঁড়ে উদ্ধার হলো দাদার দেহাবশেষ। এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার শ্যামনগরে। পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার সকালে জগদ্দল থানায় হাজির হয় দুই ভাই অপু শীল এবং তপু শীল। দুজনই পেশায় রাজমিস্ত্রি।
থানায় দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসারকে তারা জানায় ৬ বছর আগে দাদা নিপু শীলকে খুন করেছে তারা। দেহ কবর দেওয়া হয়েছে বাড়ির চাতালে। সাতসকালে এমন স্বীকারোক্তিতে চোখ কপালে ওঠে অফিসারের। সঙ্গে সঙ্গে দু'জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারপর অভিযুক্ত অপু এবং তপুকে সঙ্গে নিয়ে শ্যামনগরের আদর্শপল্লির বাড়িতে যায় পুলিশ।
তাদের দেখিয়ে দেওয়া জায়গা খুঁড়ে উদ্ধার হয় নর কঙ্কাল। গোটা ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় আদর্শ পল্লি এলাকায়। পুলিশ সূত্রের দাবি, অপু এবং তপু জানিয়েছে, নিহত নিপু শীল পেশায় সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। দুই ভাইয়ের সঙ্গে তার বনিবনা হতো না। পারিবারিক অশান্তি লেগেই থাকত। ২০১৪ সালে দাদা নিপুকে পরিকল্পনামাফিক খুন করে দুই ভাই। এরপর বাড়ির চাতাল খুঁড়ে দেহ কবর দিয়ে দেওয়া হয়।
পাড়ায় রটিয়ে দেওয়া হয় নিখোঁজ হয়ে গিয়েছে নিপু।সেইমতো থানায় নিখোঁজ ডায়েরিও করা হয়। কিন্তু ৬ বছর পর আচমকা কেন অনুশোচনা হলো দুই ভাইয়ের! পুলিশ সূত্রে দাবি জেরায় অভিযুক্ত দুই ভাই জানিয়েছে, শনিবার সকালে বাড়িতে কিছু সাফাইয়ের কাজ চলছিল। সেই সময় নিহত দাদার দেহাবশেষ দেখতে পায় তারা। তখনই তাদের অনুশোচনা হয় এবং তারা থানায় গিয়ে দোষ কবুল করে যদিও অভিযুক্তদের এমন দাবি মানতে নারাজ তদন্তকারী অফিসাররা।
খুনের কথা ৬ বছর ধরে চেপে রেখে ঠান্ডা মাথায় যারা দেহ লোপাট করল আচমকা তাদের অনুশোচনা হবে,এমনটা মেনে নিতে পারছেন না তদন্তকারীরা। আপাতত যে দেহাবশেষ উদ্ধার হয়েছে সেটিকে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। দেহটি নিপুর কিনা তা নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা হতে পারে।
পাশাপাশি অভিযুক্ত দুই ভাইকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। গোটা ঘটনার পেছনে অন্য কোন রহস্য রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখছেন তাঁরা।

Post a Comment