তৃণমূলের কোঅর্ডিনেশন কমিটিতে গরহাজির শুভেন্দু

সম্প্রতি দলের রদবদল করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রদবদলের পর শুক্রবার প্রথম বৈঠক তৃণমূলের কোঅর্ডিনেশন কমিটির। কিন্তু সেই বৈঠকে অনুপস্থিত শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ছাড়াও আরও তিনজন গরহাজির ছিলেন দলীয় বৈঠকে। তাঁরা হলেন হিতেন বর্মণ, দেবু টুডু এবং মৃগাঙ্ক মাহাতো।
তবে শুভেন্দুর অনুপস্থিতি জল্পনা বাড়াল। ২৩ জুলাই ভার্চুয়াল বৈঠক করে দলে সাংগঠনিক রদবদল ঘটান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নতুন রাজ্য কমিটি ঘোষণার পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সে দিন একটি ২১ জনের কমিটি গড়ে দেন। সেটিই কোঅর্ডিনেশন কমিটি। সাংগঠনিক কাজ দেখভালের দায়িত্ব মূলত ওই কমিটির উপরে থাকবে বলেই জানানো হয়। সেই কমিটির থেকে সাত জনকে নিয়ে আবার স্টিয়ারিং কমিটি গড়ে দেন তৃণমূলনেত্রী।
ওই স্টিয়ারিং কমিটি হল কার্যত রাজ্য স্তরের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক কমিটি। শুভেন্দু অধিকারীকে দু’টি কমিটিতেই রাখা হয়েছে। কিন্তু জেলা পর্যবেক্ষকের পদটা উঠে যাওয়ায় দায়িত্ব কমে যায় ‘নন্দীগ্রামের নায়কে’র। কারণ রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের যেসব পর্যবেক্ষকরা নানা জেলার দায়িত্বে ছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম পরিবহণমন্ত্রী তথা নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। অন্যদের তুলনায় তার অধীনে জেলার সংখ্যাও ছিল বেশি।
দলের ওই সিদ্ধান্তের পরই শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠমহলের বক্তব্য ছিল, “দাদাকে দল মর্যাদা দিল না। দায়িত্বও দিল না। সামনেই ২০২১ বিধানসভার নির্বাচন। এতে দলের ক্ষতি হবে।” রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, দলে ভারসাম্যের কথা বলা হলেও কার্যত শুভেন্দুকে ক্রমে কোনঠাসা করে দেওয়া হয়েছে। ৭ জনের স্টিয়ারিং কমিটিতে তাঁকে রাখা হলেও পৃথক ভাবে কোনও দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। বাকি পদগুলিতেও একজন সদস্য ছাড়া আলাদা কোনও ক্ষমতা নেই সাংগঠনিক ভাবে। তাই এদিন শুভেন্দুর অনুপস্থিতি জল্পনা অনেকটাই উস্কে দিল।
Post a Comment