সুস্বাস্থ্য, ত্বক ও চুলের যত্নে চাল ধোয়া জল
ত্বক থেকে স্বাস্থ্য, সব কিছুতেই উপকারিতা আছে চাল ধোয়া জলের। ত্বকের জন্য চালধোয়া জল! কথাটা শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি। আমাদের ত্বক ও স্বাস্থ্যের জন্য অনেক গুণাগুণ বিদ্যমান রয়েছে চাল ধোয়া জলে। আজকে আমরা জানব, আমাদের সুস্বাস্থ্য, ত্বক ও চুলের যত্নে চাল ধোয়া জলের ব্যবহার
ডায়রিয়া থেকে মুক্তি:
ডায়রিয়া থেকে মুক্তির উপাদান হিসাবে চাল ধোয়া জল খুবই উপকারী। ডায়রিয়ারও পথ্য চাল ধোয়া জল। এক গ্লাস জলে সামান্য নুন মিশিয়ে তা খেয়ে নিলে ডায়রিয়া থেকে মুক্তি পাবেন।
ব্রণ সমস্যা দূর করে:
যারা দীর্ঘদিন ধরে ব্রণের সমস্যায় ভুগছেন, তারা এই চালের জল ব্যবহার করে দেখতে পারেন। এটি একদম প্রাকৃতিক উপাদান, তাই কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ভয় নেই। আপনি ফেসওয়াসের মতো করে চালের পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে পারেন অথবা তুলার সাহায্যে ত্বকে ম্যাসাজ করতেও পারেন। নিয়মিত এটি ব্যবহার করার ফলে ব্রণের সমস্যা কমতে থাকবে। অনেকের ত্বকে লাল ধরনের ছোট ছোট দানার মতো ওঠে, চালের জলের মাধ্যমে এই লাল ভাবও দূর করা সম্ভব।
চুলের যত্নে চালের জল:
চালের জল ব্যবহার করার ফলে এটি চুলকে আরও উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যবান করে। শুধু এটাই নয়, চালের জলে থাকা পুষ্টিমান চুলের আগা থেকে গোঁড়া পর্যন্ত পুষ্টি সরবরাহ করে চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
শক্ত ও মজবুত চুলের জন্য:
চালের জল দিয়ে চুল ধোয়ার ফলে আপনার চুল হবে আরও ঝলমলে, মজবুত ও মসৃণ। শ্যাম্পু করার পর চুল চাল ধোয়া জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এ জল মাথায় দেয়ার পর আঙ্গুলের সাহায্যে হালকা করে মাথার ত্বকে ম্যাসেজ করুন। সপ্তাহে দু’বার এ পদ্ধতি অনুসরণ করলে ভাল ফল পাবেন।
চুলের গোঁড়া শক্ত করে চুল পড়া বন্ধ:
চাল ধোয়া জল প্রচুর পরিমাণে এ্যামিনো এ্যাসিড রয়েছে। এ এ্যামিনো এ্যাসিড চুলের গোঁড়া শক্ত করে অতিরিক্ত চুল পড়া বন্ধ করে চুল আরও ঘন করে তোলে ও চুলের উজ্জ্বলতা ধরে রাখে। চাল ধোয়া জলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেলস ও এ্যামিনো এ্যাসিড যা ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য উপাদান। শুধু তা-ই নয়, চালের জলে উপস্থিত এ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি উপাদান ত্বকের সকল প্রকার ব্যাকটেরিয়াজনিত সমস্যা দূর করতে সক্ষম।
ত্বকের সানবার্ন দূর করে:
চাল ধোয়া জল বিশেষ কুলিং উপাদান রোদে পোড়া ত্বক দ্রুত স্বাভাবিক করে তোলে। এটি রোদে পোড়া দাগ দূর করার সঙ্গে সঙ্গে রোদে পোড়ার দরুন ত্বকের পরবর্তী ক্ষতি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। এক্ষেত্রে চাল ধোয়া ঠাণ্ডা জল সবচেয়ে বেশি কার্যকরী।
ফেশিয়াল টোনার ও ক্লিনজার:
চালের জল ত্বকের জন্য দারুণ টোনারের কাজ করে। সামান্য কিছু তুলো নিয়ে চাল ধোয়া জলে ভিজিয়ে ত্বকে আলতো হাতে লাগিয়ে নিন। এই জল ত্বকের পোরস মিনিমাইজ করবে এবং ত্বক টান টান রাখবে। চালের জলের এই প্রাকৃতিক টোনার ভিটামিন বি কমপ্লেক্সে ভরপুর, যা আপনার ত্বকের কোষ বৃদ্ধি করবে, ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়াবে এবং ত্বক নরম-কোমল করার পাশাপাশি ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াবে।

Post a Comment