দম্পতিরা অসুখী হয়েও কেন একসাথে থাকতে চান?
১) সামাজ মনোবিজ্ঞানী, হ্যারল্ড কেলি এবং জন থাইবাট এর আন্তঃনির্ভরশীলতা তত্ত্ব অনুযায়ী, প্রত্যেক দম্পতি তার ব্যক্তিগত তৃপ্তির মূল্যায়ন করে, তার ব্যয় এবং সুবিধাগুলি মূল্যায়নের মাধ্যমে। যতক্ষণ না অনুভূত সুবিধাগুলি, অনুমিত ব্যয়কে ছাড়িয়ে যাচ্ছে, ততক্ষণ একজন নিজের সম্পর্কের সাথে খুশি থাকতে চায়। উদাহরণস্বরূপ, আপনার সঙ্গী আপনার সময় এবং সংস্থান সম্পর্কে প্রচুর দাবি তুলতে পারে, তবে আপনার চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রেও অনেক কিছু দিতে পারে। অথবা হতে পারে, আপনার সঙ্গী খুব কম দেয়, তবে আরও কম দাবি করে। এই তত্ত্ব বলে যে, আপনি উভয় ক্ষেত্রেই সন্তুষ্ট হবেন। এক্ষেত্রে ব্যক্তি নিজের ব্যক্তিগত চাহিদা পূরণ এবং ব্যয়ের হিসাব করে এবং দেখে যে ব্যয়ের থেকে তার নিজস্ব প্রাপ্তি বেশি হচ্ছে।
২) তারা বর্তমানের সম্পর্কের থেকে কার্যকর কোন বিকল্প সম্পর্ক দেখতে পায় না, যা তাদের সমপরিমাণ চাহিদা পূরণ করবে।
৩) তারা নিজেদের প্রতি প্রতিশ্রুতি বদ্ধ মনে করে, কারণ এখানে ইতিমধ্যেই তারা প্রচুর বিনিয়োগ করেছে এবং তাই বিবাহকে তারা খুব মূল্যবান মনে করতে থাকে। সম্পর্ক কীভাবে কাজ করে, সে সম্পর্কে একটি বহুল স্বীকৃত তত্ত্ব হ'ল স্টার্নবার্গের তত্ত্ব । তত্ত্বটি বলে, যে কোনও সম্পর্কের একটি বড় অংশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধতা। এই তত্ত্ব অনুযায়ী প্রতিশ্রুতিবদ্ধতা ছাড়াও, একটি ভালোবাসার সম্পর্কে আরো দুটো জিনিস দরকার। সেটি হল ঘনিষ্ঠতা এবং আবেগ। কিন্তু পরবর্তী দুটো জিনিস না থাকলেও, প্রতিশ্রুতিবদ্ধতা জিনিসটা এতটাই শক্ত যে, শুধুমাত্র এটির দ্বারা একটি সম্পর্ক সারা জীবন টিকে থাকতে পারে। একজন যদি আরেকজনের প্রতি ভীষণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন, তাহলে তাকে ছেড়ে যাওয়া শক্ত।
৪) প্রচুর অসুখী দম্পতির একসাথে থাকার আরও একটি বড় কারণ হ'ল, তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস। তারা বিবাহকে একটি পবিত্র বন্ধন মনে করে। এরা মনে করে, যুগ যুগ ধরে সঙ্গীরা আত্মার সম্পর্কে আবদ্ধ।
৫) যারা হীনমন্যতাবোধে ভোগে, তারা মনে করে যে এই ব্যবহার তার প্রাপ্য এবং এই অসুখী জীবন তার প্রাপ্য। আর কেও যদি এমন পরিবারে বেড়ে ওঠে, যেখানে অবহেলা করাটাই আদর্শ ছিল, তাহলে সে ও এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না।
৬) মনোবিজ্ঞানী লেভি বেকার বলেছেন, কর্মজীবনের পরিবর্তন, পরিবারের সদস্যের অসুস্থতা, সন্তানের জন্ম ইত্যাদি কারণে দম্পতিরা, নিজেদের সুখ ভোগের উপলব্ধি থেকে দূরে সরে যায় এবং একত্রিত ভাবে এই বাহ্যিক চাপ গুলির বিরুদ্ধে মোকাবিলা করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়। বিশেষত সন্তানের ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে, অনেক দম্পতিই নিজেদের ভালোবাসা পূরণের চাহিদাকে অপূর্ণ রাখে।
৭) গবেষণায় দেখা গেছে, অসুখী দম্পতিরা, বর্তমান সন্তুষ্টির ভিত্তিতে নয়, ভবিষ্যতে সন্তুষ্টির ভিত্তিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকে। কারণ তারা বিশ্বাস করে, সময়ের সাথে সাথে, সম্পর্কের মান আরো উন্নত হবে।
৮) গবেষণায় আরও দেখা গেছে, কিছু মানুষ সমাজের কাছে প্রমাণ করতে চায়, যে তারা সুখী এবং সমাজ কি বলবে বা তাদেরকে কি চোখে দেখবে, শুধু সেই কারণেই তারা একসাথে থাকতে চায়। বিবাহ বিচ্ছেদ কে বন্ধু, পরিবার-পরিজন এদের কাছে ছোট হয়ে যাওয়া, বা হেরে যাওয়া হিসেবে তারা দেখতে থাকে।

Post a Comment