মা-বোনকে পুলিশের আটকের কথা শুনে কিশোরের আত্মহত্যা!
ঢাকা প্রতিনিধি : মা ও বোনকে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে গেছে শুনে এক কিশোর আত্মহত্যা করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বাংলাদেশের চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ বাদামতলী এলাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে। নিহত কিশোরের নাম সালমান ইসলাম মারুফ (১৪)।
এ ঘটনায় জেলার ডবলমুরিং থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হেলাল খানকে ক্লোজড করা হয়েছে। ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সদীপ কুমার দাশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুলিশের এক সোর্সকে মারধরের ঘটনার জের ধরে সাদা পোশাকের একদল পুলিশ কিশোর মারুফকে আটক করতে অভিযান চালায়।
তাকে আটক করতে না পেরে তার মা ও বোনকে আটক করে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। এই খবর জানতে পেরেই চাচার বাসায় গিয়ে মারুফ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করে।ওসি আরও জানান, মারুফের মা-বোনকে আটক করা হয়নি। অভিযানের সময় মারুফের বোন অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে নিয়ে হাসপাতালে যায় পুলিশ। এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন এসআই হেলাল খান। তাকে ক্লোজড করা হয়েছে।
এসআই হেলাল জানান, পুলিশের এক সোর্সকে মারধরের ঘটনায় তিনি মারুফকে আটক করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু অভিযানের সময় তার মা ও বোন বাধা দেয় এবং একপর্যায়ে তার বোন অজ্ঞান হয়ে যায়। তাকে সুস্থ করতেই দ্রুত পার্শ্ববর্তী মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে তিনি জানতে পারেন মারুফ আত্মহত্যা করেছে।নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (পশ্চিম) এএএম হুমায়ুন কবির এ ব্যাপারে জানান, মারুফের আত্মহত্যার ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ মারুফের মরদেহ উদ্ধার করতে গেলে স্থানীয়রা বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানায়। তিনি সেখানে গিয়ে এসআই হেলাল খানকে ক্লোজড করার ঘোষণা দিলে স্থানীয়রা শান্ত হয়।এই ঘটনায় তদন্ত করে পুলিশের কোনো গাফিলতি আছে কি না খতিয়ে দেখা হবে বলেও তিনি জানান।উল্লেখ্য, আগ্রাবাদ বাদামতলী এলাকায় গলির ভেতরে অন্ধকারে অপরিচিত এক ব্যক্তিকে দেখতে পেয়ে চোর সন্দেহে মারধর করে কিশোর মারুফসহ স্থানীয় কয়েকজন। পরে ওই ব্যক্তি নিজেকে পুলিশের সোর্স পরিচয় দেয়।
কিছুক্ষণের মধ্যেই সাদা পোশাকের একদল পুলিশ মারুফসহ সোর্সের ওপর হামলাকারীদের আটক করতে অভিযান চালায়।এ সময় প্রথমে মারুফকে পুলিশ আটক করলে মারুফের মা ও বোন ছেলেকে ছাড়িয়ে নিতে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে। এক পর্যায়ে মারুফ পুলিশের কাছ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। কিন্তু পুলিশের হাতে আটক থাকে তার মা ও বোন।
কিছুক্ষণের মধ্যে পুলিশ মারুফের মা ও বোনকে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। মা ও বোনকে পুলিশ আটক করে নিয়ে গেছে শুনে মারুফ পার্শ্ববর্তী তার চাচার বাসায় গিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করে।

Post a Comment